চট্টগ্রাম বৌদ্ধ বিহারে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে শুভ বুদ্ধপূর্ণিমা উদযাপন

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি : || বিএমএফ টেলিভিশন

প্রকাশিতঃ রাত ০৯:১০, শনিবার, ২ মে, ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩
ছবি: বিএমএফ টেলিভিশন।

ছবি: বিএমএফ টেলিভিশন।

তথাগত গৌতম বুদ্ধের জন্ম, বোধিজ্ঞান ও মহাপরিনির্বাণ–এই তিন স্মৃতিবিজড়িত পবিত্র বুদ্ধ পূর্ণিমা দেশের সকল বৌদ্ধ বিহারে পালিত হয়েছে।

দিবসটি উপলক্ষ্যে সারা দেশের বৌদ্ধ বিহার গুলোতে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন, শান্তি শোভাযাত্রা ও সমবেত প্রার্থনার মধ্যদিয়ে দিনটি পালিত হয়েছে ।

চট্টগ্রাম নগরীর বৌদ্ধ বিহার গুলোতে ভোর থেকে বুদ্ধপূজা, শীল গ্রহণ, পিণ্ডদান ও ভিক্ষু সংঘের প্রাতরাশ, শান্তি শোভাযাত্রা ও সমবেত প্রার্থনাসহ নানা ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে দিনটি উদ্‌যাপন করেছেন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা।

চট্টগ্রাম নগরীতে সম্মিলিত বুদ্ধপূর্ণিমা উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে সকালে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয় , এতে নগরের বিভিন্ন বৌদ্ধ ধর্মীয় সংগঠন অংশ গ্রহণ করে।

চট্টগ্রাম নগরের কেন্দ্রীয় বৌদ্ধ বিহার নন্দনকাননস্থ চট্টগ্রাম বৌদ্ধ বিহার (সাংঘিক) এ সকাল থেকে পুন্যার্থীরা প্রদীপ প্রজ্জ্বলন, শীল গ্রহন, আবাসিক প্রধান ভিক্ষু প্রিয়রত্ন মহাথের এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে গৌতম বুদ্ধের ধাতু প্রদর্শন করা হয়, ফ্রি চিকিৎসা এবং বিকাল তিনটায় বিশ্বশান্তি এবং  মঙ্গল   কামনায় শান্তি শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রা উদ্বোধন করেন বাংলাদেশী বৌদ্ধদের সর্বোচ্চ ধর্মীয়  গুরু চতুর্দশ সংঘরাজ ভদন্ত ধর্মপ্রিয় মহাথের, তার আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম বৌদ্ধ বিহারের উপাধ্যক্ষ, একুশে পদকে ভূষিত ডক্টর জিনবোধি মহাথের।শোভাযাত্রা ডক্টর জিনবোধি মহাথের এর নেতৃত্বে  চট্টগ্রাম বৌদ্ধ বিহার থেকে শুরু হয়ে জামালখান প্রেসক্লাবের সামনে হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় বিহারে এসে শেষ হয়।শোভাযাত্রায় বিহারের আবাসিক ভিক্ষু, বিভিন্ন বিহার থেকে আসা অতিথি ভিক্ষু এবং বিভিন্ন সংগঠনের সদস্য ও পুণ্যার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। সন্ধ্যায় সংগঠন 'আরণ্যক'এর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এবং মিটুল বড়ুয়ার কন্ঠে মনোজ্ঞ বুদ্ধ কীর্তন পরিবেষণ করা হয়।  

বুদ্ধ পূর্ণিমা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্য সবচেয়ে পবিত্র ও তাৎপর্যপূর্ণ দিন, কারণ এই তিথিতে গৌতম বুদ্ধের জন্ম, বোধিলাভ এবং মহাপরিনির্বাণ লাভ এই তিনটি স্মরণীয়  ঘটনা  হয়েছিল। এটি কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং শান্তি, অহিংসা, মৈত্রী ও করুণার আদর্শ অনুসরণের একটি বিশেষ দিন।

এই দিনটি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে আত্মবিশ্লেষণ ও সংযমের মাধ্যমে আধ্যাত্মিক উন্নতির সুযোগ করে দেয়। এই উৎসবটি সমাজে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরে ।বিশ্বজুড়ে বৌদ্ধ অনুসারীরা এই দিনে মন্দিরে প্রার্থনা, ধ্যান এবং দান-ধ্যানের মাধ্যমে গৌতম বুদ্ধের শিক্ষা স্মরণ করেন।

গৌতম বুদ্ধ নেপালের রূপান্দি জেলায় অবস্থিত লুম্বিনীতে জন্মগ্রহণ করেন, খ্রিস্টপূর্ব ৫৬৩ বা ৬২৩ অব্দে। রানী মায়াদেবী লুম্বিনীর পবিত্র উদ্যানে সিদ্ধার্থ গৌতমকে জন্ম দেন। সিদ্ধার্থ গৌতম খ্রিস্টপূর্ব ৬২৩ থেকে ৫৪৩ পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন এবং তিনি গৌতম বুদ্ধ নামে বৌদ্ধ ধর্ম প্রচার করেন।

বৌদ্ধধর্ম মতে, প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে এই বৈশাখী পূর্ণিমা তিথিতেই মহামতি বুদ্ধ আবির্ভূত হয়েছিলেন। তার দর্শনের মূলমন্ত্র ছিল অহিংসা, সাম্য ও মৈত্রী। গৌতম বুদ্ধের সেই কালজয়ী বাণী–‘হিংসা দিয়ে হিংসা প্রশমিত হয় না, বরং অহিংসা দিয়েই তাকে জয় করতে হয়’–আজকের অশান্ত বিশ্বে আরও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।

Share This Article

আরো পড়ুন  

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়