শিরোনাম

‘বদির কাছ থেকে বস্তা ভরে ইয়াবা আনত ওবায়দুল কাদের’ নওগাঁয় একই পরিবারের চারজনকে হত্যা: অস্ত্র সহ গ্রেপ্তার ৩ মালাক্কা প্রণালিতে টোল আরোপে পরিকল্পনা ইন্দোনেশিয়ার বহিরাগতদের কর্তৃক ইবি শিক্ষার্থীর উপর হামলা: শাখা ছাত্রদলের নিন্দা মেহেরপুরে গণমাধ্যমের অপসাংবাদিকতা প্রতিরোধে সেমিনার ও কর্মশালা অনুষ্ঠিত
ছবি: বিএমএফ টেলিভিশন।

স্কুলে ছুটির ঘন্টা, বাথরুমে আটকা পড়ে থাকলেন শিশু

বিকাল ৪ টা বিদ্যালয়ে ছুটির ঘন্টা পড়ে গেছে। বিদ্যালয়ে সকলে বের হয়ে গেলেও বাথরুমে আটকা পড়েন তৃতীয় শ্রেণীর সাদিয়া নামের এক  শিক্ষার্থী। ঘটনাটি মেহেরপুর শহরের বিএম মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।


আটকে থাকার কয়েক ঘন্টা পর পরিবার ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করা হয়। বুধবার হৃদয়বিদারক ও উদ্বেগজনক এঘটনা ঘটেছে। তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী সাদিয়া  স্কুল ছুটির পর বাথরুমে আটকা পড়ে দীর্ঘ সময় চিৎকার করেও কোনো সাড়া না পেয়ে প্রাণসংকটে পড়ে। সময় গড়াতে থাকলে শিশুটি ভয়ে কান্নাকাটি ও চিৎকার শুরু করে। তার সেই হৃদয়বিদারক চিৎকার স্কুলসংলগ্ন পথচারীদের কানে পৌঁছালে বিষয়টি সামনে আসে। এদিকে নির্ধারিত সময়েও বাড়িতে না ফেরায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন সাদিয়ার বাবা পুরাতন পোস্ট অফিস পাড়ার বাসিন্দা মনিরুল ইসলাম। খোঁজ নিতে এসে তিনিও স্থানীয়দের সঙ্গে যুক্ত হন। পরে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় বিদ্যালয়ের মূল ফটক খুলে ভেতরে প্রবেশ করা হয়। কিন্তু বিদ্যালয় ভবনের কলাপসিবল  দরজা ভেঙে বা খুলে শিশুটিকে বের করা সম্ভব না হওয়ায়, স্থানীয়রা এক পর্যায়ে স্কুলের এক শিক্ষিকাকে ডেকে আনেন। প্রায় এক ঘণ্টা উৎকণ্ঠার পর শিক্ষিকা লিনা ভট্টাচার্যের উপস্থিতিতে অবশেষে সাদিয়াকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় শিশুটি ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় ছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।


দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরা স্কুল ভবন ও মূল ফটকে তালা দিয়ে চলে যাওয়ার ফলে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) বিকাল প্রায় চারটার দিকে স্কুল ছুটি হলে শিক্ষকরা যথারীতি বিদ্যালয় ত্যাগ করেন। ওই সময় বাথরুমে থাকা সাদিয়া তালাবদ্ধ অবস্থায় ভেতরেই আটকা পড়ে যায়। 


ঘটনাটি রাত সাড়ে এগারোটার দিকে জানাজানি হলে গণমাধ্যমকর্মীরা বিদ্যালয়ের অফিসিয়াল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। তবে বিষয়টি জানতে চাইলে ফোন কেটে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে আরো কয়েকজন গণমাধ্যম কর্মী মোবাইল নম্বরটিতে কল দিলেও,  আর কোনো কল রিসিভ করা হয়নি। এতে করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে আরও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।


পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় রাত প্রায় বারোটার দিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন মেহেরপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খায়রুল ইসলাম। তিনি স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার প্রাথমিক তথ্য নেন এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও সাড়া পাননি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খায়রুল ইসলাম বলেন, মেয়েটি সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার হয়েছে, এটাই স্বস্তির বিষয়। তবে ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে। বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে শিক্ষক ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলা হবে।'

বিনোদন

ছবি: বিএমএফ টেলিভিশন।

অডিও ফাঁস, কেলেঙ্কারি ও ব্যক্তিগত লালসা—শেষ পর্যন্ত সামাজিক বিচারই কি অনিবার্য?
ক্ষমতার অপব্যবহার ও নৈতিক পতন: ‘Audio Faas’ নাটকে সমাজের প্রতিচ্ছবি

সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত নাটক Audio Faas শুধু বিনোদনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং এটি আমাদের সমাজের এক বাস্তব ও অস্বস্তিকর চিত্র সামনে নিয়ে এসেছে। নাটকটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করা ডাক্তার এজাজ একজন প্রভাবশালী কর্পোরেট ব্যক্তিত্বের উত্থান ও পতনের গল্পকে জীবন্ত করে তুলেছেন।

নাটকের কাহিনিতে দেখা যায়, ধনী পরিবারের এক নারীর সঙ্গে বিয়ের মাধ্যমে তিনি একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পদে অধিষ্ঠিত হন। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তার আচরণে পরিবর্তন দেখা যায়। ব্যক্তিগত নৈতিকতার অবক্ষয়, অফিসের কর্মীদের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক এবং একাধিক কেলেঙ্কারি ধীরে ধীরে তাকে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসে।

এক পর্যায়ে তার ব্যক্তিগত কথোপকথনের অডিও ফাঁস হয়ে গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। এই অডিও ফাঁসের ঘটনাই তার সামাজিক ও পারিবারিক জীবনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান, যিনি তার স্ত্রীও, শেষ পর্যন্ত তাকে এমডি পদ থেকে বহিষ্কার করতে বাধ্য হন এবং পরবর্তীতে তাদের বৈবাহিক সম্পর্কও ভেঙে যায়।

নাটকের সবচেয়ে শক্তিশালী দিক হলো এর পরিণতি। এক সময় যে কর্মচারীরা তার নির্দেশে চলত, তারাই শেষ পর্যন্ত তাকে অপমানজনক অবস্থায় প্রতিষ্ঠান থেকে বের করে দেয়। এই দৃশ্যটি শুধু নাটকীয়তা নয়, বরং একটি প্রতীকী সামাজিক বিচার—যেখানে ক্ষমতার অপব্যবহারকারীর শেষ পরিণতি প্রকাশ পায়।

ডাক্তার এজাজ তার অভিনয়ের মাধ্যমে চরিত্রটির মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে ফুটিয়ে তুলেছেন। ক্ষমতাবান, আত্মবিশ্বাসী একজন মানুষ থেকে ধীরে ধীরে পতনের দিকে এগিয়ে যাওয়া এবং শেষ পর্যন্ত অসহায় অবস্থায় পৌঁছানোর এই যাত্রা দর্শকদের গভীরভাবে নাড়া দেয়। পাশাপাশি অন্যান্য অভিনয়শিল্পীদের পারফরম্যান্সও নাটকটিকে আরও বাস্তবসম্মত করে তুলেছে।

নাটকটি মূলত একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয়—অপকর্ম মানুষকে বেশিদূর এগোতে দেয় না; ক্ষণস্থায়ী ক্ষমতা ও ভোগ-বিলাস একসময় মানুষকেই নিঃস্ব করে দেয়। প্রযুক্তির এই যুগে কোনো গোপন বিষয়ই দীর্ঘদিন গোপন থাকে না, এবং ব্যক্তিগত অনৈতিকতা একসময় সামাজিক পরিণতি ডেকে আনে।

সব মিলিয়ে, Audio Faas শুধু একটি নাটক নয়; এটি আমাদের সমাজের জন্য একটি সতর্কবার্তা, যা নৈতিকতা, দায়িত্ববোধ এবং আত্মনিয়ন্ত্রণের গুরুত্বকে নতুন করে মনে করিয়ে দেয়।

খেলা

ছবি: সংগৃহীত।

২০২৬ বিশ্বকাপই ব্রাজিলের জেতার সেরা সময়: কাফু

ব্রাজিলের দুইবারের বিশ্বকাপজয়ী কাফু মনে করছেন, এবারের বিশ্বকাপই পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নদের শিরোপা ফেরানোর সেরা মুহূর্ত। সোমবার মাদ্রিদে লরেয়াস অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

কাফু নিজে ২০০২ সালের বিশ্বকাপে ব্রাজিলের অধিনায়ক ছিলেন। সেবার ইয়োকোহামায় জার্মানিকে ২-০ গোলে হারিয়ে পঞ্চমবারের মতো শিরোপা জেতে ব্রাজিল। এর আগে ১৯৯৪ সালেও ইতালিকে পেনাল্টিতে হারিয়েও বিশ্বকাপ জিতেছিলেন তিনি।

তিনি বলেছেন, ‘শেষবার শিরোপা জেতার ২৪ বছর পর আমি মনে করি এটাই ব্রাজিলের জন্য সেরা মুহূর্ত।’

কোচ কার্লো আনচেলত্তিকে নিয়ে তার আস্থার কথাও জানালেন কাফু। বললেন, ‘আমরা একজন ধারাবাহিকভাবে শিরোপাজয়ী কোচকে এনেছি। তিনি ব্রাজিল জাতীয় দলের মহিমাকে আরও বাড়াবেন।’

কাফু জানান, ব্রাজিলের মধ্যমাঠ ও আক্রমণভাগ আগে থেকেই শক্তিশালী। তাই আনচেলত্তি এবারের বিশ্বকাপের জন্য রক্ষণ শক্তিশালী করার দিকে মনোযোগ দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে কাফু বলেছেন, ‘ব্রাজিল যদি বিশ্বকাপে গোল না খায়, তাহলে প্রতি ম্যাচে একটি গোল করতে পারবেই।’

রিয়াল মাদ্রিদের ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে নিয়েও আশাবাদী কাফু। তিনি বলেছেন, ‘বিশ্বকাপই যেকোনো বিতর্ক কাটিয়ে ওঠার সেরা উপায়।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘আটটি ম্যাচে (যদি ফাইনালে পৌঁছান) ভিনিসিয়ুস জুনিয়র সারা বিশ্বকে দেখাতে পারবেন, ফুটবলে তার মূল্য কতটা এবং তিনি আসলে কী করতে পারেন।’

গত ১ এপ্রিল অরল্যান্ডোয় ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ৩-১ গোলের জয়ে একটি অ্যাসিস্ট করেছেন ভিনিসিয়ুস। এর আগে ফ্রান্সের কাছে প্রীতি ম্যাচে হারের পর যে সংশয় তৈরি হয়েছিল, সেটি কিছুটা কাটতে শুরু করেছে এই জয়ে। 

যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিতব্য এই বিশ্বকাপে শিরোপার লড়াইয়ে শীর্ষ পাঁচের মধ্যে রয়েছে ব্রাজিল। বাজি প্রতিষ্ঠানগুলোর হিসেবে এই মুহূর্তে সবচেয়ে এগিয়ে আছে বর্তমান ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেন।