শিরোনাম

রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী অলি আহমদের মনোনয়নপত্র বৈধ যুক্তরাষ্ট্রকে এবার পারমাণবিক অস্ত্রের হুমকি দিলেন ইরানি ধর্মীয় নেতা! লেবাননে হিজবুল্লাহর দুই কমান্ডারকে হত্যার দাবি ইসরাইলের পাকিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ১০ সন্ত্রাসী নিহত অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়
ছবি: বিএমএফ টেলিভিশন।

লন্ডনে ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশন ইউকের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক প্রতিবাদ সমাবেশ

ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশন ইউকের উদ্যোগে মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় পূর্ব লন্ডনের ঐতিহাসিক আলতাব আলী পার্কে এক আন্তর্জাতিক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্প্রতি সংঘটিত রামিসা হত্যা, নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ, সাংবাদিক নির্যাতন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিভিন্ন ঘটনার প্রতিবাদে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

সংগঠনের সভাপতি আশিকুল ইসলাম আশিকের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক লাভলু লস্কর , ড. আজিজুল আম্বিয়া ও জাকির হোসেন সেলিমের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিবিসির সাবেক সাংবাদিক শামীম চৌধুরী। তিনি বলেন, একটি সভ্য ও গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য মানবাধিকার, আইনের শাসন এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি দেশে চলমান সহিংসতা, নারী নির্যাতন, সাংবাদিকদের ওপর হামলা এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।

বক্তারা বলেন, রামিসা হত্যাকাণ্ডসহ সাম্প্রতিক বিভিন্ন নৃশংস ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

এ সময় বক্তব্য রাখেন মানবাধিকার কর্মী আব্দুল আহাদ চৌধুরী, আ.স.ম. মিসবা, মুজিবুল হক মনি, নাজমিন সুলতানা শিখা, মোহন মিয়া, আব্দুল কুদ্দুস, জহিরুল ইসলাম, হুমায়ুন কবীর, জামাল আহমদ, আংগুর আলী, জাকির হোসেন সেলিম, ফয়সল আহমদ,  আব্দুল হেলাল চৌধুরী সেলিম, মতব্বির হোসেন চুনু, হুমায়ুন কবির, আব্দুল জলিল চৌধুরী, আব্দুর রব, ছইল মিয়া, রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি অধ্যক্ষ সাহেদ রহমান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বাছির, অ্যাডভোকেট বজলুর রশীদ, মুফতি আব্দুল ওদুদ, মুজিবুল হক মুজিব, ইমদাদুন খানম, জেসিকা চৌধুরী, রিপা আক্তার, শাহ লাভলী রহমান, জামিলা খানম, সাগর চৌধুরী মোহন, ময়না মিয়া, মকবুল হোসেন, নিজাম উদ্দিন, আব্দুস সাত্তার, নুরুল হক, মোহাম্মদ রুনু, সৈয়দ গোলাব মিয়া, আবুল হোসেন, একলিম মিয়া, নাজমুল হোসেন, জুবেল আহমদ বেলাল, শরীফ আলম, মো. গিয়াস উদ্দিন সোহাগ, সেলিম আহমেদ, রুমেল খান, মাসুম বিল্লাহ, আব্দুল হকসহ আরও অনেকে।

সমাবেশ শেষে বক্তারা বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার রক্ষা, বৈষম্য ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ জনমত গড়ে তোলা এবং গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তারা সকল ধরনের হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

বিনোদন

ছবি: সংগৃহীত।

মিথ্যা ভান করার চেয়ে সত্যকে বেছে নেওয়া জরুরি: প্রভা

বিনোদন জগতের জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাদিয়া জাহান প্রভা দীর্ঘদিন ধরেই দাপটের সঙ্গে অভিনয় করে যাচ্ছেন। এর পাশাপাশি প্রতিনিয়তই নিজের নানা অনুভূতির কথা সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের মধ্যে শেয়ার করে নেন। তার এসব পোস্টে জীবনের নানা অভিজ্ঞতা ও বাস্তবতা তুলে ধরেন তিনি। নজর কাড়েন নেটিজেনসহ ভক্ত-অনুরাগীদের।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) নিজের ফেসবুক পেজে এক পোস্টের মাধ্যমে সম্পর্ক চুকে ফেলা, আত্মসম্মান এবং মানসিক শান্তি বজায় রাখার তাগিদ দিয়ে একটি দীর্ঘ ও আবেগঘন বার্তা শেয়ার করে নিয়েছেন এ অভিনেত্রী।  সেই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি সম্পর্ক তৈরি ও ভাঙন নিয়ে নতুন এক দর্শনের কথা তুলে ধরেন প্রভা।

সেই পোস্টে অভিনেত্রী লিখেছেন— সম্পর্ক ছিন্ন করা মানে মানুষের কাছ থেকে হাল ছেড়ে দেওয়া নয়। বরং কখনো কখনো এটি নিজের কাছে অবশেষে সত্যি স্বীকার করা— একসময় যে সম্পর্কটি অর্থবহ ছিল, সেটিই এখন ধীরে ধীরে আপনাকে ভেতর থেকে ভেঙে দিচ্ছে।

তিনি বলেন, ভালোবাসার মূল্য কখনোই আপনার মানসিক শান্তি, পরিচয় কিংবা মানসিক স্বাস্থ্য খোয়ানোর বিনিময়ে হতে পারে না। যারা শুধু নিজের প্রয়োজনেই পাশে আসে, তারা আপনার উপকারে না এলেও নিঃশেষ করে দেয়।

অভিনেত্রী বলেন, আবার পরিবারের এমন কেউ থাকেন, যারা সীমা লঙ্ঘন করেন, আবার কেউ আছেন পাশে থাকার পরও আপনাকে একাকী অনুভব করান। এমন পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আসবে এ আশায় মানুষ চেষ্টা চালিয়ে যায়। যতক্ষণ না আবিষ্কার করে এ প্রক্রিয়ায় সে নিজেই হারিয়ে যাচ্ছে।

জীবন থেকে সবকিছু সরিয়ে নেওয়া কোনো নির্মমতা নয়, বরং এটি একটি সাহসিকতার পরিচয় উল্লেখ করে প্রভা বলেন, মিথ্যা ভান করার চেয়ে সত্যকে বেছে নেওয়া এবং নীরব যন্ত্রণার চেয়ে আত্মসম্মানকে অগ্রাধিকার দেওয়াটাও জরুরি। তিনি বলেন, অনেকে বলতে পারেন যে, মানুষটি বদলে গেছে, কিন্তু তারা এটা বুঝতে পারে না যে, কাউকে জীবন থেকে ছেঁটে ফেলা হচ্ছে না; বরং এটি শেষ পর্যন্ত নিজেকে বাঁচানোরই একটি সিদ্ধান্ত।

অভিনেত্রী বলেন, যেখানে প্রতিনিয়ত আঘাত পাওয়া যায়, সেখানে কখনো নিরাময় সম্ভব নয়। যে পরিবেশ আপনার মানসিক পরিসরকে সংকুচিত করে, সেখানে কখনো বেড়ে ওঠা যায় না। তাই সম্পর্ক কিংবা পরিস্থিতি থেকে সরে আসা মানেই কাউকে পরিত্যাগ করা নয়; বরং এটি নিজের আত্মমর্যাদা ফেরত পাওয়ার পথ। মাঝে মাঝে কোনো কিছু ছেড়ে দেওয়াটাই ভালোবাসার সবচেয়ে বড় ও শক্তিশালী প্রকাশ হতে পারে বলে জানান প্রভা। 

খেলা

ছবি: সংগৃহীত।

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

টেস্ট ক্রিকেটে টানা চারদিন বাংলাদেশের জন্য দুর্দান্ত কাটল। শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়াকে তাদের মাটিতেই এভাবে দাপট দেখানো যে কোনো দলের জন্যই স্বপ্ন। সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিলো বাংলাদেশ। টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকা অজিদের বিপক্ষে ৯ নম্বরের দল অবিশ্বাস্য এক জয়ের দেখা পেল।

২৩ বছর আগে ডারউইন ও কেয়ার্নসে অসহায় আত্মসমর্পণ করেছিল বাংলাদেশ। দুই দশকেরও বেশি সময় পর দ্বিতীয়বারের মতো অস্ট্রেলিয়া সফর করল তারা। এই ম্যাচে বাংলাদেশ কতটা লড়াই করতে পারলেই যেন প্রত্যাশা পূরণ হতো! কিন্তু ১৩ আগস্ট প্রথম দিনেই পেসাররা যেভাবে বুলডোজার চালালেন, তাতেই এক অবিস্মরণীয় জয়ের ভিত যেন তৈরি হয়ে গেল।

দুই সেশনেরও বেশি সময় অপ্রত্যাশিতভাবে বাংলাদেশের বোলারদের দাপট চলল। দুইশ রানের আগেই অলআউট অস্ট্রেলিয়া! যেন বিশ্বাসই হচ্ছিল না। অবশ্য ধারণা করা হচ্ছিল, মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্স ও জশ হ্যাজলউডের শক্তিশালী বোলিং লাইনআপও একইভাবে বাংলাদেশের বোলারদের ওপর চড়াও হবে। কিন্তু না, ব্যাটিংয়েও চলল বাংলাদেশের দাপট। তানজিদ হাসান তামিম ঐতিহাসিক সেঞ্চুরি করলেন। নাজমুল হোসেন শান্ত ও মেহেদী হাসান মিরাজও হাফ সেঞ্চুরিতে বড় স্কোরের শক্ত ভিত গড়ে দিলেন।

এই তিন ব্যাটারের অনবদ্য ব্যাটিং এবং টেল এন্ডারের উল্লেখযোগ্য অবদানে বাংলাদেশ ২২৮ রানের বড় লিড নেয়। বিদেশের মাটিতে এর আগে প্রথম ইনিংসে এত বড় লিড কখনও পায়নি তারা। অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটাররা দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে গেল চাপ নিয়ে। এবারও হাসান জোড়া আঘাতে তাদের গলা চেপে ধরেন।

প্রথম ইনিংসে স্টিভ স্মিথ, আর দ্বিতীয় ইনিংসে ক্যামেরন গ্রিন বাংলাদেশের ধারালো বোলারদের সামনে যা একটু প্রতিরোধ গড়লেন। দেশের মাটিতে প্রথম সেঞ্চুরিতে অজিদের লিড এনে দেন। কিন্তু বল হাতে মিরাজ দেখালেন ঘূর্ণি জাদু। তাতে লিডটা বড় হলো না। বাংলাদেশের লক্ষ্যও থাকল নাগালের মধ্যে।

প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান তানজিদ এবার ডাক মারলেন। এরপর সাদমান ইসলাম ও মুমিনুল হক জয়ের বাকি আনুষ্ঠানিকতা সারলেন। প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশকে ৫৪ রানে অলআউট করার স্মৃতি অজিদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে কোনো কাজে দিলো না। ৫৭ রানের লক্ষ্য অনায়াসে পূরণ করে ইতিহাসের পাতায় নাম লিখল বাংলাদেশ।