ধানদিয়ায় নির্মাণকাজের ৫৬টি প্লেন সিট চুরির অভিযোগ, পুকুর থেকে উদ্ধার ৩৮টি

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: || বিএমএফ টেলিভিশন

প্রকাশিতঃ বিকাল ০৫:৪২, বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩
ছবি: বিএমএফ টেলিভিশন।

ছবি: বিএমএফ টেলিভিশন।

সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার ধানদিয়া ইউনিয়নে নির্মাণকাজে ব্যবহারের জন্য রাখা ৫৬টি প্লেন সিট চুরির অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার প্রায় ১০ মাস পর অভিযুক্তদের বাড়ির পাশের একটি পুকুর থেকে ৩৮টি প্লেন সিট উদ্ধার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট দুপুর ১২টার দিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, এলাকাবাসী, রাজমিস্ত্রি, ঠিকাদার ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে পুকুরে তল্লাশি চালিয়ে এসব প্লেন সিট উদ্ধার করা হয়।

ওই ভবনের প্রধান রাজমিস্ত্রি মো. মোকলেছুর রহমানের দাবি, ধানদিয়া ইউনিয়নের তরিকুল ইসলাম তুতার বাড়িতে ছাদ ঢালাইয়ের কাজে ব্যবহারের জন্য তিনি ৫৬টি প্লেন সিট নিয়ে যান। কাজ শেষ হওয়ার পর মালামাল ফেরত নিতে গেলে তরিকুল ইসলামের ভাই, ভাইপো ও ভাবিরা তাকে জানান, সেখানে তার কোনো মালামাল নেই। পরে দীর্ঘদিন খোঁজাখুঁজির পর অভিযুক্তদের বাড়ির পাশের পুকুরে তল্লাশি চালিয়ে ৩৮টি প্লেন সিট পাওয়া যায় বলে দাবি করেন তিনি।

মোকলেছুর রহমান জানান, নির্মাণকাজের পাওনা টাকা পরিশোধ না করা, নির্মাণসামগ্রী আটক ও আত্মসাৎ, প্রতারণা এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করা হয়েছে।

মামলার নথি অনুযায়ী, অভিযুক্তরা হলেন ধানদিয়া গ্রামের কামরুল মোড়ল, হাবিবুল্লাহ মোড়ল, মো. আজমীর ও জিসান হাসান।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ২৩ অক্টোবর প্রতি বর্গফুট ২৩০ টাকা দরে নির্মাণকাজের চুক্তি হয়। কাজ শেষ করার পরও মোকলেছুর রহমানের ১ লাখ ৭৩ হাজার ৪২০ টাকা পাওনা রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি নির্মাণকাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন মালামাল আটকে রাখার অভিযোগও করা হয়েছে।

মামলার নথিতে পাওনা টাকা, নির্মাণসামগ্রী ও মালামালের ভাড়াসহ মোট ৬ লাখ ৬৭ হাজার ৭৪০ টাকা পাওনার দাবি করা হয়েছে। পাওনা টাকা ও মালামাল ফেরত চাইলে তাকে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

তবে অভিযুক্তদের একজন হাবিবুল্লাহ বলেন, আমরা এ বিষয়ে কোনো কিছুই জানি না।

একজন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বলেন, পুকুর থেকে উদ্ধার হওয়া ৩৮টি প্লেন সিট সেখানে কীভাবে গেল এবং চুরি বা আত্মসাতের সঙ্গে কারা জড়িত, তা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

ঘটনার তদন্তকারী কর্মকর্তা কলারোয়া থানার এসআই তুহিন জানান, তিনি বর্তমানে ছুটিতে রয়েছেন। তবে তদন্তে যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত হিসেবে প্রমাণিত হবে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, বাকি ১৮টি প্লেন সিট উদ্ধারের পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

Share This Article

আরো পড়ুন  

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়