মঠবাড়িয়ার কৃতি সন্তান মো. আমিনুল ইসলামের ইসলামিক স্টাডিজে মেধাতালিকায় ২য় স্থান অর্জন

দারিদ্র্যকে জয় করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সাফল্য

বিএমএফ টেলিভিশন ডেস্ক || বিএমএফ টেলিভিশন

প্রকাশিতঃ সকাল ০৮:৪৮, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩
ছবি: বিএমএফ টেলিভিশন।

ছবি: বিএমএফ টেলিভিশন।

দারিদ্র্য, প্রতিকূলতা ও আর্থিক সংকটকে জয় করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেশনাল মাস্টার্স (এমএ ইন ইসলামিক স্টাডিজ) ভর্তি পরীক্ষার চূড়ান্ত মেধাতালিকায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছেন পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার কৃতি সন্তান মো. আমিনুল ইসলাম। তাঁর এ সাফল্যে পরিবার, শিক্ষক, সহপাঠী ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের পাশাপাশি গর্বের অনুভূতি ছড়িয়ে পড়েছে।

মো. আমিনুল ইসলাম পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার ৭নং বেতমোর রাজপাড়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের পূর্ব উলুবাড়িয়া শরীফ বাড়ির সন্তান। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেশনাল মাস্টার্স (এমএ ইন ইসলামিক স্টাডিজ), ১৪তম ব্যাচ (Fall-2026) ভর্তি পরীক্ষার লিখিত ও মৌখিক (ভাইভা) উভয় ধাপে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়ে তিনি চূড়ান্ত মেধাতালিকায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন।

তাঁর শিক্ষাজীবনের সূচনা হয় জানখালী উলুবাড়িয়া হামিদীয়া দাখিল মাদরাসায়। পরে তিনি মঠবাড়িয়া মোমেনিয়া দাখিল মাদরাসা থেকে জেএসসি এবং ঢাকার ঐতিহ্যবাহী দারুননাজাত সিদ্দিকিয়া কামিল মাদরাসা (তাখসীসি শাখা) থেকে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫.০০ ও এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৪.৮৬ অর্জন করেন। এরপর ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রথম শ্রেণিতে বিএ (স্নাতক) ডিগ্রি সম্পন্ন করেন।

তবে তাঁর এই সাফল্যের পেছনের গল্প মোটেও সহজ ছিল না। নিম্ন আয়ের পরিবারের সন্তান হওয়ায় উচ্চশিক্ষার পথে তাঁকে বারবার আর্থিক সংকটের মুখোমুখি হতে হয়েছে। একসময় অর্থাভাবে তাঁর লেখাপড়া প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। পরিবারের পক্ষে শিক্ষার ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়লেও তিনি হাল ছাড়েননি। মা-বাবার ত্যাগ, কঠোর পরিশ্রম, অদম্য ইচ্ছাশক্তি এবং মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে তিনি সব প্রতিকূলতা অতিক্রম করে আজকের এই সাফল্য অর্জন করেছেন।

বর্তমানে তিনি জরিপেরচর আলহাজ আব্দুল গনি দাখিল মাদরাসার (নূরানী শাখা) সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি নিজের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন বাস্তবায়নে নিরলসভাবে অধ্যবসায় চালিয়ে গেছেন।

নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, "আমি খুব সাধারণ ও নিম্ন আয়ের পরিবারে জন্মেছি। বাবা অনেক কষ্ট করে আমাকে এইচএসসি পর্যন্ত পড়িয়েছেন। এরপর আর্থিক সংকটের কারণে একসময় লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। কিন্তু আমার মা কখনো আমাকে ভেঙে পড়তে দেননি। তাঁর ত্যাগ, দোয়া ও অনুপ্রেরণা এবং মহান আল্লাহর অশেষ রহমতেই আজ আমি এই অবস্থানে পৌঁছাতে পেরেছি। এই অর্জন আমি আমার মা-বাবা, সম্মানিত শিক্ষক এবং সকল শুভাকাঙ্ক্ষীর প্রতি উৎসর্গ করছি।"

স্থানীয়দের ভাষ্য, ছোটবেলা থেকেই আমিনুল ইসলাম ছিলেন মেধাবী, বিনয়ী ও পরিশ্রমী। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও তিনি কখনো নিজের লক্ষ্য থেকে সরে দাঁড়াননি। তাঁর এই অর্জন মঠবাড়িয়াসহ সমগ্র পিরোজপুর জেলার শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
পরিবারের সদস্যরা বলেন, আমিনুলের এই অর্জন তাদের জীবনের অন্যতম বড় আনন্দ। তাঁরা মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করেছেন এবং তাঁর উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করেছেন।

দারিদ্র্য ও প্রতিকূলতাকে জয় করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি স্বনামধন্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মেধাতালিকায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন নিঃসন্দেহে মো. আমিনুল ইসলামের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তাঁর এই সাফল্য শুধু পরিবারের নয়, সমগ্র মঠবাড়িয়া উপজেলা ও পিরোজপুর জেলার জন্যও গর্বের বিষয়।

Share This Article

আরো পড়ুন  

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়