শিরোনাম

হরমুজ নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত ইরানের, ফি দিয়েও চলতে পারবে না জাহাজ ইসরাইল বিজয় ছিনিয়ে আনতে জানে: ট্রাম্প এবার প্রেমিকের বিরুদ্ধে মামলার রাজসাক্ষী জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজ সাতক্ষীরায় খুকুমনির প্রেমের ফাঁদে ট্র্যাপিং গণধোলাইয়ে আটক এক টেকনাফ মেরিন ড্রাইভে যাত্রীবাহী প্রাইভেটকারে আ'গুন
ছবি: বিএমএফ টেলিভিশন।

স্কুলে ছুটির ঘন্টা, বাথরুমে আটকা পড়ে থাকলেন শিশু

বিকাল ৪ টা বিদ্যালয়ে ছুটির ঘন্টা পড়ে গেছে। বিদ্যালয়ে সকলে বের হয়ে গেলেও বাথরুমে আটকা পড়েন তৃতীয় শ্রেণীর সাদিয়া নামের এক  শিক্ষার্থী। ঘটনাটি মেহেরপুর শহরের বিএম মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।


আটকে থাকার কয়েক ঘন্টা পর পরিবার ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করা হয়। বুধবার হৃদয়বিদারক ও উদ্বেগজনক এঘটনা ঘটেছে। তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী সাদিয়া  স্কুল ছুটির পর বাথরুমে আটকা পড়ে দীর্ঘ সময় চিৎকার করেও কোনো সাড়া না পেয়ে প্রাণসংকটে পড়ে। সময় গড়াতে থাকলে শিশুটি ভয়ে কান্নাকাটি ও চিৎকার শুরু করে। তার সেই হৃদয়বিদারক চিৎকার স্কুলসংলগ্ন পথচারীদের কানে পৌঁছালে বিষয়টি সামনে আসে। এদিকে নির্ধারিত সময়েও বাড়িতে না ফেরায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন সাদিয়ার বাবা পুরাতন পোস্ট অফিস পাড়ার বাসিন্দা মনিরুল ইসলাম। খোঁজ নিতে এসে তিনিও স্থানীয়দের সঙ্গে যুক্ত হন। পরে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় বিদ্যালয়ের মূল ফটক খুলে ভেতরে প্রবেশ করা হয়। কিন্তু বিদ্যালয় ভবনের কলাপসিবল  দরজা ভেঙে বা খুলে শিশুটিকে বের করা সম্ভব না হওয়ায়, স্থানীয়রা এক পর্যায়ে স্কুলের এক শিক্ষিকাকে ডেকে আনেন। প্রায় এক ঘণ্টা উৎকণ্ঠার পর শিক্ষিকা লিনা ভট্টাচার্যের উপস্থিতিতে অবশেষে সাদিয়াকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় শিশুটি ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় ছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।


দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরা স্কুল ভবন ও মূল ফটকে তালা দিয়ে চলে যাওয়ার ফলে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) বিকাল প্রায় চারটার দিকে স্কুল ছুটি হলে শিক্ষকরা যথারীতি বিদ্যালয় ত্যাগ করেন। ওই সময় বাথরুমে থাকা সাদিয়া তালাবদ্ধ অবস্থায় ভেতরেই আটকা পড়ে যায়। 


ঘটনাটি রাত সাড়ে এগারোটার দিকে জানাজানি হলে গণমাধ্যমকর্মীরা বিদ্যালয়ের অফিসিয়াল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। তবে বিষয়টি জানতে চাইলে ফোন কেটে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে আরো কয়েকজন গণমাধ্যম কর্মী মোবাইল নম্বরটিতে কল দিলেও,  আর কোনো কল রিসিভ করা হয়নি। এতে করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে আরও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।


পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় রাত প্রায় বারোটার দিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন মেহেরপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খায়রুল ইসলাম। তিনি স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার প্রাথমিক তথ্য নেন এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও সাড়া পাননি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খায়রুল ইসলাম বলেন, মেয়েটি সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার হয়েছে, এটাই স্বস্তির বিষয়। তবে ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে। বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে শিক্ষক ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলা হবে।'

বিনোদন

ছবি: সংগৃহীত।

এবার প্রেমিকের বিরুদ্ধে মামলার রাজসাক্ষী জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজ

বহুল আলোচিত ২০০ কোটি রুপির আর্থিক জালিয়াতি মামলায় জেলে আছেন সুকেশ চন্দ্রশেখর। দীর্ঘদিন ধরে চলা এ আলোচিত মামলায় এবার আদালতে গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য দিতে পারেন প্রেমিকা অভিনেত্রী জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজ। এর ফলে মামলার গতিপথে বড় পরিবর্তন আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

অথচ গ্রেফতারের পর থেকেই নানাভাবে জ্যাকুলিনের প্রতি নিজের ভালোবাসা প্রকাশ করে আসছেন সুকেশ চন্দ্রশেখর। চিঠি লিখে তিনি দাবি করেছিলেন, তাদের মধ্যে সম্পর্ক ছিল এবং অভিনেত্রী তার কাছ থেকে কোনো আর্থিক সুবিধা চাননি—শুধু ভালোবাসাই চেয়েছেন।

সুকেশ চন্দ্রশেখরের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজের জীবন কেবল যাতনাময়, তা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন তিনি। প্রেমিকের জন্য থানা-পুলিশ, আদালত অবধি দৌড়াতে হয়েছে অভিনেত্রীকে। প্রেমের টানে কোটি টাকার আর্থিক প্রতারণা মামলায় বিতর্কে জড়িয়ে বলিউডের শক্ত পায়ের তলার মাটিও খোয়াতে বসেছেন জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজ!

অথচ জ্যাকুলিনের মন পেতে সুকেশ চন্দ্রশেখর ‘প্রেম যে কাঁঠালের আঠা লাগলে ছাড়ে না’- গানের মতোই আঠা হয়ে লেগে আছেন। বর্তমানে সুকেশ একাধিক জালিয়াতির মামলায় দিল্লির মান্ডোলি জেলে বন্দি রয়েছেন। জেলে বসেই প্রায় প্রতিটি বিশেষ দিনে তিনি জ্যাকুলিনকে উদ্দেশ্য করে চিঠি লিখে আসছেন। দিয়ে যাচ্ছেন হেলিকপ্টারসহ দামি উপহার। তাতেও মন গলেনি প্রেমিকার। সর্বশেষ ভালোবাসা দিবসেও তিনি নিজেদের ভালোবাসাকে রোমিও-জুলিয়েট, হির-রাঞ্জা এবং লাইলি-মজনুর মতো কালজয়ী প্রেমের সঙ্গে তুলনা করেছেন। সুকেশের দাবি—কোনো কিছুই তাদের এই বন্ধন ভাঙতে পারবে না। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবসে খোলা চিঠিতে সুকেশ জ্যাকুলিনকে ‘বেবি বোম্মা’ বলেও সম্বোধন করেন।

একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চিঠিতে সুকেশ লিখেছেন— ‘লোহার গরাদ আর এই ঠান্ডা দেয়াল আমাদের আলাদা করে রেখেছে। মরুভূমিতে হারিয়ে যাওয়া কোনো মানুষের মতো আমি তোমাকে প্রতি মুহূর্তে মিস করছি। আজ আমার প্রতিটি হৃদস্পন্দন আমাদের মধ্যবর্তী দূরত্বের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে।’ 

সুকেশ বলেন, জ্যাকুলিন ও তার পরিবারের জন্য দেওয়া সব উপহারই তিনি স্বেচ্ছায় দিয়েছেন। এমনকি এ মামলায় জ্যাকুলিনের নাম জড়ানোকে তিনি ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলেও উল্লেখ করেন। এবার জ্যাকুলিনের জন্য তিনি একটি বিশেষ সারপ্রাইজ উপহারের ব্যবস্থা করেছেন। সেটি হলো— একটি ‘এয়ারবাস এইচ সিরিজ’ লাক্সারি হেলিকপ্টার। 

সুকেশ এর আগে কোটি কোটি টাকার বাড়ি-গাড়ি উপহার তো দিয়েছেনই। জিজ্ঞাসাবাদে সেসব বিলাসী উপহারের কথা অভিনেত্রীও স্বীকার করেছেন। এবার সেই প্রেমিকাই তার বিরুদ্ধে মামলার রাজসাক্ষী হতে যাচ্ছেন। এখন দেখার বিষয়—আদালতে দাঁড়িয়ে সুকেশকে নিয়ে কী ধরনের বক্তব্য দেন জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজ। তার সাক্ষ্যই নির্ধারণ করতে পারে এই বহুল আলোচিত মামলার পরবর্তী দিকনির্দেশনা।


 

খেলা

ছবি: সংগৃহীত।

হামজা-জামালদের কোচ হওয়ার দৌড়ে আছেন যারা

জাতীয় ফুটবল দলের কোচ হতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ইউরোপ ও আফ্রিকার অনেকে। জার্মানির অভিজ্ঞ কোচ অ্যান্টোইন হে ছাড়াও ফ্রান্স, পর্তুগাল ও রুমানিয়ার কোচের আবেদন এসেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনে (বাফুফে)। জানা গেছে, হামজা চৌধুরী, জামাল ভূঁইয়াদের দায়িত্ব নিতে সাত থেকে আটজন বিদেশি কোচের সিভি জমা পড়েছে বাফুফেতে। 

সূত্রমতে, স্থানীয় দুই কোচ মারুফুল হক ও জুলফিকার মাহমুদ মিন্টুও কোচ হতে আগ্রহী। যদিও মারুফুল জানিয়েছেন, তিনি আবেদন করেননি। বাফুফের নির্বাহী কমিটির সভায় জাতীয় দলের নতুন কোচ নিয়োগের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা।

বাফুফে সূত্রে জানা গেছে, ইউরোপ, দক্ষিণ আমেরিকা এবং এশিয়ার বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞ কোচরা আবেদন করেছেন। আবেদনকারীদের মধ্যে এমন কোচও আছেন, যাদের জাতীয় দল কিংবা শীর্ষ ক্লাব পর্যায়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। এর মধ্যে অনেকেই ফিফা ও এএফসি স্বীকৃত উচ্চমানের কোচিং লাইসেন্সধারী। 

হামজা, শমিতদের কোচ হতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন অভিজ্ঞ জার্মান কোচ অ্যান্টোইন হে। উয়েফা প্রো-লাইসেন্সধারী কোচ তিনি। যার এশিয়া ও আফ্রিকার ফুটবলে দীর্ঘ দুই দশক কোচিং করানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে। মিয়ানমার, রুয়ান্ডা, কেনিয়া, লাইবেরিয়া, গাম্বিয়া এবং লেসোথো জাতীয় দলের প্রধান কোচ ছিলেন তিনি। বাহরাইন ও লিবিয়া ফুটবল ফেডারেশনে টেকনিক্যাল ডিরেক্টর হিসাবেও তার কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। খেলোয়াড়ি জীবনে তিনি জার্মান বুন্দেসলিগার শালকে ০৪ ও ফরচুনা ডুসেলডর্ফের মতো বড় ক্লাবে খেলেছেন।

আরেক জার্মান কোচ বার্ন্ড স্টর্কও আবেদন করেছেন। হাঙ্গেরিকে ইউরো ২০১৬তে নিয়ে যাওয়া এই অভিজ্ঞ কোচ এর আগে কাজাখস্তান জাতীয় দল ও বেলজিয়ামের ক্লাব সের্কেল ব্রুজে কাজ করেছেন। বাংলাদেশের দায়িত্ব নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ক্রোয়েশিয়া জাতীয় দলের সাবেক কোচ ইগোর স্টিমাচও। ৫৮ বছর বয়সি এই কোচের ক্রোয়েশিয়া ছাড়াও ভারতের জাতীয় দল ও বয়সভিত্তিক দল সামলানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে। ২০২১ ও ২০২৩ সালের সাফজয়ী ভারতের কোচ ছিলেন তিনি। 

সূত্রে আরও জানা গেছে, কোচ হতে আবেদন করেছেন ফরাসি দিদিয়ের অলে নিকোলও। ফরাসি ক্লাব ওজিসি নিসের দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে ৬৫ বছর বয়সি এই কোচের। ২০২১-২২ মৌসুমে পিএসজির নারী দলের দায়িত্ব সামলেছেন। তার ক্যারিয়ারে কোচিং করানো একমাত্র জাতীয় দল বেনিন (২০১৪)। আবেদনের তালিকায় রয়েছেন পর্তুগিজ কোচ অ্যান্টোনিও কন্সেইসাও।