শিরোনাম

দেশের ৮ বিমানবন্দরে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি সাতক্ষীরায় গহনা ছিনতাই করতে গিয়ে মহিলা দোকানীকে হত্যা মার্কিন নৌ অবরোধ সত্ত্বেও অব্যাহত ইরানের তেল রপ্তানি ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পে ত্রুটি দ্রুত সংশোধন করা হবে: অর্থমন্ত্রী যশোরে উলশী খাল পুনর্খনন কর্মসূচি উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর
ছবি: বিএমএফ টেলিভিশন।

স্কুলে ছুটির ঘন্টা, বাথরুমে আটকা পড়ে থাকলেন শিশু

বিকাল ৪ টা বিদ্যালয়ে ছুটির ঘন্টা পড়ে গেছে। বিদ্যালয়ে সকলে বের হয়ে গেলেও বাথরুমে আটকা পড়েন তৃতীয় শ্রেণীর সাদিয়া নামের এক  শিক্ষার্থী। ঘটনাটি মেহেরপুর শহরের বিএম মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।


আটকে থাকার কয়েক ঘন্টা পর পরিবার ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করা হয়। বুধবার হৃদয়বিদারক ও উদ্বেগজনক এঘটনা ঘটেছে। তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী সাদিয়া  স্কুল ছুটির পর বাথরুমে আটকা পড়ে দীর্ঘ সময় চিৎকার করেও কোনো সাড়া না পেয়ে প্রাণসংকটে পড়ে। সময় গড়াতে থাকলে শিশুটি ভয়ে কান্নাকাটি ও চিৎকার শুরু করে। তার সেই হৃদয়বিদারক চিৎকার স্কুলসংলগ্ন পথচারীদের কানে পৌঁছালে বিষয়টি সামনে আসে। এদিকে নির্ধারিত সময়েও বাড়িতে না ফেরায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন সাদিয়ার বাবা পুরাতন পোস্ট অফিস পাড়ার বাসিন্দা মনিরুল ইসলাম। খোঁজ নিতে এসে তিনিও স্থানীয়দের সঙ্গে যুক্ত হন। পরে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় বিদ্যালয়ের মূল ফটক খুলে ভেতরে প্রবেশ করা হয়। কিন্তু বিদ্যালয় ভবনের কলাপসিবল  দরজা ভেঙে বা খুলে শিশুটিকে বের করা সম্ভব না হওয়ায়, স্থানীয়রা এক পর্যায়ে স্কুলের এক শিক্ষিকাকে ডেকে আনেন। প্রায় এক ঘণ্টা উৎকণ্ঠার পর শিক্ষিকা লিনা ভট্টাচার্যের উপস্থিতিতে অবশেষে সাদিয়াকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় শিশুটি ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় ছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।


দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরা স্কুল ভবন ও মূল ফটকে তালা দিয়ে চলে যাওয়ার ফলে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) বিকাল প্রায় চারটার দিকে স্কুল ছুটি হলে শিক্ষকরা যথারীতি বিদ্যালয় ত্যাগ করেন। ওই সময় বাথরুমে থাকা সাদিয়া তালাবদ্ধ অবস্থায় ভেতরেই আটকা পড়ে যায়। 


ঘটনাটি রাত সাড়ে এগারোটার দিকে জানাজানি হলে গণমাধ্যমকর্মীরা বিদ্যালয়ের অফিসিয়াল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। তবে বিষয়টি জানতে চাইলে ফোন কেটে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে আরো কয়েকজন গণমাধ্যম কর্মী মোবাইল নম্বরটিতে কল দিলেও,  আর কোনো কল রিসিভ করা হয়নি। এতে করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে আরও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।


পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় রাত প্রায় বারোটার দিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন মেহেরপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খায়রুল ইসলাম। তিনি স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার প্রাথমিক তথ্য নেন এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও সাড়া পাননি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খায়রুল ইসলাম বলেন, মেয়েটি সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার হয়েছে, এটাই স্বস্তির বিষয়। তবে ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে। বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে শিক্ষক ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলা হবে।'

বিনোদন

ছবি: সংগৃহীত।

কেন ১৫ বছর জুটি বেঁধে অভিনয় করেননি বিজয়-তৃষা?

রুপালি পর্দার রোমান্স কি তবে বাস্তবেও কাল হয়ে দাঁড়াল? দক্ষিণী সুপারস্টার থালাপতি বিজয় এবং তার স্ত্রী সঙ্গীতার বিচ্ছেদের গুঞ্জনে এখন উত্তাল দক্ষিণী সিনে-ইন্ডাস্ট্রি। আর এই ভাঙনের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে দক্ষিণী জনপ্রিয় অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণানের নাম। দীর্ঘ ১৫ বছর পর 'লিও' ছবির মাধ্যমে পর্দায় এই জুটির কামব্যাক যেমন দর্শকদের আনন্দ দিয়েছিল, তেমনই পর্দার বাইরের কিছু সমীকরণ জন্ম দিয়েছে নতুন বিতর্কের।

দক্ষিণী সিনেমার হিট জুটি বিজয়-তৃষা। ২০০৪ সালে 'ঘিল্লি' ছবিতে প্রথম জুটি বাঁধেন তারা। এর পর 'তিরুপাচ্চি' 'আথি'সহ বেশ কিছু ছবিতে একসঙ্গে কাজ করেন দু'জনে। কিন্তু তারপর দীর্ঘ ১৫ বছর পর্দায় আর জুটি হিসাবে দেখতে পাওয়া যায়নি তাদের। এরপর ২০২৩ সালে 'লিও' ছবির হাতে কামব্যাক হয় এই জুটির। কিন্তু দীর্ঘদিন কেন তারা এক সঙ্গে কাজ করেন নি? এমনই প্রশ্ন উঠেছে নেটিমহলে।

ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, কুরুভি সিনেমায় অভিনয়ের পর বিজয় এবং তৃষা আচমকাই কাজ করা বন্ধ করা দেন। শোনা যায়, 'ঘিল্লি'র সময় থেকেই নাকি দু'জনে আরও কাছাকাছি আসেন। দু'জনের সম্পর্কের কথা গিয়ে পৌঁছয় বিজয়ের বাড়িতেও। বিজয়কে তৃষার সঙ্গে কাজ না করার কথা বলা হয় অভিনেতার বাড়ি থেকে। সেই কারণেই নাকি বিজয় তৃষার সঙ্গে দীর্ঘ অনেক বছর কাজ করেননি।

তবে দীর্ঘ বিরতির পর ২০২৩ সালে 'লিও' ছবিতে তাদের রসায়ন ফের নজর কাড়ে। কিন্তু গোল বাঁধে তৃষার একটি ইনস্টাগ্রাম পোস্টকে কেন্দ্র করে। বিজয়ের জন্মদিনে দুজনের একটি সেলফি শেয়ার করে তৃষা ক্যাপশনে লিখেছিলেন, ‘জীবনে যতই ঝড় আসুক, শান্ত থেকো।‘ সাথে জুড়ে দিয়েছিলেন একটি ভালোবাসার ইমোজি। আর এই পোস্টটির কারণে নেটিজেনদের মনে সন্দেহের দানা বাঁধে। প্রশ্ন উঠে তবে কি পুরনো সেই সম্পর্ক আবার নতুন মোড় নিল?

এদিকে ২০২৪ সালের শেষের দিকে কীর্তি সুরেশ এবং অ্যান্টনি থাটিলের বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বিজয় ও তৃষাকে একসাথে গোয়া যেতে দেখা যায়। শুধু তাই নয়, প্রযোজক কালপাথি অঘোরামের পারিবারিক অনুষ্ঠানেও তাদের একত্রে উপস্থিতি বিচ্ছেদের গুঞ্জনকে আরও উসকে দেয়।


 

খেলা

ছবি: সংগৃহীত।

ক্লাব বেঁচে থাকলে খেলোয়াড়রা বেঁচে থাকবে : ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

দেশের ক্লাবগুলোকে রাজনীতিকরণ ও দলীয়করণের প্রভাব থেকে মুক্ত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। আজ ধানমন্ডিতে আবাহনী লিমিটেড পরিদর্শনে গিয়ে বলেছেন এমনটাই। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ক্লাবটিতে সৃষ্ট অচলাবস্থা কাটিয়ে ক্রীড়া কার্যক্রম পুরোদমে চালুর বিষয়ে ক্লাব কর্মকর্তাদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করেন তিনি।

আবাহনী ও মোহামেডানকে দেশের ফুটবলের মেরুদণ্ড উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আগামীতে আবাহনী ক্লাব এবং বাংলাদেশের অন্যান্য ক্লাবগুলো রাজনীতির বাইরে গিয়ে স্বাধীনভাবে পরিচালিত হবে। মোহামেডান–আবাহনী এবং বাংলাদেশের ফুটবলের যে ঐতিহ্য, সেই ঐতিহ্য যাতে কখনোই কোনো কারণে রাজনৈতিক কারণে ভবিষ্যতে ব্যাহত না হয়, সেই বিষয়গুলো আমরা আজকে ইতিমধ্যে আমি আলোচনা করেছি।’

অতীতের দিকে না তাকিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রীর, ‘বিগত সময় কী হয়েছে সেগুলো নিয়ে আমরা আলোচনা করব না, তবে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই। যাতে সামনের দিকে আর কখনো কোনো ভুল না হয় এবং আবাহনী ক্লাব স্বাধীনভাবে পরিচালিত হবে।’

খেলোয়াড়দের কল্যাণের ওপর গুরুত্বারোপ করে আমিনুল হক বলেন, ‘আমরা চাই যে ক্লাব যদি বেঁচে থাকে তাহলেই কিন্তু আমাদের খেলোয়াড়রা বেঁচে থাকবে। কারণ ক্লাব যদি ঠিক না থাকে তাহলে কিন্তু খেলোয়াড়রা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

তৃণমূলের খেলাধুলা নিয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী ২ মে থেকে ৬৪ জেলায় কিশোর-কিশোরীদের অংশগ্রহণে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস; কার্যক্রম শুরু হবে। এছাড়া ক্লাবগুলোর আর্থিক অস্বচ্ছলতা দূর করতে করপোরেট হাউসগুলোর সহযোগিতা এবং নিজস্ব সম্পদ কাজে লাগানোর পরিকল্পনার কথা জানান তিনি, ‘ভবিষ্যতে কোনো ক্লাব যাতে আর কোনো রাজনীতিকরণ করা না হয়, ক্লাবকে যাতে আবার দলীয়ভাবে কোনো ব্যবহার করা না হয়, এ বিষয়ে আমরা সবাই সতর্ক থাকব। এবং আমার সাংবাদিক ভাইদেরও আমি সার্বিক সহযোগিতা চাই ইনশাল্লাহ।’

ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ক্লাব পরিদর্শনকালে আবাহনী ও মোহামেডান ক্লাবের শীর্ষ কর্মকর্তারা ছাড়াও বিসিবি অ্যাডহক কমিটির সভাপতি তামিম ইকবাল উপস্থিত ছিলেন। ক্লাবটির বর্তমান ফুটবলাররা ফুল দিয়ে প্রতিমন্ত্রীকে বরণ করে নেন এবং ক্লাবের পক্ষ থেকে তাকে সম্মানসূচক জার্সি উপহার দেওয়া হয়।