শিরোনাম

২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে স্বর্ণের দামে ফের বড় পতন চট্টগ্রাম-৪ আসনে নতুন করে নির্বাচনের বিষয়ে যা বললেন অ্যাটর্নি জেনারেল জানি না এতো সম্পদ নিয়ে আমি কী করব: তামান্না ২৪ বছর পর নকআউট ম্যাচে পিছিয়ে পড়েও জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ল ব্রাজিল হরমুজ থেকে শুধু আমরাই মাইন অপসারণ করব: ইরান
ছবি: বিএমএফ টেলিভিশন।

লন্ডনে ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশন ইউকের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক প্রতিবাদ সমাবেশ

ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশন ইউকের উদ্যোগে মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় পূর্ব লন্ডনের ঐতিহাসিক আলতাব আলী পার্কে এক আন্তর্জাতিক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্প্রতি সংঘটিত রামিসা হত্যা, নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ, সাংবাদিক নির্যাতন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিভিন্ন ঘটনার প্রতিবাদে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

সংগঠনের সভাপতি আশিকুল ইসলাম আশিকের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক লাভলু লস্কর , ড. আজিজুল আম্বিয়া ও জাকির হোসেন সেলিমের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিবিসির সাবেক সাংবাদিক শামীম চৌধুরী। তিনি বলেন, একটি সভ্য ও গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য মানবাধিকার, আইনের শাসন এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি দেশে চলমান সহিংসতা, নারী নির্যাতন, সাংবাদিকদের ওপর হামলা এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।

বক্তারা বলেন, রামিসা হত্যাকাণ্ডসহ সাম্প্রতিক বিভিন্ন নৃশংস ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

এ সময় বক্তব্য রাখেন মানবাধিকার কর্মী আব্দুল আহাদ চৌধুরী, আ.স.ম. মিসবা, মুজিবুল হক মনি, নাজমিন সুলতানা শিখা, মোহন মিয়া, আব্দুল কুদ্দুস, জহিরুল ইসলাম, হুমায়ুন কবীর, জামাল আহমদ, আংগুর আলী, জাকির হোসেন সেলিম, ফয়সল আহমদ,  আব্দুল হেলাল চৌধুরী সেলিম, মতব্বির হোসেন চুনু, হুমায়ুন কবির, আব্দুল জলিল চৌধুরী, আব্দুর রব, ছইল মিয়া, রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি অধ্যক্ষ সাহেদ রহমান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বাছির, অ্যাডভোকেট বজলুর রশীদ, মুফতি আব্দুল ওদুদ, মুজিবুল হক মুজিব, ইমদাদুন খানম, জেসিকা চৌধুরী, রিপা আক্তার, শাহ লাভলী রহমান, জামিলা খানম, সাগর চৌধুরী মোহন, ময়না মিয়া, মকবুল হোসেন, নিজাম উদ্দিন, আব্দুস সাত্তার, নুরুল হক, মোহাম্মদ রুনু, সৈয়দ গোলাব মিয়া, আবুল হোসেন, একলিম মিয়া, নাজমুল হোসেন, জুবেল আহমদ বেলাল, শরীফ আলম, মো. গিয়াস উদ্দিন সোহাগ, সেলিম আহমেদ, রুমেল খান, মাসুম বিল্লাহ, আব্দুল হকসহ আরও অনেকে।

সমাবেশ শেষে বক্তারা বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার রক্ষা, বৈষম্য ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ জনমত গড়ে তোলা এবং গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তারা সকল ধরনের হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

বিনোদন

ছবি: সংগৃহীত।

জানি না এতো সম্পদ নিয়ে আমি কী করব: তামান্না

১৫ বছর বয়সে ‘চাঁদ সা রোশন চেহরা’ সিনেমা দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করেছেন তামান্না ভাটিয়া। এরপর অভিনয় জীবনের ২২টি বছর কাটিয়ে ফেলেছেন তিনি। ২০২৬ সালে ভারতীয় চলচ্চিত্র প্রেমীদের কাছে অতি পরিচিত একটি নাম তামান্না ভাটিয়া।

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অভিনয় করেছেন, ছবিতে আইটেম ডান্স করেছেন, একের পর এক পণ্যের বিজ্ঞাপনের মুখ হচ্ছেন, আবার তিনি নিজের ব্যবসাও চালাচ্ছেন। দুহাতে অর্থ উপার্জন করেছেন অভিনেত্রী। 

নিন্দুকেরা বলতেই পারেন, ৪০ বছরের উপান্তে এসে অর্থের পেছনে পাগলের মতো দৌড়াচ্ছেন অভিনেত্রী। কিন্তু তামান্না নিজে বলছেন, অর্থের প্রতি তার কোনো মোহই নেই। তিনি এসব কিছু করছেন, কেবল মাত্র একটি লক্ষ্যপূরণেই!

অভিনয় জীবনের ২২টি বছর কাটিয়ে ফেলেছেন তিনি। ২০২৬ সালে ভারতীয় চলচ্চিত্রপ্রেমীদের কাছে তিনি অতি পরিচিত একটি নাম। তাই সেই অর্থে সফলও। তবে তামান্নার মোট সম্পত্তির পরিমাণ শুনলে চমকে যেতে হবে। সম্প্রতি এ বিষয়ে প্রকাশ্যে আসা কিছু তথ্যে জানা গিয়েছে, তামান্না ১০০ কোটিরও বেশি অঙ্কের সম্পত্তির মালিক।

মুম্বাইয়ের অভিজাত এলাকায় তার একটি সাজানো গোছানো সমুদ্রমুখী বিরাট অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। যার বারান্দায় রয়েছে বিলাসবহুল জাকুজি। আছে ওয়াক ইন ক্লজেট। শুধু খাওয়ার জায়গাটির সাজসজ্জা দেখলেই বিস্মিত হতে হয়। দামি সব আসবাব আর চিত্রকলা তো রয়েছেই।

একা থাকেন। এতো সম্পদ নিয়ে করবেন কি? এক সাক্ষাৎকারে এ প্রশ্নের উত্তর দিয়ে তামান্না বলেছেন, জানি না এতো সম্পদ নিয়ে আমি কী করব। মৃত্যুর পর তো কেউ টাকা-পয়সা সঙ্গে করে নিয়ে যেতে পারে না। তবু আমার নিজের মধ্যে একটা ঝোঁক কাজ করে। আমি সেই ঝোঁকের মাথাতেই কাজ করতে থাকি। তার মানে এই নয় যে আমি টাকার পেছনে ছুটি।

চলতি বছরেই নিজের নতুন ব্যবসা শুরু করেছেন তামান্না। তৈরি করেছেন লাক্সারি জুয়েলারি ব্র্যান্ড ‘তামান্না ফাইন জুয়েলারি’। অর্থাৎ সফল অভিনেত্রী এখন উদ্যোক্তাও। ফলে শ্রীবৃদ্ধিও দ্বিগুণ। অর্থের জন্য যদি এসব না-ই করে থাকেন, তবে কী জন্য করছেন? 

তামান্না বলেছেন, আমার একটা অদ্ভুত লোভ আছে। আমি নিজেকে নতুন নতুন ভূমিকায় দেখতে ভালবাসি। আমি নিজের কাজের পরিধিকে আরও ছড়িয়ে দিতে ভালবাসি। আর এটাও মনে করি যে, কোনো কাজ করলে নিজেকে সীমাবদ্ধ না রেখে বৃহত্তর ক্ষেত্রে যতটা সম্ভব ছড়িয়ে দেওয়া উচিত। আমি সেটাই করি। অর্থাৎ তামান্না নিজের কাজ করতে থাকেন, শ্রীবৃদ্ধি আপনিই হতে থাকে।

তামান্নার দর্শনের সঙ্গে ‘থ্রি ইডিয়টস’ সিনেমার আমির খান অভিনীত রাঞ্ছোড়দাস চাঁচড়ের সংলাপের বড্ড মিল। সেও বলেছিল, বেটা কাবিল বন, কামইয়াবি ঝক মারকে পিছে ভাগেগি। অর্থাৎ যোগ্য হও, তাহলে সাফল্য এবং শ্রীবৃদ্ধি নিজেই এসে ধরা দেবে।


 

খেলা

ছবি: সংগৃহীত।

২৪ বছর পর নকআউট ম্যাচে পিছিয়ে পড়েও জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ল ব্রাজিল

জাপানের বিরুদ্ধে ২-১ ব্যবধানের নাটকীয় জয়ের পর স্বভাবসুলভ শান্ত ও আত্মবিশ্বাসী দেখা গেল ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তিকে। প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়ার পরও ম্যাচে ফিরে আসার ব্যাপারে তার মনে কোনো সন্দেহ ছিল না জানিয়েছেন এই ইতালিয়ান মাস্টারমাইন্ড। 

সঙ্গে প্রতিপক্ষের জন্য ব্রাজিল বসের প্রচ্ছন্ন সতর্কবার্তা—তার দল দিন দিন আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে। 

ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে বদলি খেলোয়াড় গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির শট জাপানি গোলরক্ষক জিওন সুজুকিকে পরাস্ত করে জালে জড়ালে উল্লাসে মেতে ওঠে ব্রাজিল শিবির, আর তাতেই ভেঙে যায় জাপানি সমর্থকদের হৃদয়। এই জয়ের মাধ্যমে টুর্নামেন্টের শেষ ১৬-র বাধা টপকে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করল সেলেসাওরা।

ম্যাচ শেষে ব্রাজিল কোচ আনচেলত্তি বলেন, ‘প্রথমার্ধের বিরতিতে আমি খেলোয়াড়দের ধৈর্য ধরতে বলেছিলাম, কারণ আমি জানতাম আজ হোক বা কাল আমরা গোল পাবই। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল আমাদের খেলার গঠন ও কৌশল বজায় রাখা। আমরা জানি আমরা সঠিক পথেই এগোচ্ছি এবং আমাদের এই ধারা বজায় রাখতে হবে।’ 

ম্যাচের প্রথমার্ধে কাইশু সানোর গোলে লিড নিয়েছিল জাপান। বিপরীতে ব্রাজিলের পারফরম্যান্স এতটাই অগোছালো ছিল যে, ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ ১৬ থেকে তাদের বিদায় নেওয়ার শঙ্কা জেগেছিল। তবে দ্বিতীয়ার্ধে খোলস ছেড়ে বের হয় রেকর্ড পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। 

দ্বিতীয়ার্ধের প্রথমে ক্যাসেমিরো গোল করে দলকে সমতায় ফেরান। এরপর অন্তিম মুহূর্তে মার্তিনেল্লির সেই জয়সূচক গোল। ২০০২ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারানোর পর এই প্রথম বিশ্বকাপের কোনো নকআউট ম্যাচে প্রথমে পিছিয়ে পড়েও জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ল ব্রাজিল। 

নিজেদের রণকৌশল নিয়ে আনচেলত্তির ব্যাখ্যা, ‘শুরুতে আমরা মাঝমাঠে আধিপত্য বিস্তার করে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে ঢোকার চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু ওদের মার্কিং খুব শক্ত থাকায় তা কাজ করেনি। তাই বিরতির পর আমরা বক্সে ক্রস বাড়িয়ে আক্রমণ করার কৌশল নিই। এটি আমাদের খেলার একটি ইতিবাচক বিবর্তন। শুরুতে জায়গা পেতে কষ্ট হলেও পরে আমরা সমস্যাটির দারুণ সমাধান করতে পেরেছি।’ 

ম্যাচে আরও একটি চমক জমিয়ে রেখেছিলেন ব্রাজিলিয়ান বস। তিনি জানান, ‘আমি নেইমারকে বলে রেখেছিলাম, একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আমরা সমতায় ফিরতে না পারলে আমি তাকে মাঠে নামাব।’ 

তবে আপাতত ৩৪ বছর বয়সি এই তারকার বিশ্বকাপ যাত্রা কেবল স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে নিশ্চিত জয়ের ম্যাচে বদলি হিসেবে খেলা ১৫ মিনিটেই সীমাবদ্ধ রইল।

প্রথমার্ধে জাপানের আধিপত্যের কথা মেনে নিলেও, আনচেলত্তির মতে এটিই ছিল গ্রুপ পর্বের যেকোনো ম্যাচের চেয়ে ব্রাজিলের সেরা পারফরম্যান্স। তিনি বলেন, ‘এটি আমাদের খেলা এখন পর্যন্ত সবচেয়ে পরিপূর্ণ ম্যাচ। মরক্কোর বিরুদ্ধে ড্র হওয়া ম্যাচটির মতো এবার আমরা প্রথমার্ধে খেই হারিয়ে ফেলিনি। ফুটবলে আপনাকে ভুগতে হবেই, এটাই নিয়ম। এতে নতুন কিছু নেই। কষ্ট সহ্য করা যেমন খেলার অংশ, তেমনি স্বস্তি পাওয়াটাও এর অংশ।’ 

এদিকে ম্যাচ হেরেও আত্মবিশ্বাসী জাপানের হেড কোচ হাজিমে মোরিয়াসু। 

আগামী বছরের এশিয়ান কাপ পর্যন্ত দায়িত্বে থাকার ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের মধ্যকার ব্যবধান এখন কমে আসছে। ব্রাজিল নিঃসন্দেহে শীর্ষ দল, তবে আমরাও নিশ্চিতভাবে সেই স্তরের কাছাকাছি পৌঁছাচ্ছি। ম্যাচে এমন কিছু মুহূর্ত ছিল যখন জাপান পুরোপুরি খেলা নিয়ন্ত্রণ করছিল এবং আমাদের রক্ষণভাগ আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী হয়েছে। তবে এই পরাশক্তিদের হারাতে হলে আমাদের আরও উন্নতি করতে হবে।’