রাঙ্গাবালীতে মাদক, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন

মোঃ হানিফ মিয়া রাঙ্গাবালী পটুয়াখালী প্রতিনিধি || বিএমএফ টেলিভিশন

প্রকাশিতঃ রাত ০৯:১৭, শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬, ২৯ ফাল্গুন ১৪৩২
ছবি: বিএমএফ টেলিভিশন।

ছবি: বিএমএফ টেলিভিশন।

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় "চল যাই যুদ্ধে  মাদকের বিরুদ্ধে" এই প্রতিপাদ্য নিয়ে প্রতিবাদ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।
শনিবার সকাল দশটায় উপজেলার বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের চর হালিম বাজারে মাদক বিরোধী প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন এলাকাবাসী।

এ সময় মাদক বিরোধী স্লোগাণ সম্মিলিত প্লেকার্ড হাতে প্রতিবাদ করতে দেখা যায়। "চল যাই যুদ্ধে মাদকের বিরুদ্ধে" এই প্রতিপাদ্য নিয়ে মানববন্ধনে স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন সিকদার বলেন আমাদের এলাকায় চিহ্নত মাদক ব্যবসায়ী আছে তারা দীর্ঘদিন যাবত গোপনে মাদক সেবন ও মাদকের ব্যবসা করে আসছেন। আমি এটা জানতে পেরে আমার ভাইকে দিয়ে গোপনে ভিডিও ধারণ করি। পরে তারা গোপন ভিডিওর বিষয় জানতে পেরে,  সন্ত্রাসী কায়দায় আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, দোকানে ভাংচুর ও লুটপাট করে টাকা পয়সা নিয়ে যায়। এ নিয়ে আমি থানায় অভিযোগ করি। এবং মাদক বিরোধী আন্দোলন গড়ে তুলি। এ কথা যানতে পেরে বড়বাইশদিয়া  ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনির উজ্জামান লোকজন পাঠিয়ে আমি এবং আমার ভাইদেরকে মারধর করে রক্তাক্ত করে এবং মাদক সেবনকারী অভিযুক্তরা তাহার ছত্রছায়ায় এখনো এলাকায় ঘোরাফেরা করতেছে। আমি আমাদের এমপি মহোদয় ও রাঙ্গাবালী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আঃ রহামান ফরাজির দৃষ্টি আকর্ষণ করছি তিনি যেন এর সুষ্ঠ বিচার করেন।

এ বিষয় স্থানীয় বিএনপি নেতা  শহিদুল শিকদার বলেন
মাদক ব্যবসায়ী স্বপন সিকদার, আলী আকবর, আনিচ ও ইসহাক এরা দীর্ঘদিন যাবত মাদক সেবন ও বিক্রয় করে আসছেন। ছোট ছোট ছেলেদের হাতে মাদক ধরিয়ে দিয়ে আমাদের সমাজটাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে।  আমরা এ নিয়ে প্রতিবাদ করলেও এরা উল্টো গায়ের দিকে আসে। আস্তে আস্তে দেখি অপরাধীদের দলে লোক বেশি । এদের অপরাধের পাল্লা ভাড়ি হয়ে যাচ্ছে। সমাজ থেকে মাদক চিরতরে নির্মূল করতে হলে প্রয়োজন ঐক্যের, তাই আমরা এলাকাবাসীদের নিয়ে এখানে দাড়িয়েছি। আমরা মাদক সেবন কঠিন বিচার চাই।

স্থানীয় চরহালিম মসজিদের ইমাম মাসুম আহম্মেদ বলেন, পবিত্র মাহে রমযান মাস ইবাদত বন্দিগিতে কাটাব। কিন্তু তা না করে মোবাইলে দেখলাম এরা গাজা সেবন করতেছে অথচ প্রশাসন এদেরকে কেন ধরতেছেনা? তারা যে দল করুক না কেন অতি দ্রুত আইনের আওতায় এনে কঠিন শাস্তির জোর দাবী করছি।

যানা গেছে আলী আকবর, ইসহাক,স্বপন ও আনিচুর স্থানীয় ওয়ার্ড যুবদল ও সেচ্ছাসেবক দলের রাজনীতির সাথে যুক্ত।

এছাড়া প্লেকার্ডে লেখা  স্বপন, আলী আকবরের আস্তানা, ভেঙে দেও গুরিয়ে দেও। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স। মাদক কে না বলুন সুষ্ঠু সুন্দর সমাজ গড়ুন।

এ বিষয় অভিযুক্ত স্বপন সিকদারের কাছে যানতে চাইলে তিনি বলেন অনেকদিন আগে আমরা টিকটক ভিডিও বানাতে গিয়ে মাদকের অভিনয় করি সেই ভিডিও কে ভিন্নখাতে প্রভাবিত করতে। আমাদেরকে রাজনৈতিক ও সামাজিক ভাবে ছোট করার জন্য একটি মহল এসব অপতথ্য ছড়িয়ে বেড়াচ্ছেন। আমরা এর তিব্র নিন্দা জানাই।

দ্বিতীয় অভিযুক্ত আলী আকবর ও একই মন্তব্য করে বলেন  ছয় বছর আগে আমরা একটা বিবাহ অনুষ্ঠানে মজার ছলে টিকটক ভিডিও বানানোর উদ্দেশ্যে একটা মাদকের সিনারি সুট করি। সেই ভিডিও টা দিয়ে আজকে আমাদেরকে সামাজিক ভাবে হয়রানি করার জন্য। একটি মহল  উঠে পরে লেগেছে । আমরা এর তিব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

মানববন্ধনে স্থানীয় নারী পুরুষ সমাজ সেবকসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।  

স্থানীয়দের দাবী সুষ্ঠু সমাজ ও জাতি হিসাবে দেশকে রক্ষা করতে হলে। সমাজে সবাইকে মাদক সেবন ও  মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াঁতে হবে। অপরাধী যতই শক্তিশালী হোক বা যে কোন দলেরই হোক না কেন, তাদেরকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে কঠিন শাস্তির জোর দাবী জানাচ্ছি।

Share This Article

আরো পড়ুন  

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়