শিরোনাম

ইরানের অনুরোধেই হামলা বন্ধ, সমঝোতা না হলে আবারও আঘাত করা শুরু হবে: ট্রাম্প আইফোন ব্যবহারকারীদের সতর্ক করল অ্যাপল ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে সিইসির বৈঠক আজ একটি দল এখন ‘টেলিগ্রাম লীগে’ পরিণত হয়েছে: হাসনাত আব্দুল্লাহ ‘আমি মিথ্যা বলব না, এখনও কষ্ট হচ্ছে’, বিশ্বকাপের পর নীরবতা ভাঙলেন এমবাপে
ছবি: বিএমএফ টেলিভিশন।

লন্ডনে ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশন ইউকের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক প্রতিবাদ সমাবেশ

ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশন ইউকের উদ্যোগে মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় পূর্ব লন্ডনের ঐতিহাসিক আলতাব আলী পার্কে এক আন্তর্জাতিক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্প্রতি সংঘটিত রামিসা হত্যা, নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ, সাংবাদিক নির্যাতন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিভিন্ন ঘটনার প্রতিবাদে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

সংগঠনের সভাপতি আশিকুল ইসলাম আশিকের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক লাভলু লস্কর , ড. আজিজুল আম্বিয়া ও জাকির হোসেন সেলিমের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিবিসির সাবেক সাংবাদিক শামীম চৌধুরী। তিনি বলেন, একটি সভ্য ও গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য মানবাধিকার, আইনের শাসন এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি দেশে চলমান সহিংসতা, নারী নির্যাতন, সাংবাদিকদের ওপর হামলা এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।

বক্তারা বলেন, রামিসা হত্যাকাণ্ডসহ সাম্প্রতিক বিভিন্ন নৃশংস ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

এ সময় বক্তব্য রাখেন মানবাধিকার কর্মী আব্দুল আহাদ চৌধুরী, আ.স.ম. মিসবা, মুজিবুল হক মনি, নাজমিন সুলতানা শিখা, মোহন মিয়া, আব্দুল কুদ্দুস, জহিরুল ইসলাম, হুমায়ুন কবীর, জামাল আহমদ, আংগুর আলী, জাকির হোসেন সেলিম, ফয়সল আহমদ,  আব্দুল হেলাল চৌধুরী সেলিম, মতব্বির হোসেন চুনু, হুমায়ুন কবির, আব্দুল জলিল চৌধুরী, আব্দুর রব, ছইল মিয়া, রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি অধ্যক্ষ সাহেদ রহমান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বাছির, অ্যাডভোকেট বজলুর রশীদ, মুফতি আব্দুল ওদুদ, মুজিবুল হক মুজিব, ইমদাদুন খানম, জেসিকা চৌধুরী, রিপা আক্তার, শাহ লাভলী রহমান, জামিলা খানম, সাগর চৌধুরী মোহন, ময়না মিয়া, মকবুল হোসেন, নিজাম উদ্দিন, আব্দুস সাত্তার, নুরুল হক, মোহাম্মদ রুনু, সৈয়দ গোলাব মিয়া, আবুল হোসেন, একলিম মিয়া, নাজমুল হোসেন, জুবেল আহমদ বেলাল, শরীফ আলম, মো. গিয়াস উদ্দিন সোহাগ, সেলিম আহমেদ, রুমেল খান, মাসুম বিল্লাহ, আব্দুল হকসহ আরও অনেকে।

সমাবেশ শেষে বক্তারা বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার রক্ষা, বৈষম্য ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ জনমত গড়ে তোলা এবং গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তারা সকল ধরনের হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

বিনোদন

ছবি: সংগৃহীত।

বিজ্ঞাপনের চুক্তির প্রলোভনে ডেকে নিয়ে নির্যাতন, থানায় স্নিগ্ধার মামলা

বিজ্ঞাপনের চুক্তির প্রলোভন দেখিয়ে হাসপাতালে ডেকে নিয়ে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে মামলা করেছেন মডেল ও অভিনেত্রী স্নিগ্ধা চৌধুরী। 

রোববার (২৬ জুলাই) রাতে রাজধানীর খিলক্ষেত থানায় তিনি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এ মামলা দায়ের করেন।

মামলার অভিযোগ বলা হয়, বিজ্ঞাপনের একটি চুক্তি স্বাক্ষরের কথা বলে স্নিগ্ধা চৌধুরীকে একটি হাসপাতালে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে তার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

অভিনেত্রীর দাবি, ঘটনার পর ব্যক্তিগত জীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে এমন আশঙ্কায় তিনি প্রথমে আইনি পদক্ষেপ নেননি। পরে বিষয়টি নিয়ে ন্যায়বিচারের আশায় খিলক্ষেত থানায় গিয়ে মামলা করার সিদ্ধান্ত নেন। এ ঘটনায় পুলিশ অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেবে বলে জানা গেছে। তবে মামলার বিষয়ে অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

ভুক্তভোগীর ভাষ্যমতে, আশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান তাকে ‘জেবা তাকিয়া’ নামের অন্য এক নারী মনে করে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। সেই সময় ইমন পরিস্থিতি শান্ত না করে উল্টো স্নিগ্ধাকে ওই পরিচয় মেনে নেওয়ার জন্য ইশারা করেন। অভিনেত্রী দাবি করেন, জেবা তাকিয়া চেয়ারম্যানের সঙ্গে প্রতারণা করে টাকা আত্মসাৎ করেছিলেন। তিনি স্নিগ্ধাকে তাকিয়া ভেবে মারধর করেছেন।

স্নিগ্ধা বলেন, ‘তিনি রশি দিয়ে আমার দুই পা বাঁধল। এবং সেই রশি সম্পর্কে আমাকে বলে, এই রশি দিয়ে হাসিনা-রাজাকারদেরকে ফাঁসি দিয়েছে! তারেক রহমান আইসা আমার পায়ের কাছে পড়ে থাকে। হাসিনা আমার পায়ের কাছে পড়ে থাকে। সালাউদ্দিন আমার পায়ের কাছে পড়ে থাকে! তোর মতো মেয়ে মরলে আমার কিছু যায় না। আমি প্রতিদিন মাটি চাপা দিয়ে রাখি।’

তিনি যোগ করেন, ‘আমি ওই রুমের মধ্যে একা। তার যত লোকজন আছে সবাইকে বের করে দিয়েছে। আমার হাত বাঁধছে, আমার পা বাঁধছে, আমার ফোনটা ছুঁড়ে মারছে, মেরে আমার গলা চিপে ধরছে!’

অভিনেত্রী জানান, মারধরের সময় চেয়ারম্যানকে তিনি বলেন, আপনার নিজের সন্তান আছে, আল্লাহ রহম করেন। তখন অভিযুক্ত অভিনেত্রীর চুল টেনে ধরে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় লাথি মারেন, যার ফলে তাঁর শরীর ফুলে গেছে।

শরীরের আঘাতের চিহ্ন দেখিয়ে তিনি বলেন, আমার বাবা-মা আমাকে জীবনে টোকা দেয় নাই! আমার বাবা-মা জীবনে আমাকে একটু টোকা দেয় নাই। সে আমার চুল টেনে ধরে লাথি মেরেছে। এগুলা ফুলে ফুলে আছে।

প্রসঙ্গত, স্নিগ্ধা চৌধুরী বাংলাদেশের পরিচিত মডেল ও অভিনেত্রী। ২০১৮ সালে মডেলিংয়ের মাধ্যমে শোবিজে যাত্রা শুরু করেন তিনি। সম্প্রতি ঈদে মুক্তি পাওয়া ‘প্রেশার কুকার’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় তার।


 

খেলা

ছবি: সংগৃহীত।

‘আমি মিথ্যা বলব না, এখনও কষ্ট হচ্ছে’, বিশ্বকাপের পর নীরবতা ভাঙলেন এমবাপে

টানা দুটি বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলেছে ফ্রান্স। হ্যাটট্রিক ফাইনালে ওঠার হাতছানি ছিল তাদের সামনে। কিন্তু সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে বিদায় নিতে হয়। ফ্রান্স বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ার পর এবার নীরবতা ভাঙলেন কিলিয়ান এমবাপে। ফরাসি ভক্তদের উদ্দেশ্য করে তিনি বললেন, দলের ব্যর্থতা ছাপিয়ে নিজেদের পারফরম্যান্স নিয়ে তারা গর্বিত।

পুরো টুর্নামেন্টে ফ্রান্সকে অকুণ্ঠ সমর্থন দেওয়ার কারণে সমর্থকদের ধন্যবাদ জানালেন ফরাসি অধিনায়ক। লম্বা বার্তায় তিনি বিশ্বকাপ থেকে প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির কথা তুলে ধরেন, যা সোমবার বিভিন্ন আউটলেটে প্রকাশিত হয়েছে।

এমবাপে লিখেছেন, ‘আপনাদের ধন্যবাদ। আবেগে ভরা একটি মাস, যেখানে আমরা আমাদের ক্ষমতার শেষ সীমা পর্যন্ত চেষ্টা করেছি। ফ্রান্সের জার্সি পরার গর্বের একটি মাস, যা আমাদের মাঠে এবং আপনাদের পর্দার সামনে ও গ্যালারিতে চালিত করার আবেগে পরিপূর্ণ ছিল।’

বর্তমানে ছুটিতে আছেন এমবাপে। পর্তুগিজ কোচ হোসে মরিনহোর অধীনে অনুশীলনে ফেরার অপেক্ষায় রিয়াল মাদ্রিদ তারকা। নিজের কষ্টের কথা লুকাননি তিনি, ‘আমরা দলগত এই শিরোপা জিততে পারিনি। এটা বেদনাদায়ক এবং আরও কিছু সময় সেই ব্যথা থাকবে। এটা নিয়ে আপনাদের মিথ্যা বলব না। হয়তো আমাদের কাছে আরও ভালো শেষ চেয়েছিলেন আপনারা। তবে গল্প কীভাবে শেষ হবে তা আমরা সবসময় বেছে নিতে পারি না; বরং আমরা এতে কী নিবেদন করছি তা বেছে নিই এবং আমরা আমাদের যথাসাধ্য সবকিছু উজাড় করে দিই।’

টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতার মুকুট পরা ২৭ বছর বয়সী এই ফুটবলার তার সাফল্যের কৃতিত্ব দিয়েছেন আশেপাশের সবাইকে। ১০ গোল করে জিতেছেন গোল্ডেন বুট। এই ব্যক্তিগত পুরস্কার ‘আমার যতটা, দলেরও ঠিক ততটাই,’ জোর দিয়ে বলেন তিনি। তার কথা, ‘তাদের কঠোর পরিশ্রম, তাদের মুভমেন্ট, তাদের পাস এবং প্রথম ম্যাচ থেকে শেষ ম্যাচ পর্যন্ত আমাদের বয়ে নিয়ে যাওয়া দলীয় মনোভাব না থাকলে আমি এতগুলো গোল করতে পারতাম না।’

গর্ব নিয়ে তৃতীয়বার বিশ্বকাপে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন এমবাপে। তিনি বললেন, ‘ছোটবেলায় আমি অন্তত একটা হলেও বিশ্বকাপে খেলতে চেয়েছিলাম। আমি খেললাম তিনটি বিশ্বকাপ, একটি জিতেছি এবং এই বছর অধিনায়ক হিসেবে খেলার সম্মাননা পেয়েছি। আমি এটা কখনো ভুলব না।’

সময়ের পার্থক্যের কারণে ফ্রান্সের অনেককে গভীর রাতে খেলা দেখতে হয়েছে। এই বিষয়টি উল্লেখ করে ভক্তদের বিশেষ ধন্যবাদ জানালেন এমবাপে, ‘আপনারা ঘরে, ক্যাফেতে, আপনাদের পরিবার বা বন্ধুদের সাথে পুরো ফ্রান্স এবং এর বাইরে একত্রিত হয়েছেন। অন্যান্যরা স্টেডিয়ামে আমাদের সাথে উপস্থিত ছিলেন, কাঁধে পতাকা বহন করছিলেন।’

তিনি বলে গেলেন, ‘উজ্জ্বল চোখে শিশু, সমস্ত ব্যাকগ্রাউন্ড ও প্রজন্মের নারী-পুরুষ, সবাই একটি আনন্দে একত্রিত হয়েছেন: অংশগ্রহণের আনন্দ।’ তার আরও কথা, ‘এটিই এই খেলার শক্তি। এবং আপনারা কখনোই আমাদের হতাশ করেননি, এমনকি সবচেয়ে কঠিন মুহূর্তেও, যখন আমরা সবচেয়ে কম যোগ্য ছিলাম তখনও।’

প্রধান কোচ দিদিয়ার দেশম এবং তার ব্যাকরুম টিমও এমবাপের কৃতজ্ঞতা পেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘তার এবং তার সমস্ত স্টাফদের ধন্যবাদ: ফিজিওথেরাপিস্ট, শেফ, কোচ, ড্রাইভার, এই সব মানুষ যাদের কেউ দেখে না এবং যাদের ছাড়া এর কোনোটিই সম্ভব হতো না।’

শেষ করার আগে ফুটবলের ওপর আলোকপাত করে এমবাপে বললেন, ফুটবল ‘এমন একটি খেলা হিসেবেই রয়ে যায় যা আমরা গুরুত্ব সহকারে নিই, এমন একটি খেলা যা আয়ত্ত করার জন্য আমরা সারা জীবন কাজ করি। তবুও এটি তার সহজ নিয়মকানুনের একটি খেলা যা আমরা খেলা শুরু করার পর থেকে পরিবর্তিত হয়নি: বল, গোল এবং গোল করার ইচ্ছা।’

আশাবাদী কথায় শেষ করলেন এমবাপে, ‘বিশ্বকাপ টুর্নামেন্ট শেষ। কিন্তু গল্প চলবে। আরও ম্যাচ, আরও গ্রীষ্ম কিংবা শীতের সন্ধ্যা আসবে, যেখানে আমরা আবার এই একই খেলার সামনে নিজেদের খুঁজে পাব, একই অদম্য ইচ্ছাশক্তি নিয়ে। আমরা একসঙ্গে খেলা শেষ করিনি। সবকিছুর জন্য সবাইকে ধন্যবাদ।’