শিরোনাম

ভারতে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির ষড়যন্ত করছে ‘দেশবিরোধী শক্তি’: কঙ্গনা অবশেষে ছেড়ে দেয়া হলো ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকে ইসরাইলের কাছে অস্ত্র বিক্রি বন্ধের দাবিতে যুক্তরাষ্ট্রে বিক্ষোভ মাঝপথ থেকে ফিরে এলো ইউএস-বাংলা, বাংলাদেশ থেকে রিয়াদের ৫ ফ্লাইট বাতিল সোমবার থেকে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু, মসজিদ-মন্দির-গির্জায় প্রচারণার নির্দেশ
ছবি: বিএমএফ টেলিভিশন।

বাংলাদেশ থেকে লিবিয়া—মানবপাচারের পর মুক্তিপণ আদায়

মানবপাচার চক্রের মূল হোতা মাদারীপুরের তাবিবুর রহমান ওরফে স্বপন মোল্লার নেতৃত্বে লিবিয়ার প্রধান মাফিয়া আশিক ওরফে ইমরান শেখ, বাংলাদেশি হাসান, বিষু মন্ডল, বাবু মোল্লা, গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরের সম্রাট শেখ ও কালু শেখের সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে লিবিয়ায় নির্যাতনের ভিডিও করে পরিবার থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

বাংলাদেশ থেকে লিবিয়া হয়ে ইউরোপে যাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মানবপাচারের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সাম্প্রতিক সময়ে লিবিয়ায় বাংলাদেশি নাগরিকদের আটক, নির্যাতন এবং পাচারকারীদের হাতে বন্দিত্বের ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। গত ১৮ আগস্টও লিবিয়ার গ্যানফুদা ডিটেনশন সেন্টারে আটক ১৭৪ বাংলাদেশি দেশে ফেরেন। (BSS⁠)

BMF News-এর অনুসন্ধানে উঠে এসেছে ভয়াবহ এক অভিযোগের চিত্র। ভুক্তভোগী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের দাবি, ইউরোপে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাসে বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন পথে লিবিয়ায় নেওয়ার পর কিছু বাংলাদেশিকে আটকে রাখা হয়। এরপর তাঁদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে সেই নির্যাতনের ভিডিও পরিবারের সদস্যদের কাছে পাঠানোর অভিযোগ রয়েছে।

পরিবারের কাছে পাঠানো এসব ভিডিও ও ফোনকলের মাধ্যমে স্বজনদের ভয় দেখিয়ে বড় অঙ্কের টাকা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। কোনো কোনো পরিবারের কাছ থেকে কয়েক দফায় লাখ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগী ও তাঁদের স্বজনদের অভিযোগে উঠে এসেছে মাদারীপুরের তাবিবুর রহমান ওরফে স্বপন মোল্লার নাম। তাঁর নেতৃত্বে লিবিয়ায় একটি সংঘবদ্ধ মানবপাচার সিন্ডিকেট কাজ করছে বলে অভিযোগ।

এই অভিযোগে আরও যাদের নাম এসেছে তারা হলেন—লিবিয়ার আশিক ওরফে ইমরান শেখ, বাংলাদেশি হাসান, বিষু মন্ডল, বাবু মোল্লা, গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরের সম্রাট শেখ এবং কালু শেখ।

তবে প্রতিবেদনে উল্লিখিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ স্বাধীনভাবে আদালতে প্রমাণিত হয়েছে—এমন দাবি করা হচ্ছে না। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযোজন করা হবে।

স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, লিবিয়ায় আটকে থাকা ব্যক্তিদের ওপর নির্যাতনের ভিডিও ধারণ করে তা পরিবারের কাছে পাঠানো হয়। ভিডিওতে স্বজনদের কান্নাকাটি, মারধর কিংবা শারীরিক নির্যাতনের দৃশ্য দেখিয়ে দ্রুত টাকা পাঠানোর চাপ সৃষ্টি করা হয় বলে অভিযোগ।

পরিবারগুলো অনেক সময় আতঙ্কের মধ্যে জমি-জমা বিক্রি, ধারদেনা কিংবা আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে দাবি করা অর্থ পাঠাতে বাধ্য হন বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন স্বজন।

লিবিয়া হয়ে ইউরোপে যাওয়ার পথে বাংলাদেশিদের পাচার ও আটকে রাখার বিষয়টি যে বাস্তব ও গুরুতর সমস্যা, সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনেও তার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। মে মাসে পূর্ব লিবিয়ার কর্তৃপক্ষ মানবপাচারকারীদের হাতে বন্দি ১২০ অভিবাসীকে উদ্ধারের কথা জানিয়েছিল; একই সময়ে বাংলাদেশি নাগরিকদের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাও প্রকাশ্যে আসে।

অনুসন্ধানে এমন পরিবারের সন্ধান পাওয়ার দাবি করা হচ্ছে, যাদের স্বজনরা লিবিয়ায় যাওয়ার পর দীর্ঘদিন নিখোঁজ বা যোগাযোগের বাইরে রয়েছেন। The Daily Star-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে শারিয়তপুর ও মাদারীপুরের অন্তত ২৩ তরুণের নিখোঁজ থাকার কথা উঠে এসেছে; তাঁদের পরিবার জানে না তারা ডিটেনশন সেন্টারে, পাচারকারীদের আস্তানায় নাকি ভূমধ্যসাগরে নিখোঁজ হয়েছেন।

অন্যদিকে, জুলাই মাসেও ১৭১ বাংলাদেশি নাগরিককে লিবিয়া থেকে দেশে ফেরানো হয়। তাঁদের প্রত্যাবাসন বাংলাদেশ সরকার, লিবীয় কর্তৃপক্ষ ও IOM-এর সহযোগিতায় সম্পন্ন হয়।

BMF News-এর অনুসন্ধানের পরবর্তী ধাপে খতিয়ে দেখা হচ্ছে—বাংলাদেশে কারা এসব যাত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করে, কীভাবে তাঁদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়, লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর কারা তাঁদের গ্রহণ করে, কোথায় তাঁদের আটকে রাখা হয় এবং পরিবারের কাছ থেকে আদায় করা অর্থ কোন মাধ্যমে স্থানান্তরিত হয়।

এ ছাড়া ভুক্তভোগীদের পাঠানো ভিডিও, অডিও রেকর্ড, মোবাইল নম্বর, টাকা পাঠানোর রসিদ, বিকাশ/ব্যাংক লেনদেনের তথ্য, পাসপোর্ট ও ভ্রমণসংক্রান্ত নথি সংগ্রহ করে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে।

BMF News-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে আসছে—মানবপাচারের এই নেটওয়ার্ক কীভাবে বাংলাদেশ থেকে লিবিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত, কারা এর সঙ্গে যুক্ত এবং কীভাবে নির্যাতন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে পরিবারের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
 

বিনোদন

ছবি: সংগৃহীত।

ভারতে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির ষড়যন্ত করছে ‘দেশবিরোধী শক্তি’: কঙ্গনা

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত আন্দোলন ও বিক্ষোভের তীব্র সমালোচনা করেছেন ক্ষমতাসীন বিজেপির সংসদ সদস্য ও অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউত। তার অভিযোগ, এই আন্দোলনের আড়ালে দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ‘দেশবিরোধী শক্তি’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন তিনি।

দিল্লির জন্তর মন্তরে প্রস্তাবিত একটি বিক্ষোভ ঘিরে শনিবার (১০ অক্টোবর) পুলিশ ব্যাপক ধরপাকড় চালানোর পর সাংবাদিকদের কাছে এমন প্রতিক্রিয়া জানান কঙ্গনা।

বর্তমানে হিমাচল প্রদেশের মান্ডি আসনের এই সাংসদ শনিবার সন্ধ্যায় লখনউ পৌঁছান। সেখান থেকে অযোধ্যায় রামমন্দিরে রামলালার দর্শনে যাওয়ার পথে তিনি বলেন, ‘দেখুন, কীভাবে মানুষ এখন এসব দেশবিরোধী শক্তিকে প্রকাশ্যে আনছে। পুলিশকে বাদ দিন, এখন সাধারণ মানুষও তাদের ধরবে এবং জবাব চাইবে। কারণ, মানুষ তাদের চিনতে শুরু করেছে।’

কথোপকথনের একপর্যায়ে দেশের সুরক্ষায় নিবেদিত শক্তিগুলোর প্রতি সংহতি জানান কঙ্গনা। তবে এমন পরিস্থিতিতে যেন সাধারণ নাগরিকদের কোনো ভোগান্তি না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখারও আহ্বান জানান তিনি।

বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটার তালিকা সংশোধনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। তাদের অভিযোগ, সংশোধনের নামে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। ভোটার তালিকা হালনাগাদে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে দলটি।

এই দাবির অংশ হিসেবে শনিবার দিল্লির জন্তর মন্তরে বৃহৎ পরিসরে আন্দোলনের ডাক দিয়েছিল সিজেপি। কিন্তু বিক্ষোভকারীরা সমাবেশস্থলে পৌঁছানোর আগেই তাদের শীর্ষ নেতাদের আটক করে পুলিশ। রাজধানীজুড়ে প্রায় ৬ হাজার মানুষকে আটক করা হয়, তবে পরে তাদের অধিকাংশকেই ছেড়ে দেওয়া হয়। অবশ্য অন্য একটি সূত্রের হিসাবে আটকের সংখ্যা প্রায় ৭ হাজার বলা হয়েছে।

সমাবেশ ঠেকাতে পুরো দিল্লিতে অন্তত ৪১ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়। পুলিশের এই অভিযানে চারজন সাবেক মুখ্যমন্ত্রীসহ সিজেপির নেতা-কর্মী, শিক্ষার্থী, আইনজীবী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা আটক হন।

রোববারও মধ্য দিল্লিতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বজায় রাখার ঘোষণা দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা এড়াতে জন্তর মন্তর এলাকা অবরুদ্ধ রাখা, প্রবেশপথে কড়া তল্লাশি চকি বসানো এবং ৩০টি স্থানে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এর মধ্যেই পুনরায় বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা দিয়েছে সিজেপি।

এদিকে মেট্রো ও ট্রেন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে একটি আইনি আবেদন সুপ্রিম কোর্টে জমা পড়েছে। সর্বোচ্চ আদালতের পূর্বের নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগে আনা এই আবেদনের ওপর শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

খেলা

ছবি: সংগৃহীত।

মেসি ও সুয়ারেজের জোড়া গোলে বড় জয় ইন্টার মায়ামির

আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের পর ইন্টার মায়ামির জার্সিতে প্রথম ম্যাচটি জোড়া গোলে রাঙালেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি। লুইস সুয়ারেজও তাল মিলিয়ে করলেন জোড়া গোল। যাতে ভর করে ডিসি ইউনাইটেডকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে ইন্টার মায়ামি।

মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) চলতি মৌসুমে সর্বোচ্চ ২৩তম গোল করলেন মেসি। গত মৌসুমেও ২৮ ম্যাচে ২৯ গোল ও ১৯ অ্যাসিস্টের পর ইন্টার মায়ামির অধিনায়ক এমএলএসে বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের (এমভিপি) পুরস্কার জিতেছেন। লিগটির ইতিহাসে প্রথম ফুটবলার হিসেবে টানা দু’বার এই পুরস্কার জেতা মেসি এবারও আছেন দুর্দান্ত ফর্মে।

চারদিন আগে আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষ ম্যাচ খেলা মেসি এদিন পুরো ৯০ মিনিট মাঠে ছিলেন। মায়ামির লিড বাড়ানোর পথে তিনি প্রথম ব্যক্তিগত গোলটি করেন ৪৭ মিনিটে। বন্ধু সুয়ারেজের ৬ গজ দূরত্ব থেকে দারুণভাবে বাড়ানো পাস এক স্পর্শে জালে জড়ান মেসি। ৬০ মিনিটে তিনি নিজের দ্বিতীয় এবং দলের স্কোরলাইন ৪-০ করেন।

রদ্রিগো ডি পলের কাছ থেকে বল পেয়ে ড্রিবলিংয়ে প্রতিপক্ষ ইউনাইটেডের দুজনকে কাটিয়ে গোলরক্ষক সিন জনসনকে পরাস্ত করেছেন ১২ গজ দূর থেকে। এর আগে অবশ্য মাত্র তৃতীয় মিনিটেই মায়ামিকে লিড এনে দেন সুয়ারেজ। ৩৯ মিনিটে মেসির শট বাধাপ্রাপ্ত হলে ফিরটি বলে শট নিয়ে জালে জড়ান উরুগুইয়ান তারকা।

এই ম্যাচ দিয়ে টানা পাঁচ ম্যাচ জয়হীন থাকার ধারায় অবসান ঘটাল মায়ামি। এর আগের পাঁচ ম্যাচের মধ্যে তারা ৪ ড্র ও একটিতে হেরেছিল। ২৯ আগস্ট সিএফ মন্ট্রিলকে ৭-১ ব্যবধানে বিধ্বস্ত করার পর এটিই ছিল মায়ামির প্রথম জয়। এ ছাড়া ১৬ সেপ্টেম্বর দায়িত্ব নেওয়া নতুন কোচ ক্রিস্টিয়ান গঞ্জালেসও এমএলএসে প্রথম জয়ের স্বাদ পেলেন। ৪৯ পয়েন্ট নিয়ে তার দল ইস্টার্ন কনফারেন্সের টেবিলে দ্বিতীয় এবং শীর্ষে থাকা ন্যাশভিলের পয়েন্ট ৬০।