শিরোনাম

চ্যাপা শুঁটকির ঝাঁঝালো সবজি ভুনা, তৈরি করবেন যেভাবে গুম, খুন-জুলাই গণহত্যার বিচারের দাবিতে নতুন কর্মসূচি ১১ দলীয় জোটের চন্দ্রশেখর থেকে থালাপতি, বিজয়ের গল্প যেন স্বপ্নের মতই ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি সফল হলে নেতানিয়াহুর ‘রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ শেষ’ ৬ জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত
ছবি: বিএমএফ টেলিভিশন।

লন্ডনে ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশন ইউকের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক প্রতিবাদ সমাবেশ

ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশন ইউকের উদ্যোগে মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় পূর্ব লন্ডনের ঐতিহাসিক আলতাব আলী পার্কে এক আন্তর্জাতিক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্প্রতি সংঘটিত রামিসা হত্যা, নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ, সাংবাদিক নির্যাতন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিভিন্ন ঘটনার প্রতিবাদে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

সংগঠনের সভাপতি আশিকুল ইসলাম আশিকের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক লাভলু লস্কর , ড. আজিজুল আম্বিয়া ও জাকির হোসেন সেলিমের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিবিসির সাবেক সাংবাদিক শামীম চৌধুরী। তিনি বলেন, একটি সভ্য ও গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য মানবাধিকার, আইনের শাসন এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি দেশে চলমান সহিংসতা, নারী নির্যাতন, সাংবাদিকদের ওপর হামলা এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।

বক্তারা বলেন, রামিসা হত্যাকাণ্ডসহ সাম্প্রতিক বিভিন্ন নৃশংস ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

এ সময় বক্তব্য রাখেন মানবাধিকার কর্মী আব্দুল আহাদ চৌধুরী, আ.স.ম. মিসবা, মুজিবুল হক মনি, নাজমিন সুলতানা শিখা, মোহন মিয়া, আব্দুল কুদ্দুস, জহিরুল ইসলাম, হুমায়ুন কবীর, জামাল আহমদ, আংগুর আলী, জাকির হোসেন সেলিম, ফয়সল আহমদ,  আব্দুল হেলাল চৌধুরী সেলিম, মতব্বির হোসেন চুনু, হুমায়ুন কবির, আব্দুল জলিল চৌধুরী, আব্দুর রব, ছইল মিয়া, রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি অধ্যক্ষ সাহেদ রহমান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বাছির, অ্যাডভোকেট বজলুর রশীদ, মুফতি আব্দুল ওদুদ, মুজিবুল হক মুজিব, ইমদাদুন খানম, জেসিকা চৌধুরী, রিপা আক্তার, শাহ লাভলী রহমান, জামিলা খানম, সাগর চৌধুরী মোহন, ময়না মিয়া, মকবুল হোসেন, নিজাম উদ্দিন, আব্দুস সাত্তার, নুরুল হক, মোহাম্মদ রুনু, সৈয়দ গোলাব মিয়া, আবুল হোসেন, একলিম মিয়া, নাজমুল হোসেন, জুবেল আহমদ বেলাল, শরীফ আলম, মো. গিয়াস উদ্দিন সোহাগ, সেলিম আহমেদ, রুমেল খান, মাসুম বিল্লাহ, আব্দুল হকসহ আরও অনেকে।

সমাবেশ শেষে বক্তারা বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার রক্ষা, বৈষম্য ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ জনমত গড়ে তোলা এবং গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তারা সকল ধরনের হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

বিনোদন

ছবি: সংগৃহীত।

চন্দ্রশেখর থেকে থালাপতি, বিজয়ের গল্প যেন স্বপ্নের মতই

আজ ২২ জুন, ৫২ বর্ষা পেরিয়ে ৫৩-তে পা রাখলেন দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার সুপারসটার থালাপতি বিজয়। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ৭৮টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। বাবা প্রখ্যাত নির্মাতা এস এ চন্দ্রশেখরের হাত ধরে শিশুশিল্পী হিসেবে পর্দায় আগমন বিজয়ের। তিন দশক পেরিয়ে কোটি মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়া বিজয় শুধু সিনেমার নায়কই নন, হয়ে উঠেছেন বাস্তব জীবনে জনতার নায়কও। আজ তাই বিশেষ দিনে সিক্ত হচ্ছেন ভক্ত, শুভাকাঙ্ক্ষী, সতীর্থদের ভালোবাসা ও শুভেচ্ছায়। 

অতীত এবং প্রাথমিক জীবন

১৯৭৪ সালের ২২ জুন তামিলনাড়ুর চেন্নাইতে জন্মগ্রহণ করেন বিজয়। পুরো নাম সি. জোসেফ বিজয় বা জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখর। তার বাবা চলচ্চিত্র নির্মাতা এস এ চন্দ্রশেখর এবং মা গায়িকা শোভা চন্দ্রশেখর। উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করে স্নাতকে ভর্তি হয়েছিলেন বটে। কিন্তু চলচ্চিত্রপ্রেমে মজে পড়াশোনা ছেড়ে দেন। থালাপতি বিজয়

খুব অল্প বয়সেই অভিনয়ের প্রতি তার তীব্র অনুরাগের জন্ম হয়। তবে ছেলে অভিনেতা হোক, এমনটা চাননি খোদ তার বাবা। তাই বাবার ওপর অভিমান করে বাড়ি ছেড়ে চলে যান। কয়েক দিন পর চেন্নাইয়ের একটি সিনেমা হল থেকে তাকে খুঁজে পাওয়া যায়। তখনই বোঝা যায়, রূপালি পর্দার প্রতি তার প্রেম কত গাঢ়। 

সিনেমায় আসা ও শুরুর দিকের সংগ্রাম

১৯৮০-এর দশকে বাবা এস এ চন্দ্রশেখরের পরিচালনায় 'ভেত্রি', 'কুদুমবাম' ও 'বসন্ত রাগম'-এর মতো সিনেমায় শিশুশিল্পী হিসেবে বিজয় তার অভিনয় জীবন শুরু করেন। ১৯৯২ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে ‘নালাইয়া থিরপু’ সিনেমার মাধ্যমে প্রধান নায়ক হিসেবে তার অভিষেক ঘটে। 

তবে শুরুটা সহজ ছিল না, প্রথম সিনেমাটি বক্স অফিসে ব্যর্থ হয় এবং সমালোচকদের কাছ থেকে অত্যন্ত রূঢ় ও হতাশাজনক মন্তব্য পান তিনি। এরপর ১৯৯৬ সালে ‘পুভে উনাক্কাগা’ সিনেমার মাধ্যমে মূলধারার চলচ্চিত্রে তার সাফল্য আসে। ছবিটি তামিলনাড়ুর পারিবারিক দর্শকদের মাঝে তাকে তুমুল জনপ্রিয় করে তোলে। ১৯৯৭ সালে ‘কাধালুক্কু মারিয়াধাই’ তার রোমান্টিক হিরো ইমেজকে আরও উঁচুতে নিয়ে যায় এবং তার নাচের অনন্য স্টাইল ও চার্ম তরুণদের হৃদয়ে ঝড় তোলে।

চন্দ্রশেখর থেকে ‘থালাপতি’ হয়ে ওঠা

তামিল ভাষায় ‘থালাপতি’ শব্দের অর্থ হলো সেনাপতি, কমান্ডার, নেতা বা প্রধান। ১৯৯৪ সালে ‘রসিগান’ সিনেমার সাফল্যের পর ভক্তরা তাকে ‘ইলাইয়া থালাপতি’ বা তরুণ সেনাপতি বলে ডাকতে শুরু করেন। ২০০০-এর দশকের শুরুতে ‘থিরুমালাই’ (২০০৩) এবং ‘ঘিল্লি’ (২০০৪) সিনেমার মাধ্যমে তার ক্যারিয়ারে এক বিশাল রূপান্তর ঘটে, যা তাকে মাস অ্যাকশন সুপারস্টার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। এরপর ‘পোক্কিরি’ (২০০৭) এবং ‘থুপ্পাক্কি’ (২০১২)-এর মতো অল-টাইম ব্লকবাস্টার উপহার দেওয়ার পর ভক্তরা তাকে কেবল ‘থালাপতি’ নামে সম্বোধন করতে শুরু করে। ২০১৭ সালে ‘মেরসাল’ সিনেমা মুক্তির সময় থেকে পুরো ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি ও ভক্তমহলে এই উপাধিটি তার পরিণত সুপারস্টারডম ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অংশ হয়ে ওঠে।

সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে প্রভাব 

দীর্ঘ অভিনয় জীবনে ‘মাস্টার’, ‘লিও’ কিংবা ‘গোট’ (GOAT)-এর মতো অসংখ্য ব্লকবাস্টার উপহার দিয়ে তামিল সিনেমার সমার্থক হয়ে উঠেছেন বিজয়। চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের কাছে তার সততা ও নম্রতা অনন্য দৃষ্টান্ত। তামিলনাড়ু ফিল্ম প্রডিউসার কাউন্সিলের সদস্য ও প্রযোজক জি ধনঞ্জয়ন তাকে বিশ্ব চলচ্চিত্র শিল্পের একটি অনন্য ‘ফেনোমেনন’ বা বিস্ময় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, বিজয় চলচ্চিত্র অঙ্গনে এমন এক উচ্চতায় পৌঁছেছেন যেখানে রাজনীতিতে আসার বহু আগেই তিনি তামিলনাড়ুর প্রতিটি ঘরের একটি অংশ হয়ে উঠেছিলেন। সহকর্মী ও টেকনিশিয়ানদের সাথে তার দীর্ঘ কয়েক দশকের বন্ধুত্ব ইন্ডাস্ট্রিতে তার চমৎকার ব্যক্তিত্ব ও সুনামের প্রমাণ দেয়।

রূপালী পর্দা থেকে রাজনীতির ‘থালাপতি’

চলচ্চিত্রের এই আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই ২০২৪ সালে বিজয় ‘তামিলাগা ভেটরি কাজাগাম’ (টিভিকে) নামে নিজের রাজনৈতিক গঠন করেন। সিনেমার পর্দার মতো রাজনীতির মাঠেও তিনি দেখিয়েছেন ম্যাজিক। দল গঠনের মাত্র দুই বছরের মাথায় তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে তার দল ১০৮টি (মতান্তরে ১০৭টি) আসনে জয়লাভ করে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয় এবং তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন; হয়ে ওঠেন সত্যিকারের জনতার নায়ক। চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারের ইতি টেনে জনগণের সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে প্রমাণ করেছেন, তিনি শুধু সিনেমার পর্দাতেই নয়, বাস্তব জীবনেও তামিলনাড়ুর কোটি মানুষের সত্যিকারের ‘থালাপতি’ বা নেতা।


 

খেলা

ছবি: সংগৃহীত।

অস্ট্রিয়া ম্যাচের আগে বিশাল সুখবর পেল আর্জেন্টিনা

অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের ঠিক আগের দিন দারুণ খবর পেল আর্জেন্টিনা। রোববার কানসাসে শেষ অনুশীলনে প্রথমবারের মতো ২৬ জন খেলোয়াড় একসঙ্গে মাঠে নামলেন। বিশ্বকাপের প্রস্তুতি শুরুর পর থেকে এই প্রথম পুরো দল একসঙ্গে অনুশীলন করল।

এতদিন কেউ না কেউ চোটের কারণে আলাদা অনুশীলন করছিলেন। প্রথমে লিয়ান্দ্রো পারেদেস, তারপর নিকোলাস তালিয়াফিকো এবং সবশেষে গনজালো মন্তিয়েল আলাদা থেকেছিলেন। তবে রোববার তারা সবাই দলের সঙ্গে মিলে অনুশীলন করলেন।

সবচেয়ে বড় খবর এলো মন্তিয়েলকে নিয়ে। ডান পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ে টান লাগার কারণে কিছুদিন ধরে কম চাপে অনুশীলন করছিলেন এই রাইটব্যাক। রোববার তিনি পুরোদমে দলের সঙ্গে মাঠে নামলেন এবং দলের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে গেলেন।

তালিয়াফিকোর জন্যও খবর ভালো। আলজেরিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে বাম পায়ের সোলিয়াস পেশিতে ছেঁড়ার কারণে খেলতে পারেননি তিনি। এখন স্বাভাবিক অনুশীলনে ফিরেছেন তালিয়াফিকো। সোমবারের ম্যাচে বেঞ্চে থাকার সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়েছে তার। কিছুটা সময় মাঠেও নামতে পারেন। তবে ফাকুন্দো মেদিনা প্রথম ম্যাচে ভালো খেলেছেন বলে কোচিং স্টাফ অযথা ঝুঁকি নিতে চাইছেন না।