শিরোনাম

আর্জেন্টিনা-স্পেন মতবিরোধে অনিশ্চিত ফিনালিসিমা আগামী ৫ দিন বিভিন্ন জেলায় দমকা হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলার ভাশাটি গ্রামের জামে মসজিদে অনুদান প্রদান আজ ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানি কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী মুকসুদপুর রিপোর্টার্স ইউনিটির উদ্যোগে ঈদ উপহার বিতরণ
ছবি: সংগৃহীত।

আ.লীগ সরকার পতনের দিন বঙ্গভবনে কী ঘটেছিল, জানালেন রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আন্দোলনটা জনবিস্ফোরণে রূপ নেয়। সেদিন কেউই আঁচ করতে পারেনি যে কী হতে চলেছে। সম্প্রতি বঙ্গভবনে নিজ কার্যালয়ে বেসরকারি একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি সেই দিনের স্মৃতিচারণা করেন।


রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘যখন বিক্ষোভকারীরা গণভবন অভিমুখে, তখন আমাকে জানানো হলো, যেকোনো মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গভবনে আসবেন। ১২টার সময় আমাকে জানানো হলো, উনি প্রস্তুতি নিচ্ছেন বঙ্গভবনে আসার। এর আগে আমরা আঁচই করতে পারিনি যে আসলে ঘটনা কী ঘটতে যাচ্ছে। তবে উনি যখন এখানে আসবেন বলছেন এবং হেলিকপ্টারও রেডি, তখন আমরা ঘটনার ভয়াবহতা সম্পর্কে ধারণা করতে পারি।’


‘এখানে সিকিউরিটি যারা ছিল, সবাই পজিশন নিয়ে নিল। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জানানো হলো, না, উনি আসছেন না। আসছেন না যখন জেনেছি, তখন আমরাও সতর্ক ছিলাম। কিছুক্ষণ পরেই শুনলাম, উনি দেশ ছেড়েছেন। একসময় জানতে পারলাম, উনি অলরেডি দেশের বাইরে চলে গেছেন। সব মিলিয়ে ৩০ থেকে ৪০ মিনিটের মধ্যে সামগ্রিক ঘটনাপ্রবাহের খুব দ্রুত পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছিলাম।’


রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, ‘সেদিন বিকেল ৩টার দিকে প্রথমে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান আমাকে টেলিফোনে সব ঘটনা অবহিত করেন। সশস্ত্র বিভাগ থেকেও আমাকে জানানো হয়। পরে জানানো হলো, ওয়াকার সাহেব সাংবাদিকদের সামনে সম্পূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ে একটা ব্রিফিং দেবেন।’


‘উনি ব্রিফিং দিলেন, আমরা টেলিভিশনে দেখলাম। উনি বললেন, প্রধানমন্ত্রী দেশত্যাগ করেছেন। তো দেশবাসী আশ্বস্ত হলো যে উনি অলরেডি দেশান্তরী হয়েছেন। তারপর আমাকে সেনাপ্রধান ফোন করে জানালেন যে তারা আসছেন। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী প্রধান—তিনজনই বঙ্গভবনে এলেন। এসে আমার সঙ্গে উদ্ভূত সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনায় বসলেন।’
‘তখন আমাদের প্রায় কিংকর্তব্যবিমূঢ় অবস্থা। কী করা যায়, কিভাবে কী হবে—এসব নিয়ে আমরা আলোচনা করলাম প্রায় দুই থেকে তিন ঘণ্টা। সিদ্ধান্ত হলো, সব রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে ডাকা হবে। এই কাজে সেনাবাহিনীর টিম নিযুক্ত ছিল। তারপর উনারা চলে গেলেন। সেনা সদরে দেশের রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে একত্র করা হলো। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের মধ্যেও কেউ কেউ ছিল। তখন যাদের পাওয়া গেছে, তাদেরকে নিয়েই আবার তারা বঙ্গভবনে আসেন। আমরা আবার বৈঠকে বসি।’


‘বঙ্গভবনের এই বৈঠকে আমরা দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতার বিষয়টি সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছি। কিভাবে, কোন ধরনের সিদ্ধান্ত নিলে দেশের মানুষকে স্বস্তি ফিরিয়ে দেওয়া যায়, সে বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনার আয়োজন হয়। আমার সভাপতিত্বে সভা হলো। সেনাপ্রধান সঞ্চালনা করলেন। সেখানে তিনি পুরো পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিলেন।’


রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘সেই বৈঠকে সম্মিলিতভাবে কয়েকটি প্রস্তাব আসে। বিশেষ করে, মূল তিনটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। এগুলো হলো—তত্ত্বাবধায়ক সরকার, সর্বদলীয় বা জাতীয় সরকার এবং অন্তর্বর্তী সরকার। যে নামেই ডাকা হোক না কেন, লক্ষ্য-উদ্দেশ্য থাকবে অভিন্ন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার বললে হয়তো ওয়ান-ইলেভেনের মতো শোনায়। আবার সর্বদলীয় বা জাতীয় সরকার বললে দীর্ঘমেয়াদি সরকারও হয়ে যেতে পারে। তো, নানা বিবেচনায় আমাদের বিজ্ঞ রাজনীতিবিদরা সিদ্ধান্ত নেন যে অন্তর্বর্তী সরকারই গঠন করা উচিত।’


‘এই সিদ্ধান্ত হলো আর আমার ওপর দায়িত্ব পড়ল জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে জাতিকে আশ্বস্ত করার। আর তারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সব ঠিক করবেন সরকারের গঠন প্রণালীটা। এই সিদ্ধান্ত হওয়ার পর প্রফেসর আসিফ নজরুল সাংবাদিকদের কাছে পরিস্থিতির অগ্রগতি তুলে ধরেন। আমাকে ভাষণ দিতে হলো রাত ১১টার সময়। আর অন্তর্বর্তী সরকার গঠন প্রক্রিয়া তাদের হাতে ছেড়ে দেওয়া হলো। সেনাবাহিনী এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ আলাপ করে এটা করবেন। সেনাবাহিনী থাকবে, সহায়তা করবে সব কিছুতে।’
সূত্র : কালের কণ্ঠ।
 

বিনোদন

ছবি: সংগৃহীত।

সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ে ভাবার সময় এসেছে: আমির খান

বলিউড সিনেমা ‘পিকে’, ‘তারে জমিন পর’, ‘দঙ্গল’ এবং ‘থ্রি ইডিয়টস’-এ সামাজিক বা মনস্তাত্ত্বিক সচেতনতামূলক বার্তা দিয়েছেন সুপারস্টার আমির খান।

এবার বাস্তব জীবনের এক রূঢ় সত্য নিয়ে মুখ খুললেন অভিনেতা। অভিনেতা।

সম্প্রতি মুম্বাইয়ে আয়োজিত ‘লোকমত মহারাষ্ট্রিয়ান অফ দ্য ইয়ার’ অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে তিনি বর্তমান প্রজন্মের ডিজিটাল অভ্যাস ও এর নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন।

নিজের দৈনন্দিন অভ্যাসের পরিবর্তন নিয়ে আক্ষেপ করে আমির খান বলেন, ‘আগে আমি সপ্তাহে অন্তত দু-তিনটি বই পড়তাম। শুটিংয়ে যাওয়ার পথে কিংবা সকালের নাস্তার টেবিলে ব্যস্ততার মাঝেও পড়ার অভ্যাস ছিল। কিন্তু এখন আমি হয় ইউটিউবে সময় নষ্ট করছি, না হয় ইনস্টাগ্রাম রিল দেখছি! সোশ্যাল মিডিয়া এত বেশি ঘাঁটা উচিত নয় জেনেও আমি সেই ফাঁদে পা দিচ্ছি।’

তার কথায়, ‘অ্যালগরিদম আপনার পছন্দ অনুযায়ী সব আকর্ষণীয় ভিডিও সামনে নিয়ে আসে। আর আপনিও সেই মোহে হারিয়ে যান। এটা অনেকটা মানুষকে সম্মোহন করার মতো।’

‘আমি সোশ্যাল মিডিয়ার বিরুদ্ধে নই কিন্তু এখন এটি নিয়ে ভাবার সময় এসেছে। বিশ্বের অনেক দেশই শিশুদের সুরক্ষায় ডিজিটাল মাধ্যম নিয়ে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। কারণ, এভাবে শিশুমন ও মস্তিষ্ক দূষিত হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘অপরাধ বা দুর্নীতি কেবল আমাদের দেশের সমস্যা নয়, এটি মনস্তত্ত্বের একটি স্তর। দুর্নীতি শুধু টাকা-পয়সার হয় না, বরং চিন্তা ও মানসিকতারও হয়। যেমনটা আমরা ইদানীং এপস্টেইন ফাইলস নিয়ে জানতে পারছি।’

খেলা

ছবি: সংগৃহীত।

আর্জেন্টিনা-স্পেন মতবিরোধে অনিশ্চিত ফিনালিসিমা

ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার চ্যাম্পিয়নদের লড়াই ‘ফিনালিসিমা’ ম্যাচটি অনিশ্চয়তায় পড়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আর্জেন্টিনা ও স্পেন ভেন্যু নিয়ে একমত হতে না পারায় ম্যাচটি বাতিল বা পিছিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রথমে ম্যাচটি কাতারের দোহায় আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল। তবে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে আয়োজকরা বিকল্প ভেন্যুর খোঁজ শুরু করেন। পরে ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা উয়েফা ও দক্ষিণ আমেরিকার সংস্থা কনমেবল ম্যাচটি মাদ্রিদের সান্তিয়াগো বার্নাব্যু স্টেডিয়ামে আয়োজনের প্রস্তাব দেয়। এ প্রস্তাবে স্পেনের ফুটবল ফেডারেশন ও রিয়াল মাদ্রিদের সমর্থনও ছিল।

কিন্তু আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এ পরিকল্পনা নাকচ করে দিয়েছে। সংস্থাটির সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া স্প্যানিশ গণমাধ্যমকে জানান, তিনি ম্যাচটি বুয়েনোস আইরেসের মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে আয়োজন করতে চান। তার মতে, স্পেনে ম্যাচ হলে স্বাগতিকরা বাড়তি সুবিধা পাবে।

তাপিয়া বলেন, স্পেন চায় ম্যাচটি তাদের দেশেই হোক, আর তিনি চান এটি মনুমেন্টালে অনুষ্ঠিত হোক।

বর্তমানে তিনটি বিকল্প নিয়ে আলোচনা চলছে —বার্নাব্যুতে ম্যাচ আয়োজন, লিসবন বা রোমের মতো অন্য কোনো শহরে সরিয়ে নেওয়া, অথবা ম্যাচটি পরবর্তী কোনো তারিখে স্থগিত করা। তবে এত অল্প সময়ের মধ্যে ফাঁকা স্টেডিয়াম পাওয়া কঠিন হওয়ায় ম্যাচ পিছিয়ে দেওয়ার সম্ভাবনাই বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে স্প্যানিশ গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্পেন ফুটবল ফেডারেশনের ভেতরে এমন ধারণাও রয়েছে যে আর্জেন্টিনা এই ম্যাচটি খেলতে খুব একটা আগ্রহী নয়।

স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে বিশ্বকাপের আগে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে চান। কিন্তু মিশরের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচটি হবে কি-না, সেটিও এখন অনিশ্চিত।

এই কারণে মার্চের আন্তর্জাতিক বিরতিতে ফাইনালিসিমা না হলে বিকল্প হিসেবে নতুন দুই প্রতিপক্ষ খুঁজছে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন।