নির্বাচনে ভরাডুবি, রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা রাজ চক্রবর্তীর

বিনোদন ডেস্ক। || বিএমএফ টেলিভিশন

প্রকাশিতঃ রাত ০৮:২৮, শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ২৬ বৈশাখ ১৪৩৩
ছবি: সংগৃহীত।

ছবি: সংগৃহীত।

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে তারকাদের অংশগ্রহণ নতুন কিছু নয়। সিনেমার জনপ্রিয়তা কাজে লাগিয়ে বহু অভিনেতা-অভিনেত্রীই রাজনীতিতে এসেছেন, কেউ সফল হয়েছেন, কেউ হারিয়েছেন জনপ্রিয়তার ঝলক। সেই তালিকায় এবার নতুনভাবে আলোচনায় এলেন পরিচালক-অভিনেতা রাজ চক্রবর্তী। বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন

বৃহস্পতিবার (৭ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে নিজের রাজনৈতিক জীবনের সমাপ্তির কথা জানান রাজ। 

একই সঙ্গে তিনি নতুন সরকারকে শুভেচ্ছাও জানিয়েছেন। পোস্টে রাজ লেখেন, ‘জীবনে যখনই কোনও দায়িত্ব পেয়েছি নিষ্ঠা এবং সততার সঙ্গে পালন করেছি৷ এক জন পরিচালক হিসাবে সিনেমার মাধ্যমে মানুষকে সব সময়ে আনন্দ দেওয়ার চেষ্টা করেছি। কখনও হেরেছি। কখনও জিতেছি। ২০২১-এ আমার রাজনৈতিক জীবনে পদার্পণ৷ মানুষ আমাকে সুযোগ দিয়েছিলেন কাজ করার। পাঁচ বছর ধরে সেই ভাবেই বিধায়কের দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করে গিয়েছি। সেই অধ্যায় শেষ হল ২০২৬-এ। সঙ্গে শেষ হল আমার রাজনৈতিক জীবনের পথচলা।’

২০২১ সালে পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে ব্যারাকপুর কেন্দ্র থেকে নির্বাচনে অংশ নেন রাজ চক্রবর্তী। প্রথমবারেই জয়ী হয়ে বিধায়ক হন তিনি। চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবে জনপ্রিয়তা থাকলেও রাজনৈতিক ময়দানে তার প্রবেশ তখন অনেকের কাছেই ছিল চমক। এরপর পাঁচ বছর বিধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

কিন্তু এবারের নির্বাচনে সেই সাফল্য ধরে রাখতে পারেননি তিনি। ব্যারাকপুর কেন্দ্রেই বিজেপি প্রার্থী কৌস্তভ বাগচীর কাছে হেরে যান রাজ। নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যাপক উন্মাদনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত ফলাফল তার পক্ষে যায়নি।

নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর পরিস্থিতিও ছিল বেশ অস্বস্তিকর। ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে উঠে আসে, গণনাকেন্দ্র থেকে বের হওয়ার সময় রাজ চক্রবর্তীকে লক্ষ্য করে ‘চোর চোর’ স্লোগান দেওয়া হয়। এমনকি তার দিকে কাদা ছোড়ার অভিযোগও উঠে। যদিও এ বিষয়ে তিনি প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি।

তবে পরাজয়ের পরও নিজের পোস্টে খুব সংযত ভাষাই ব্যবহার করেছেন রাজ। তিনি নতুন সরকারকে অভিনন্দন জানিয়ে লেখেন, মানুষের রায়ে যে সরকার গঠিত হয়েছে, তাদের হাত ধরেই পশ্চিমবঙ্গ উন্নতির পথে এগিয়ে যাবে এমনটাই আশা করেন তিনি।

রাজনৈতিক জীবনের ইতি টানার ঘোষণার পর অনেকেই মনে করছেন, এবার তিনি পুরোপুরি চলচ্চিত্রে মনোযোগ দেবেন। কারণ রাজনীতি শুরুর আগে থেকেই বাংলা বাণিজ্যিক সিনেমার অন্যতম সফল পরিচালক ছিলেন তিনি। শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত জীবনও বরাবরই ছিল আলোচনায়।

রাজের পরাজয়ের পর শুভশ্রী সামাজিক মাধ্যমে একাধিক ছবি পোস্ট করে তার পাশে থাকার বার্তা দেন। অনেকে সেই পোস্টকে ‘নীরব সমর্থন’ হিসেবে দেখছেন। কারণ নির্বাচনের ধাক্কা যেন রাজের মনোবল ভেঙে না দেয়, সেটিই বোঝাতে চেয়েছেন অভিনেত্রী।

চলচ্চিত্রের পাশাপাশি রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প নিয়েও সক্রিয় ছিলেন রাজ চক্রবর্তী। বিশেষ করে ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ প্রকল্প নিয়ে তথ্যচিত্র নির্মাণ করে আলোচনায় এসেছিলেন তিনি। ফলে অনেকেই ভেবেছিলেন, রাজনীতিতে তার পথচলা আরও দীর্ঘ হবে। কিন্তু নির্বাচনী হার হয়তো সেই পরিকল্পনাতেই বড় পরিবর্তন এনে দিল।

ভারতীয় রাজনীতিতে তারকাদের উত্থান যেমন দ্রুত হয়, তেমনি পতনও অনেক সময় নাটকীয়। রাজ চক্রবর্তীর ক্ষেত্রেও যেন সেটিই দেখা গেল। পাঁচ বছরের রাজনৈতিক অধ্যায়ের পর এখন তিনি আবার ফিরছেন নিজের পুরোনো জগতে আলো, ক্যামেরা আর সিনেমার গল্পে।


 

Share This Article

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়