শিরোনাম

ছাত্রদলের নতুন কমিটি নিয়ে অভিযোগ; সড়কে অগ্নিসংযোগ ও অবরোধ  মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তে যা বলল জার্মানি ও ন্যাটো মা হওয়ার পর পুরোনো চেহারায় ফিরতে চাইনি: স্বরা ভাস্কর ‘ভবিষ্যতে যেন মেগা প্রকল্পের নামে মেগা দুর্নীতি না হয়’ ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল রেজাউল করিমের পদত্যাগ
ছবি: বিএমএফ টেলিভিশন।

স্কুলে ছুটির ঘন্টা, বাথরুমে আটকা পড়ে থাকলেন শিশু

বিকাল ৪ টা বিদ্যালয়ে ছুটির ঘন্টা পড়ে গেছে। বিদ্যালয়ে সকলে বের হয়ে গেলেও বাথরুমে আটকা পড়েন তৃতীয় শ্রেণীর সাদিয়া নামের এক  শিক্ষার্থী। ঘটনাটি মেহেরপুর শহরের বিএম মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।


আটকে থাকার কয়েক ঘন্টা পর পরিবার ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করা হয়। বুধবার হৃদয়বিদারক ও উদ্বেগজনক এঘটনা ঘটেছে। তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী সাদিয়া  স্কুল ছুটির পর বাথরুমে আটকা পড়ে দীর্ঘ সময় চিৎকার করেও কোনো সাড়া না পেয়ে প্রাণসংকটে পড়ে। সময় গড়াতে থাকলে শিশুটি ভয়ে কান্নাকাটি ও চিৎকার শুরু করে। তার সেই হৃদয়বিদারক চিৎকার স্কুলসংলগ্ন পথচারীদের কানে পৌঁছালে বিষয়টি সামনে আসে। এদিকে নির্ধারিত সময়েও বাড়িতে না ফেরায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন সাদিয়ার বাবা পুরাতন পোস্ট অফিস পাড়ার বাসিন্দা মনিরুল ইসলাম। খোঁজ নিতে এসে তিনিও স্থানীয়দের সঙ্গে যুক্ত হন। পরে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় বিদ্যালয়ের মূল ফটক খুলে ভেতরে প্রবেশ করা হয়। কিন্তু বিদ্যালয় ভবনের কলাপসিবল  দরজা ভেঙে বা খুলে শিশুটিকে বের করা সম্ভব না হওয়ায়, স্থানীয়রা এক পর্যায়ে স্কুলের এক শিক্ষিকাকে ডেকে আনেন। প্রায় এক ঘণ্টা উৎকণ্ঠার পর শিক্ষিকা লিনা ভট্টাচার্যের উপস্থিতিতে অবশেষে সাদিয়াকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় শিশুটি ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় ছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।


দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরা স্কুল ভবন ও মূল ফটকে তালা দিয়ে চলে যাওয়ার ফলে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) বিকাল প্রায় চারটার দিকে স্কুল ছুটি হলে শিক্ষকরা যথারীতি বিদ্যালয় ত্যাগ করেন। ওই সময় বাথরুমে থাকা সাদিয়া তালাবদ্ধ অবস্থায় ভেতরেই আটকা পড়ে যায়। 


ঘটনাটি রাত সাড়ে এগারোটার দিকে জানাজানি হলে গণমাধ্যমকর্মীরা বিদ্যালয়ের অফিসিয়াল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। তবে বিষয়টি জানতে চাইলে ফোন কেটে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে আরো কয়েকজন গণমাধ্যম কর্মী মোবাইল নম্বরটিতে কল দিলেও,  আর কোনো কল রিসিভ করা হয়নি। এতে করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে আরও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।


পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় রাত প্রায় বারোটার দিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন মেহেরপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খায়রুল ইসলাম। তিনি স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার প্রাথমিক তথ্য নেন এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও সাড়া পাননি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খায়রুল ইসলাম বলেন, মেয়েটি সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার হয়েছে, এটাই স্বস্তির বিষয়। তবে ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে। বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে শিক্ষক ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলা হবে।'

বিনোদন

ছবি: সংগৃহীত।

মা হওয়ার পর পুরোনো চেহারায় ফিরতে চাইনি: স্বরা ভাস্কর

‘ভিরে দি ওয়েডিং’খ্যাত অভিনেত্রী স্বরা ভাস্কর গর্ভাবস্থার পরবর্তী ওজন নিয়ে ব্যঙ্গ করাকে ‘নির্বুদ্ধিতা ও কদর্যতা’ বলে অভিহিত করেছেন। নারীরা তাদের গর্ভে একটি প্রাণকে লালন করেন, পুষ্টি দেন এবং পৃথিবীর আলো দেখান— এই অসাধ্য সাধনের পর আপনার শরীরের পরিবর্তন হওয়াটাই স্বাভাবিক বলে বিশ্বাস করেন তিনি। অভিনেত্রী মা হওয়ার পর শরীরের ওজন বেড়েছে, আর তাতেই যেন ‘অপরাধ’ করে ফেলেছেন তিনি। 

সম্প্রতি ২০১৮ সালের একটি পুরোনো ছবি সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করে নিয়েছিলেন স্বরা ভাস্কর। আর সেই ছবির কমান্টবক্সে ধেয়ে আসে কুরুচিকর বডি-শেমিং। এক নেটিজেনের  মেসেজ স্ক্রিনশট শেয়ার করে নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে নেন স্বরা ভাস্কর। সেই নেটিজেনের মেসেজে লেখা ছিল— ‘কোথা থেকে কোথায় পৌঁছে গিয়েছ তুমি! এত ভালো অভিনেত্রী ছিলে..., জানি না কেন এমন হলে?’

এবার অভিনেত্রী সেই মেসেজের পাল্টা জবাব দিলেন। স্বরা ভাস্কর লিখেছেন— মানুষ যখন এ ধরনের মেসেজ লেখে, তখন তাদের নিজেদের সম্পর্কে কোনো বোধ থাকে না দেখে অবাক লাগে। এখানেই শেষ নয়; অভিনেত্রী একটি দীর্ঘ পোস্ট লেখেন। সেখানে প্রশ্ন তোলেন নারীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া অবাস্তব সৌন্দর্যের মাপকাঠি নিয়ে।

স্বরা ভাস্কর একটি কোলাজ ছবি পোস্ট করেছেন। একদিকে ২০১৮ সালের তন্বী স্বরা ভাস্কর, অন্যদিকে বর্তমানের স্বরা— যার কোলে রয়েছে একরত্তি কন্যা রাবিয়া। ট্রলারদের একহাত নিয়ে অভিনেত্রী লিখেছেন— এ বিষয়ে আমি বারবার লড়ব! গত কয়েক বছরে মানুষ যেভাবে আমার ওপর ক্ষোভ উগরে দিয়েছে। কারণ সন্তান জন্মের পর আমার শরীর বদলে গেছে এবং আমি অচেনা মানুষের বেঁধে দেওয়া সময়ে ওজন কমাতে রাজি হইনি, তা সত্যিই অদ্ভুত!

স্বরা ভাস্কর বলেন, তিনি ফিটনেস বা স্বাস্থ্যের বিরোধী নন। কিন্তু সমাজ যেভাবে নারীদের একটি নির্দিষ্ট ‘বক্স’-এর মধ্যে আটকে রাখতে চায়, তিনি তার বিরোধী। তিনি বলেন, 'জীবন মানেই সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া। আমাদের নিজেদের শরীরকে সেই সময়টুকু এবং সম্মানটুকু দেওয়া উচিত।' পোস্টপোর্টেম ওজন বা গর্ভাবস্থার পরবর্তী ওজন নিয়ে ব্যঙ্গ করাকে তিনি ‘নির্বুদ্ধিতা ও কদর্যতা’ বলে অভিহিত করেন।

বলিউডে মা হওয়ার পরপরই 'জিরো ফিগার'-এ ফেরার যে হুজুগ, তার বিরুদ্ধে গর্জে উঠে স্বরা বলেন, তিনি সজ্ঞানেই পুরোনো চেহারায় দ্রুত ফিরে আসার লড়াইয়ে নামেননি। তিনি বলেন, অভিনয় দক্ষতার সঙ্গে ওজন কমানোর কোনো সম্পর্ক নেই।' মাতৃত্বের এই পরিবর্তন অত্যন্ত স্বাভাবিক এবং তা নিয়ে লজ্জিত হওয়ার কিছু নেই বলে জানান অভিনেত্রী।

স্বরা ভাস্কর বলেন, মা হওয়ার পর ‘ফিরে আসা’ বা ‘বাউন্স ব্যাক’ বলে কিছু হয় না। কারণ সন্তান হওয়ার পর আপনি সারাজীবনের জন্য মা হয়ে যান। জীবনটাই আমূল বদলে যায়। তিনি বলেন, নারীরা তাদের গর্ভে একটি প্রাণকে লালন করেন, পুষ্টি দেন এবং পৃথিবীর আলো দেখান— এই অসাধ্য সাধনের পর শরীরের পরিবর্তন হওয়াটাই স্বাভাবিক। তিনি প্রশ্ন তোলে বলেন, কেন আমরা নিজেদের ওপর এই নিষ্ঠুরতা করব যে, আমাদের পুরোনো সেই কিশোরী বা তরুণী চেহারায় ফিরতেই হবে?

স্বরা ভাস্করের এই বলিষ্ঠ পোস্টের পর অনেকেই তার পাশে দাঁড়িয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের একাংশ বলেছেন, সেলিব্রিটি মানেই যে সারাক্ষণ নিখুঁত থাকতে হবে— এমন ধারণা ভাঙার সময় এসেছে। নিজের শরীরের ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং নিজের ইচ্ছামতো জীবন কাটানোর যে অধিকার স্বরা দাবি করেছেন, তা অনেক নারীর কাছেই আজ অনুপ্রেরণা।


 

খেলা

ছবি: সংগৃহীত।

ইরানের ফুটবল প্রধানকে প্রবেশের অনুমতি দেয়নি কানাডা

ফিফা কংগ্রেসে অংশ নিতে কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে যাওয়ার কথা থাকলেও ইরানের ফুটবল প্রধান মেহেদি তাজকে দেশে প্রবেশ করতে দেয়নি কানাডা। ইরানের সংবাদমাধ্যম তাসনিম ও ইউএসএ টুডে এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

তথ্য অনুযায়ী, ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের সঙ্গে ‘অসদাচরণের’ অভিযোগে তাকে বিমানবন্দর থেকেই ফিরিয়ে দেওয়া হয়। তার সঙ্গে ফেডারেশনের আরও দুই কর্মকর্তা—হেদায়াত মমবেইনি ও হামিদ মোমেনিও ছিলেন।

প্রতিবেদন বলছে, ভিসা ও অস্থায়ী রেসিডেন্ট পারমিট থাকা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত তাকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। এর প্রধান কারণ হিসেবে ইসলামিক রেভ্যুলুশনারি গার্ড কর্পসের সঙ্গে তার পূর্ববর্তী সংশ্লিষ্টতা দেখানো হয়েছে।

জানা যায়, অতীতে তিনি আইআরজিসির একজন কমান্ডার ছিলেন। কানাডা সংস্থাটিকে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করে, তাই তাদের অবস্থান অনুযায়ী আইআরজিসি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রবেশ নিষিদ্ধ।

শেষ পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে ফেরত পাঠানো হয়। যদিও কানাডার অভিবাসন কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট ঘটনায় মন্তব্য না করলেও জানিয়েছে, আইআরজিসি সম্পর্কিত ব্যক্তিদের প্রবেশের বিষয়ে তাদের অবস্থান কঠোর এবং তারা দেশের নিরাপত্তা নীতি বজায় রাখতে এমন পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে।