বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে শারীরিক সম্পর্কে শুধু পুরুষের শাস্তি কেন অবৈধ নয়

ডেস্ক রিপোর্ট। || বিএমএফ টেলিভিশন

প্রকাশিতঃ সকাল ০৯:৩১, বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩
ছবি: সংগৃহীত।

ছবি: সংগৃহীত।

বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে শারীরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শুধু পুরুষের শাস্তির বিধান কেন অবৈধ নয়, তা জানতে চেয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রতি রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। প্রাপ্তবয়স্কদের সম্মতিমূলক সম্পর্ককে ‘বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি’র অজুহাতে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করার বিধান কেন অবৈধ হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়।

একইসঙ্গে ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর মাধ্যমে সংযোজিত এ বিধান কেন সংবিধানবিরোধী, অকার্যকর ও বাতিল ঘোষণা করা হবে না, তাও জানতে চেয়েছেন আদালত।

ওই ধারায় বলা হয়েছে, দৈহিক বলপ্রয়োগ ছাড়া বিয়ের প্রলোভন দিয়ে ১৬ বছরের বেশি বয়সি কোনো নারীর সঙ্গে যৌনকর্ম করা এবং ওই সময় তার সঙ্গে আস্থাভাজন সম্পর্ক থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অনধিক সাত বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং এর অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবেন।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিচারপতি হাবিবুল গনির নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান।

এর আগে একই বিষয়ে করা রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট রুল জারি করেছিলেন। মঙ্গলবার সম্পূরক রুলের মাধ্যমে আদালত সংশোধিত আইনটির সাংবিধানিক বৈধতার প্রশ্নটি আরও স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

রিট আবেদনে বলা হয়, প্রাপ্তবয়স্কদের সম্মতিমূলক ব্যক্তিগত সম্পর্ককে ‘বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি’র ভিত্তিতে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করার বিধানটি অস্পষ্ট, বৈষম্যমূলক এবং সংবিধানে নিশ্চিত মৌলিক অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এ কারণেই বিধানটির সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।

রিটকারী পক্ষের আইনজীবী ইশরাত হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, প্রথমে আমাদের দেশে ধর্ষণজনিত অপরাধগুলোর বিচার ও শাস্তি হত দণ্ডবিধির ৩৭৫ ধারা অনুযায়ী। কিন্তু গত ৮-১০ বছর ধরে একটা ট্রেন্ড বা প্রচলন শুরু হয় যে, ‘বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ’ বলে মামলা দায়ের করা হচ্ছে। অর্থাৎ বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে সম্পর্ক করেছে এবং পরে বিয়ে করেনি; এটিকে ধর্ষণ হিসেবে দাবি করা হচ্ছে।

তার কথায়, যেহেতু আগের আইনটি আর নেই, তাই আমরা ২০২৬ সালের নতুন সংশোধনী আইনটিকে চ্যালেঞ্জ করে সম্পূরক হলফনামা দাখিল করি। আদালত মঙ্গলবার শুনানি শেষে আইনটি কেন অসাংবিধানিক ও বাতিল ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন।

Share This Article

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়