শিরোনাম

নিজেকে আধুনিক ও আপডেটেড রেখে জনগণের সেবা করতে হবে: আইজিপি ৫ বিভাগে কালবৈশাখীর সতর্কতা জারি আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় আজ বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার হজে না যেতে মার্কিন নাগরিকদের সতর্কবার্তা
ছবি: সংগৃহীত।

আ.লীগ সরকার পতনের দিন বঙ্গভবনে কী ঘটেছিল, জানালেন রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আন্দোলনটা জনবিস্ফোরণে রূপ নেয়। সেদিন কেউই আঁচ করতে পারেনি যে কী হতে চলেছে। সম্প্রতি বঙ্গভবনে নিজ কার্যালয়ে বেসরকারি একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি সেই দিনের স্মৃতিচারণা করেন।


রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘যখন বিক্ষোভকারীরা গণভবন অভিমুখে, তখন আমাকে জানানো হলো, যেকোনো মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গভবনে আসবেন। ১২টার সময় আমাকে জানানো হলো, উনি প্রস্তুতি নিচ্ছেন বঙ্গভবনে আসার। এর আগে আমরা আঁচই করতে পারিনি যে আসলে ঘটনা কী ঘটতে যাচ্ছে। তবে উনি যখন এখানে আসবেন বলছেন এবং হেলিকপ্টারও রেডি, তখন আমরা ঘটনার ভয়াবহতা সম্পর্কে ধারণা করতে পারি।’


‘এখানে সিকিউরিটি যারা ছিল, সবাই পজিশন নিয়ে নিল। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জানানো হলো, না, উনি আসছেন না। আসছেন না যখন জেনেছি, তখন আমরাও সতর্ক ছিলাম। কিছুক্ষণ পরেই শুনলাম, উনি দেশ ছেড়েছেন। একসময় জানতে পারলাম, উনি অলরেডি দেশের বাইরে চলে গেছেন। সব মিলিয়ে ৩০ থেকে ৪০ মিনিটের মধ্যে সামগ্রিক ঘটনাপ্রবাহের খুব দ্রুত পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছিলাম।’


রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, ‘সেদিন বিকেল ৩টার দিকে প্রথমে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান আমাকে টেলিফোনে সব ঘটনা অবহিত করেন। সশস্ত্র বিভাগ থেকেও আমাকে জানানো হয়। পরে জানানো হলো, ওয়াকার সাহেব সাংবাদিকদের সামনে সম্পূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ে একটা ব্রিফিং দেবেন।’


‘উনি ব্রিফিং দিলেন, আমরা টেলিভিশনে দেখলাম। উনি বললেন, প্রধানমন্ত্রী দেশত্যাগ করেছেন। তো দেশবাসী আশ্বস্ত হলো যে উনি অলরেডি দেশান্তরী হয়েছেন। তারপর আমাকে সেনাপ্রধান ফোন করে জানালেন যে তারা আসছেন। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী প্রধান—তিনজনই বঙ্গভবনে এলেন। এসে আমার সঙ্গে উদ্ভূত সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনায় বসলেন।’
‘তখন আমাদের প্রায় কিংকর্তব্যবিমূঢ় অবস্থা। কী করা যায়, কিভাবে কী হবে—এসব নিয়ে আমরা আলোচনা করলাম প্রায় দুই থেকে তিন ঘণ্টা। সিদ্ধান্ত হলো, সব রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে ডাকা হবে। এই কাজে সেনাবাহিনীর টিম নিযুক্ত ছিল। তারপর উনারা চলে গেলেন। সেনা সদরে দেশের রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে একত্র করা হলো। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের মধ্যেও কেউ কেউ ছিল। তখন যাদের পাওয়া গেছে, তাদেরকে নিয়েই আবার তারা বঙ্গভবনে আসেন। আমরা আবার বৈঠকে বসি।’


‘বঙ্গভবনের এই বৈঠকে আমরা দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতার বিষয়টি সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছি। কিভাবে, কোন ধরনের সিদ্ধান্ত নিলে দেশের মানুষকে স্বস্তি ফিরিয়ে দেওয়া যায়, সে বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনার আয়োজন হয়। আমার সভাপতিত্বে সভা হলো। সেনাপ্রধান সঞ্চালনা করলেন। সেখানে তিনি পুরো পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিলেন।’


রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘সেই বৈঠকে সম্মিলিতভাবে কয়েকটি প্রস্তাব আসে। বিশেষ করে, মূল তিনটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। এগুলো হলো—তত্ত্বাবধায়ক সরকার, সর্বদলীয় বা জাতীয় সরকার এবং অন্তর্বর্তী সরকার। যে নামেই ডাকা হোক না কেন, লক্ষ্য-উদ্দেশ্য থাকবে অভিন্ন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার বললে হয়তো ওয়ান-ইলেভেনের মতো শোনায়। আবার সর্বদলীয় বা জাতীয় সরকার বললে দীর্ঘমেয়াদি সরকারও হয়ে যেতে পারে। তো, নানা বিবেচনায় আমাদের বিজ্ঞ রাজনীতিবিদরা সিদ্ধান্ত নেন যে অন্তর্বর্তী সরকারই গঠন করা উচিত।’


‘এই সিদ্ধান্ত হলো আর আমার ওপর দায়িত্ব পড়ল জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে জাতিকে আশ্বস্ত করার। আর তারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সব ঠিক করবেন সরকারের গঠন প্রণালীটা। এই সিদ্ধান্ত হওয়ার পর প্রফেসর আসিফ নজরুল সাংবাদিকদের কাছে পরিস্থিতির অগ্রগতি তুলে ধরেন। আমাকে ভাষণ দিতে হলো রাত ১১টার সময়। আর অন্তর্বর্তী সরকার গঠন প্রক্রিয়া তাদের হাতে ছেড়ে দেওয়া হলো। সেনাবাহিনী এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ আলাপ করে এটা করবেন। সেনাবাহিনী থাকবে, সহায়তা করবে সব কিছুতে।’
সূত্র : কালের কণ্ঠ।
 

বিনোদন

ছবি: সংগৃহীত।

মুক্তি পাচ্ছেন জ্যাকুলিনের প্রেমিক সুকেশ

২০০ কোটি টাকার আর্থিক জালিয়াতি, বিলাসবহুল উপহার আর জেলের ভেতর থেকে প্রেমিকার জন্য চিঠি কোনো সিনেমার গল্প নয়, বলছি সুকেশ চন্দ্রশেখর এবং বলিউড ডিভা জ্যাকুলিন ফার্নান্ডেজের কথা। দীর্ঘদিন ধরে জেলে বন্দি থাকা এই আলোচিত প্রেমিক সুকেশ চন্দ্রশেখর অবশেষে একটি মামলায় জামিন পেয়েছেন। তাহলে কি এবার জেলের বাইরে এসে জ্যাকুলিনের সঙ্গে দেখা হচ্ছে তার?

দিল্লির আদালত অবশেষে ২০০ কোটি টাকার জালিয়াতি মামলায় জামিন মঞ্জুর করল সুকেশ চন্দ্রশেখরের। ৫ লাখ টাকার ব্যক্তিগত বন্ডের বিনিময়ে এই জামিন দেওয়া হয়েছে। আদালতের যুক্তি, বিচার চলাকালীন দীর্ঘ সময় আটকে রাখা নাগরিক অধিকারের লঙ্ঘন।

তবে এখনই জেলের অন্ধকার প্রকোষ্ঠ থেকে মুক্তি মিলছে না এই মহা-প্রতারকের। কারণ, তার বিরুদ্ধে এখনো ৩১টি ফৌজদারি মামলা ঝুলছে, যার মধ্যে ৫টিতে এখনো বিচার ও আটকাদেশ বহাল রয়েছে।

অন্যদিকে, এই চক্রের 'শিকার' দাবি করে নিজেকে মামলা থেকে সরিয়ে নেওয়ার আবেদন করেছিলেন প্রেমিকা জ্যাকুলিন ফার্নান্ডেজ। কিন্তু দিল্লি হাইকোর্ট তা খারিজ করে দিয়েছে। কোটি টাকার প্রতারণা আর বলিউডি গ্ল্যামারের এই ককটেল শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে থামে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।


 

খেলা

ছবি: সংগৃহীত।

৭০ মিলিয়নের প্রস্তাব ফিরিয়ে রিয়ালে যাচ্ছেন আর্জেন্টাইন তরুণ

রিয়াল মাদ্রিদের একাডেমি থেকে উঠে আসা আর্জেন্টাইন তরুণ নিকো পাজ আবারও ফিরতে যাচ্ছেন তার পুরোনো ক্লাবে। ২০২৪ সালের গ্রীষ্মে একাডেমি থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন। মাত্র ৬ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে তাকে ইতালির সিরি আ ক্লাব কোমোতে পাঠিয়ে দিয়েছিল লস ব্লাঙ্কোস।

ইতালির ক্লাবটিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে চলছেন নিকো। এখন পর্যন্ত ক্লাবের জার্সিতে ৬৮ ম্যাচ খেলে করেছেন ১৭ গোল। সেই সঙ্গে রেখে দিয়েছিল একটি স্মার্ট বাই-ব্যাক ক্লজ। যা এখন তাদের হাতে শক্তিশালী অস্ত্র হয়ে উঠেছে।

দুই বছরেরও কম সময়ে নিকো পাজ কোমোর জার্সিতে নিজেকে একেবারে বদলে দিয়েছেন। সিরি আ-তে এখন পর্যন্ত প্রায় ৬৮ ম্যাচ খেলে তিনি গোল করেছেন ১৭টি (সাম্প্রতিক মৌসুমে একা ১০ গোল ও ৬ অ্যাসিস্ট)। কোমোর অ্যাটাকিং মিডফিল্ডে তিনি এখন অপরিহার্য। ইতালিয়ান লিগে তার পারফরম্যান্স দেখে অনেক বড় ক্লাবের চোখ পড়েছে, কিন্তু নিকোর মন পড়ে আছে বার্নাব্যুতে।

রিয়াল মাদ্রিদও বিষয়টি নজরে রেখেছে। ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের নেতৃত্বে ক্লাব এখন গ্রীষ্মের দলবদলে নিকোকে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা প্রায় চূড়ান্ত করেছে। ২০২৪ সালের চুক্তিতে রাখা বাই-ব্যাক ক্লজ অনুসারে এবার মাত্র ৯ মিলিয়ন ইউরো দিয়েই তাকে ফেরত আনা সম্ভব। এটিকে স্প্যানিশ মিডিয়ায় অনেকে বলছেন ‘ডিল অফ দ্য সেঞ্চুরি’। কারণ বর্তমান বাজারে নিকোর মূল্য ৬০-৬৫ মিলিয়ন ইউরোর কাছাকাছি।

কোমো অবশ্য চায় নিকো আরও এক মৌসুম তাদের সঙ্গে থাকুক। ক্লাবের স্পোর্টিং ডিরেক্টর কার্লালবের্তো লুদি সম্প্রতি সাক্ষাৎকারে বলেছেন, এখনও সম্ভাবনা আছে যে পাজ থেকে যাবেন। কিন্তু রিয়ালের অবস্থান স্পষ্ট, তারা নিকোকে আগামী মৌসুমের পরিকল্পনায় রেখেছে। খেলোয়াড় নিজে যদি রিয়ালে ফিরতে না চান, তাহলে সমস্যা হতে পারে; কিন্তু সেই সম্ভাবনা খুবই কম। গত গ্রীষ্মে টটেনহামের ৭০ মিলিয়ন ইউরোর প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন নিকো, শুধুমাত্র মাদ্রিদে ফেরার স্বপ্নে।

রিয়ালের মিডফিল্ডে চুয়ামেনি, ভালভের্দে, গুলের ও পিটার্সের মতো প্রতিভাবান খেলোয়াড় থাকায় গেইম টাইম নিয়ে কিছুটা প্রশ্ন উঠতে পারে। তবে নিকোর বয়স মাত্র ২১। ক্লাব মনে করে, তিনি ধাপে ধাপে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারবেন। আর নিকো নিজেও রিয়ালের হয়ে ভবিষ্যৎ গড়ার অপেক্ষায় আছেন।

সবকিছু ঠিক থাকলে এই গ্রীষ্মেই ৯ মিলিয়ন ইউরোর বাই-ব্যাক ক্লজ সক্রিয় করে নিকো পাজকে বার্নাব্যুতে ফিরিয়ে আনবে রিয়াল মাদ্রিদ।