শিরোনাম

হালান্ডের গোল নিয়ে বিতর্কের ঝড়, মুখ খুলল রেফারি সংস্থা ব্রিকসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে যথাযথ মর্যাদায় আমন্ত্রণ জানানো হয়নি: স্পিকার দেশে ফিরে বাঁধনের আক্ষেপ—আমার টিমও আমাকে বর্জন করেছে ইরানে ৫০ ঘণ্টা কাটানোর লোমহর্ষক গল্প বললেন মার্কিন কর্নেল ভেঙে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য, শিগগির আসছে বড় ঘোষণা!
ছবি: বিএমএফ টেলিভিশন।

বাংলাদেশ থেকে লিবিয়া—মানবপাচারের পর মুক্তিপণ আদায়

মানবপাচার চক্রের মূল হোতা মাদারীপুরের তাবিবুর রহমান ওরফে স্বপন মোল্লার নেতৃত্বে লিবিয়ার প্রধান মাফিয়া আশিক ওরফে ইমরান শেখ, বাংলাদেশি হাসান, বিষু মন্ডল, বাবু মোল্লা, গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরের সম্রাট শেখ ও কালু শেখের সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে লিবিয়ায় নির্যাতনের ভিডিও করে পরিবার থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

বাংলাদেশ থেকে লিবিয়া হয়ে ইউরোপে যাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মানবপাচারের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সাম্প্রতিক সময়ে লিবিয়ায় বাংলাদেশি নাগরিকদের আটক, নির্যাতন এবং পাচারকারীদের হাতে বন্দিত্বের ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। গত ১৮ আগস্টও লিবিয়ার গ্যানফুদা ডিটেনশন সেন্টারে আটক ১৭৪ বাংলাদেশি দেশে ফেরেন। (BSS⁠)

BMF News-এর অনুসন্ধানে উঠে এসেছে ভয়াবহ এক অভিযোগের চিত্র। ভুক্তভোগী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের দাবি, ইউরোপে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাসে বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন পথে লিবিয়ায় নেওয়ার পর কিছু বাংলাদেশিকে আটকে রাখা হয়। এরপর তাঁদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে সেই নির্যাতনের ভিডিও পরিবারের সদস্যদের কাছে পাঠানোর অভিযোগ রয়েছে।

পরিবারের কাছে পাঠানো এসব ভিডিও ও ফোনকলের মাধ্যমে স্বজনদের ভয় দেখিয়ে বড় অঙ্কের টাকা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। কোনো কোনো পরিবারের কাছ থেকে কয়েক দফায় লাখ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগী ও তাঁদের স্বজনদের অভিযোগে উঠে এসেছে মাদারীপুরের তাবিবুর রহমান ওরফে স্বপন মোল্লার নাম। তাঁর নেতৃত্বে লিবিয়ায় একটি সংঘবদ্ধ মানবপাচার সিন্ডিকেট কাজ করছে বলে অভিযোগ।

এই অভিযোগে আরও যাদের নাম এসেছে তারা হলেন—লিবিয়ার আশিক ওরফে ইমরান শেখ, বাংলাদেশি হাসান, বিষু মন্ডল, বাবু মোল্লা, গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরের সম্রাট শেখ এবং কালু শেখ।

তবে প্রতিবেদনে উল্লিখিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ স্বাধীনভাবে আদালতে প্রমাণিত হয়েছে—এমন দাবি করা হচ্ছে না। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযোজন করা হবে।

স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, লিবিয়ায় আটকে থাকা ব্যক্তিদের ওপর নির্যাতনের ভিডিও ধারণ করে তা পরিবারের কাছে পাঠানো হয়। ভিডিওতে স্বজনদের কান্নাকাটি, মারধর কিংবা শারীরিক নির্যাতনের দৃশ্য দেখিয়ে দ্রুত টাকা পাঠানোর চাপ সৃষ্টি করা হয় বলে অভিযোগ।

পরিবারগুলো অনেক সময় আতঙ্কের মধ্যে জমি-জমা বিক্রি, ধারদেনা কিংবা আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে দাবি করা অর্থ পাঠাতে বাধ্য হন বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন স্বজন।

লিবিয়া হয়ে ইউরোপে যাওয়ার পথে বাংলাদেশিদের পাচার ও আটকে রাখার বিষয়টি যে বাস্তব ও গুরুতর সমস্যা, সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনেও তার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। মে মাসে পূর্ব লিবিয়ার কর্তৃপক্ষ মানবপাচারকারীদের হাতে বন্দি ১২০ অভিবাসীকে উদ্ধারের কথা জানিয়েছিল; একই সময়ে বাংলাদেশি নাগরিকদের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাও প্রকাশ্যে আসে।

অনুসন্ধানে এমন পরিবারের সন্ধান পাওয়ার দাবি করা হচ্ছে, যাদের স্বজনরা লিবিয়ায় যাওয়ার পর দীর্ঘদিন নিখোঁজ বা যোগাযোগের বাইরে রয়েছেন। The Daily Star-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে শারিয়তপুর ও মাদারীপুরের অন্তত ২৩ তরুণের নিখোঁজ থাকার কথা উঠে এসেছে; তাঁদের পরিবার জানে না তারা ডিটেনশন সেন্টারে, পাচারকারীদের আস্তানায় নাকি ভূমধ্যসাগরে নিখোঁজ হয়েছেন।

অন্যদিকে, জুলাই মাসেও ১৭১ বাংলাদেশি নাগরিককে লিবিয়া থেকে দেশে ফেরানো হয়। তাঁদের প্রত্যাবাসন বাংলাদেশ সরকার, লিবীয় কর্তৃপক্ষ ও IOM-এর সহযোগিতায় সম্পন্ন হয়।

BMF News-এর অনুসন্ধানের পরবর্তী ধাপে খতিয়ে দেখা হচ্ছে—বাংলাদেশে কারা এসব যাত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করে, কীভাবে তাঁদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়, লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর কারা তাঁদের গ্রহণ করে, কোথায় তাঁদের আটকে রাখা হয় এবং পরিবারের কাছ থেকে আদায় করা অর্থ কোন মাধ্যমে স্থানান্তরিত হয়।

এ ছাড়া ভুক্তভোগীদের পাঠানো ভিডিও, অডিও রেকর্ড, মোবাইল নম্বর, টাকা পাঠানোর রসিদ, বিকাশ/ব্যাংক লেনদেনের তথ্য, পাসপোর্ট ও ভ্রমণসংক্রান্ত নথি সংগ্রহ করে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে।

BMF News-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে আসছে—মানবপাচারের এই নেটওয়ার্ক কীভাবে বাংলাদেশ থেকে লিবিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত, কারা এর সঙ্গে যুক্ত এবং কীভাবে নির্যাতন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে পরিবারের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
 

বিনোদন

ছবি: সংগৃহীত।

দেশে ফিরে বাঁধনের আক্ষেপ—আমার টিমও আমাকে বর্জন করেছে

৮৩তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিতে গিয়ে ইতালিতে হামলার শিকার হন জনপ্রিয় অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার প্রদর্শনীতে অংশ নিতে গিয়ে মেস্ত্রে শহরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের প্রবাসী কর্মীদের হাতে লাঞ্ছিত হন বলে দাবি করেন তিনি।  

অনাকাঙ্ক্ষিত সেই ঘটনার পর সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে দেশে ফিরেছেন এই অভিনেত্রী। দেশে ফিরেই বাঁধন জানান, এই হামলার জেরে সেখানে থাকা তার সিনেমার টিম তথা দলের সদস্যরা নাকি একরকম বর্জন করেছে তাকে!

হামলার পর ভেনিসে কতটা সহায়তা পেয়েছেন, তা জানিয়ে বাঁধন বলেন, ‘ভেনিস ফিল্ম ফেস্টিভালের ডিরেক্টর, ইতালি সরকার, আমাদের দেশের সরকার এবং ইতালিতে বাংলাদেশের দূতাবাস আমাকে সাপোর্ট করেছে, সাহায্য করেছে।’

ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে নিজের সহকর্মীদের কাছ থেকে কোনো সহযোগিতা পাননি জানিয়ে বাঁধন আক্ষেপের সঙ্গে বলেন, ‘কিন্তু আমার যে টিম, তারা আমাকে ডিজওন (disown) করেছে। ফেস্টিভ্যালের বাকি দিনগুলোতে তাদের সাথে অংশ নিতে নিষেধ করেছে। এমনকি পরবর্তীতে টরন্টো ফিল্ম ফেস্টিভালে যাওয়ার কথা থাকলেও তারা আমাকে সেখানেও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। তবে আমার কো-অ্যাক্টরদের মধ্যে সুনেরাহ, জায়নিন ও জায়নিনের মা আমাকে খুবই সাহায্য করেছেন।’

হামলার পর রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকে পাওয়া নিরাপত্তার কথা উল্লেখ করে অভিনেত্রী বলেন, ‘আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে চাই বাংলাদেশ সরকারের কাছে, প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে। ঘটনার দিন রাতেই সরকারি দপ্তর থেকে আমার সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে। ইতালিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের অ্যাম্বাসেডর ভাইয়া প্রচণ্ড সাপোর্টিভ ছিলেন। ইতালি সরকার, ওখানকার কালচারাল মিনিস্টার, আন্ডার সেক্রেটারি এবং পুলিশ ডিপার্টমেন্ট প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টা প্রোটেকশন দিয়েছে। এ ছাড়া নিরাপত্তার কারণে ভেনিস ফিল্ম ফেস্টিভালের ডিরেক্টর লিডোতেই আমার থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন।’

দেশবাসী ও সর্বস্তরের মানুষের সমর্থনের কথা স্মরণ করে বাঁধন বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ্‌, আল্লাহ যা করেন ভালোর জন্যই করেন। দেশের মানুষ, রাজনৈতিক মতাদর্শ নির্বিশেষে বিরোধী ও সরকারি দলের নেতাকর্মী এবং প্রবাসী বাঙালিরা যে সাপোর্ট দিয়েছেন, তা আমি কখনো ভুলতে পারব না। এত কষ্ট করে এই গরমে যারা আমার জন্য অপেক্ষা করেছেন, তাদের সবাইকে ধন্যবাদ।’

উল্লেখ্য গত মঙ্গলবার মেস্ত্রে শহরে তাকে ‘জুলাই জঙ্গি’ আখ্যা দিয়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় বাঁধনকে, যার ভিডিও পরে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পর গত ৮ সেপ্টেম্বর ইতালিতে মামলা দায়ের করেন অভিনেত্রী। বিষয়টি নিয়ে জাতীয় সংসদেও আলোচনা হয়েছে, যেখানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এ হামলাকে ‘গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার ওপর হামলা’ হিসেবে অভিহিত করেন।
 

খেলা

ছবি: সংগৃহীত।

হালান্ডের গোল নিয়ে বিতর্কের ঝড়, মুখ খুলল রেফারি সংস্থা

ইংলিশ ফুটবলের রেফারিং পরিচালনাকারী সংস্থা প্রো রেফ স্বীকার করেছে, রোববার ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে ১০ জনের ম্যানচেস্টার সিটির ১-০ গোলে জয়ের ক্ষেত্রে আর্লিং হালান্ডের গোলটি দেওয়ার সিদ্ধান্ত ভুল ছিল।

প্রফেশনাল গেম রেফারিজ (প্রো রেফ, আগে পিজিএমওএল নামে পরিচিত ছিল) জানিয়েছে, ভিএআরের পক্ষ থেকে ‘বিচারে ভুল’ হয়েছিল। ম্যাচ শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে এই বিবৃতি দেয় সংস্থাটি।

প্রো রেফ জানায়, তারা এই ভুলের জন্য ক্ষমা চাইতে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তাদের মতে, ভিএআরের উচিত ছিল প্রধান রেফারি মাইকেল অলিভারকে মাঠে গিয়ে ভিডিও দেখার অনুরোধ করা।

বাঁ দিক থেকে ক্রস করেন ইয়োস্কো গেভার্দিওল। কাছের ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে বলের গতিপথ বদলে যায়। শুরুতে ক্রসের সময় হালান্ডকে অফসাইড ধরা হয়েছিল। কিন্তু ভিএআর পর্যালোচনায় দেখা যায়, নরওয়েজিয়ান তারকা আসলে অনসাইডেই ছিলেন।

সমস্যা হলো, ক্রসের সময় এনজো ফের্নান্দেজ অফসাইড অবস্থানে ছিলেন। তিনি বলের দিকে এগিয়ে গিয়েছিলেন, ইউনাইটেড গোলরক্ষক সেনে লামেন্সকে পেছনে ফেলে হেডে বল জালে পাঠানোর চেষ্টায়। তবে ফের্নান্দেজ বলে স্পর্শ করেননি।

ইউনাইটেড ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেজ ফের্নান্দেজের সঙ্গেই ছিলেন। তার দাবি, সিটির খেলোয়াড় বলের দিকে না এগোলে তিনি ওভাবে থাকতেন না। ভিডিও আবার দেখলে এই দাবি কিছুটা সন্দেহজনক মনে হয়। তবে সেটা এখানে মুখ্য বিষয় নয়।

হালান্ড তখন একেবারে একা ছিলেন। তিনি লামেন্সকে পরাস্ত করে বল জালে পাঠান। এটাই ছিল ম্যাচের একমাত্র গোল।

ম্যানচেস্টার সিটির জয়সূচক গোল নিয়ে প্রো রেফের এক মুখপাত্র বিবৃতিতে বলেন, ‘রোববার ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও ম্যানচেস্টার সিটির মধ্যে প্রিমিয়ার লিগ ম্যাচের ৬০ মিনিটের ঘটনার পর, আমরা আর্লিং হালান্ডের দেওয়া গোল নিয়ে ব্যাখ্যা দিতে পারি।’

তিনি আরও বলেন, ‘মাঠে সিদ্ধান্ত ছিল আর্লিং হালান্ডের বিপক্ষে অফসাইড। ভিএআর তা পরীক্ষা করে দেখে তিনি অনসাইড অবস্থানে ছিলেন।’

মুখপাত্র বলেন, ‘একই আক্রমণে দেখা যায়, এনজো ফের্নান্দেজ বলে খেলেননি। তাই এখানে অফসাইড অপরাধ কিছুটা বিচারনির্ভর বিষয়। তবে এই ক্ষেত্রে ভিএআর তার অবস্থানের সম্ভাব্য প্রভাব চিহ্নিত করতে পারেনি এবং মাঠে গিয়ে পর্যালোচনার সুপারিশ করা উচিত ছিল।’

তিনি শেষে বলেন, ‘এই সন্ধ্যায় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে, এটাকে আমরা বিচারের ভুল বলে মনে করি বলে জানাতে। ঘটনাটি নিয়ে একটি পর্যালোচনা করা হবে।’