শিরোনাম

ব্রিকসে যোগ দেওয়ার পর অসুস্থ চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট ‘দলে তার উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ নয়’, রোনালদোকে বাদ দিতে বললেন সাবেক তারকা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ সমাপ্তির পথে; তেহরানের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের দাবি ট্রাম্পের স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে না: গোলাম পরওয়ার সোলার সরঞ্জামে আমদানি শুল্ক কমাল সরকার
ছবি: বিএমএফ টেলিভিশন।

বাংলাদেশ থেকে লিবিয়া—মানবপাচারের পর মুক্তিপণ আদায়

মানবপাচার চক্রের মূল হোতা মাদারীপুরের তাবিবুর রহমান ওরফে স্বপন মোল্লার নেতৃত্বে লিবিয়ার প্রধান মাফিয়া আশিক ওরফে ইমরান শেখ, বাংলাদেশি হাসান, বিষু মন্ডল, বাবু মোল্লা, গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরের সম্রাট শেখ ও কালু শেখের সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে লিবিয়ায় নির্যাতনের ভিডিও করে পরিবার থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

বাংলাদেশ থেকে লিবিয়া হয়ে ইউরোপে যাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মানবপাচারের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সাম্প্রতিক সময়ে লিবিয়ায় বাংলাদেশি নাগরিকদের আটক, নির্যাতন এবং পাচারকারীদের হাতে বন্দিত্বের ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। গত ১৮ আগস্টও লিবিয়ার গ্যানফুদা ডিটেনশন সেন্টারে আটক ১৭৪ বাংলাদেশি দেশে ফেরেন। (BSS⁠)

BMF News-এর অনুসন্ধানে উঠে এসেছে ভয়াবহ এক অভিযোগের চিত্র। ভুক্তভোগী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের দাবি, ইউরোপে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাসে বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন পথে লিবিয়ায় নেওয়ার পর কিছু বাংলাদেশিকে আটকে রাখা হয়। এরপর তাঁদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে সেই নির্যাতনের ভিডিও পরিবারের সদস্যদের কাছে পাঠানোর অভিযোগ রয়েছে।

পরিবারের কাছে পাঠানো এসব ভিডিও ও ফোনকলের মাধ্যমে স্বজনদের ভয় দেখিয়ে বড় অঙ্কের টাকা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। কোনো কোনো পরিবারের কাছ থেকে কয়েক দফায় লাখ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগী ও তাঁদের স্বজনদের অভিযোগে উঠে এসেছে মাদারীপুরের তাবিবুর রহমান ওরফে স্বপন মোল্লার নাম। তাঁর নেতৃত্বে লিবিয়ায় একটি সংঘবদ্ধ মানবপাচার সিন্ডিকেট কাজ করছে বলে অভিযোগ।

এই অভিযোগে আরও যাদের নাম এসেছে তারা হলেন—লিবিয়ার আশিক ওরফে ইমরান শেখ, বাংলাদেশি হাসান, বিষু মন্ডল, বাবু মোল্লা, গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরের সম্রাট শেখ এবং কালু শেখ।

তবে প্রতিবেদনে উল্লিখিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ স্বাধীনভাবে আদালতে প্রমাণিত হয়েছে—এমন দাবি করা হচ্ছে না। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযোজন করা হবে।

স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, লিবিয়ায় আটকে থাকা ব্যক্তিদের ওপর নির্যাতনের ভিডিও ধারণ করে তা পরিবারের কাছে পাঠানো হয়। ভিডিওতে স্বজনদের কান্নাকাটি, মারধর কিংবা শারীরিক নির্যাতনের দৃশ্য দেখিয়ে দ্রুত টাকা পাঠানোর চাপ সৃষ্টি করা হয় বলে অভিযোগ।

পরিবারগুলো অনেক সময় আতঙ্কের মধ্যে জমি-জমা বিক্রি, ধারদেনা কিংবা আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে দাবি করা অর্থ পাঠাতে বাধ্য হন বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন স্বজন।

লিবিয়া হয়ে ইউরোপে যাওয়ার পথে বাংলাদেশিদের পাচার ও আটকে রাখার বিষয়টি যে বাস্তব ও গুরুতর সমস্যা, সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনেও তার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। মে মাসে পূর্ব লিবিয়ার কর্তৃপক্ষ মানবপাচারকারীদের হাতে বন্দি ১২০ অভিবাসীকে উদ্ধারের কথা জানিয়েছিল; একই সময়ে বাংলাদেশি নাগরিকদের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাও প্রকাশ্যে আসে।

অনুসন্ধানে এমন পরিবারের সন্ধান পাওয়ার দাবি করা হচ্ছে, যাদের স্বজনরা লিবিয়ায় যাওয়ার পর দীর্ঘদিন নিখোঁজ বা যোগাযোগের বাইরে রয়েছেন। The Daily Star-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে শারিয়তপুর ও মাদারীপুরের অন্তত ২৩ তরুণের নিখোঁজ থাকার কথা উঠে এসেছে; তাঁদের পরিবার জানে না তারা ডিটেনশন সেন্টারে, পাচারকারীদের আস্তানায় নাকি ভূমধ্যসাগরে নিখোঁজ হয়েছেন।

অন্যদিকে, জুলাই মাসেও ১৭১ বাংলাদেশি নাগরিককে লিবিয়া থেকে দেশে ফেরানো হয়। তাঁদের প্রত্যাবাসন বাংলাদেশ সরকার, লিবীয় কর্তৃপক্ষ ও IOM-এর সহযোগিতায় সম্পন্ন হয়।

BMF News-এর অনুসন্ধানের পরবর্তী ধাপে খতিয়ে দেখা হচ্ছে—বাংলাদেশে কারা এসব যাত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করে, কীভাবে তাঁদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়, লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর কারা তাঁদের গ্রহণ করে, কোথায় তাঁদের আটকে রাখা হয় এবং পরিবারের কাছ থেকে আদায় করা অর্থ কোন মাধ্যমে স্থানান্তরিত হয়।

এ ছাড়া ভুক্তভোগীদের পাঠানো ভিডিও, অডিও রেকর্ড, মোবাইল নম্বর, টাকা পাঠানোর রসিদ, বিকাশ/ব্যাংক লেনদেনের তথ্য, পাসপোর্ট ও ভ্রমণসংক্রান্ত নথি সংগ্রহ করে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে।

BMF News-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে আসছে—মানবপাচারের এই নেটওয়ার্ক কীভাবে বাংলাদেশ থেকে লিবিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত, কারা এর সঙ্গে যুক্ত এবং কীভাবে নির্যাতন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে পরিবারের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
 

বিনোদন

ছবি: সংগৃহীত।

কটাক্ষ থামানোর সহজ সমাধান দিলেন অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখার্জি

সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রল ও কটাক্ষের শিকার হওয়া বিনোদন জগতের তারকাদের জন্য যেন নিত্যদিনের ঘটনা। ওপার বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখার্জি। সেই নেতিবাচকতাকে গায়ে না মেখে কীভাবে সামলে নিতে হয়, তা বেশ ভালোভাবেই জানেন।

ট্রলকারীদের উদ্দেশ্যে কঠোর জবাব না দিয়েও কিভাবে তাদের মুখ বন্ধ করে দেওয়া যায় তা নিয়ে কথা বলেছেন। জি বাংলার জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শো ‘দিদি নম্বর ১’-এর মঞ্চে সহকর্মীদের সঙ্গে আড্ডায় ট্রল সামলানোর এই সহজ উপায় বা ‘রেমিডি’র কথা জানান স্বস্তিকা।

তিনি বলেন, ‘আমি শুধু তোমাদের একটা টিপসই দিতে পারি। লোকেরা যখন আমাদের কটু কথা বলে, তখন তারা আসলে আমাদের প্রতিক্রিয়া বা রিয়্যাকশন দেখতে চায়।’

স্বস্তিকার কথায়, ‘তারা চায় আমরা ক্ষুব্ধ হয়ে বলি কেন আমাকে এই কথা বললেন? আপনি কি জানেন আমি কতটা কাজ করেছি? কিন্তু আমার মনে হয়, এসব কথা বলে নিজের আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো প্রয়োজনই নেই।’

অভিনেত্রী আরও বলেন, ‘নেতিবাচক কমেন্টের সঙ্গে লড়াই করার সবচেয়ে বড় সমাধান হলো, যে যা বলছে তার সঙ্গে সোজা সহমত প্রকাশ করা। আপনি যদি তাদের মন্তব্যের সঙ্গে একমত হয়ে যান, তবে উল্টো দিকের মানুষটার আর নতুন করে কিছু বলার থাকে না। সেখানেই সব কথার সমাপ্তি ঘটে। তাই কেউ কটু কথা বললে আপনি বলবেন হ্যাঁ, আমি সেটাই! ব্যাস, তাহলেই সমস্যার সমাধান।’

খেলা

ছবি: সংগৃহীত।

‘দলে তার উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ নয়’, রোনালদোকে বাদ দিতে বললেন সাবেক তারকা

ক্লাব ও জাতীয় দলে পর্তুগিজ সুপারস্টার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর প্রয়োজনীয়তা ধীরে ধীরে কমে আসছে। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপেও পর্তুগাল জাতীয় দলে তার ফর্মহীন অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন ছিল। একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে সৌদি আরবের ক্লাব আল-নাসরেও। রোনালদো এখন আর ‘দলের প্রয়োজনে কিছু যোগ করতে পারছেন না’ উল্লেখ করে তাকে বাদ দেওয়ার আহবান জানালেন সাবেক তারকা ফুটবলার ফাহদ আল-হারিফি।

এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এলিটে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ক্লাব আল আইনের কাছে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছে আল-নাসর। এরপরই ক্লাবটির সাবেক সৌদিয়ান কিংবদন্তি আল-হারিফি রোনালদোকে একহাত নিয়েছেন। ‘দোরিনা ঘাইর’ নামে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘আল-নাসরের জন্য রোনালদো কোনো বাড়তি অবদান রাখেননি এবং ক্লাবের কাছে তার উপস্থিতির কোনো গুরুত্ব নেই। তাই এখনই তাকে বিদায় করা উচিত।’

বয়সের ভার এবং প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থতা সত্ত্বেও রোনালদোকে অধিনায়ক রেখে দল সাজানোর সিদ্ধান্তের জন্য তিনি আল-নাসরের তীব্র সমালোচনা করেন। আল-হারিফি বলছেন, ‘রোনালদো আল-নাসরকে বড় কোনো শিরোপা জেতাতে পারেননি, এমনকি তার মাধ্যমে ক্লাবের বিপণন বিভাগও লাভবান হচ্ছে না। তাহলে কেন ম্যানেজমেন্ট এখনও কেন তার ওপর ভরসা করে আছে? এমন একজন বয়োজ্যেষ্ঠ খেলোয়াড় যিনি দলের জন্য প্রয়োজনীয় অবদান রাখছেন না, অথচ বিনিময়ে কোনো সুফল ছাড়াই বিপুল পরিমাণ অর্থ নিচ্ছেন।’

আল-নাসরের চেয়ে ব্যক্তিগত লক্ষ্য পূরণেই রোনালদো এখন খেলছেন বলেও দাবি সাবেক এই সৌদি ফুটবলারের। পেশাদার ফুটবলে ১০০০তম গোল পূরণের মাইলফলকে পৌঁছাতে চান সিআরসেভেন। তিনি এখন দলের শিরোপা জয়ের চেয়ে সেই অবস্থানে যাওয়াকে প্রাধান্য দিচ্ছেন বলে মনে করেন আল-হারিফি।

এ প্রসঙ্গে তিনি ফরাসি তারকা করিম বেনজেমার ক্ষেত্রে আল-হিলালের নেওয়া পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেছেন। আল-হারিফি বলেন, ‘আল-নাসর রোনালদোর চেয়েও বড় একটি ক্লাব। বেনজেমার ক্ষেত্রে আল-হিলাল কী করেছিল তা আমরা দেখেছি। যখন তারা অনুভব করল যে ওই খেলোয়াড়টি প্রত্যাশিত উপযোগিতা দিতে পারছেন না, তখন তারা তাকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। পর্তুগিজ এই খেলোয়াড়ের ক্ষেত্রেও আমাদের একই পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।’

চলতি মৌসুমে আল-নাসরের অন্যতম কঠিন এক ম্যাচের পরই এমন মন্তব্য সামনে এলো। আল-আইনের কাছে ৪-০ ব্যবধানে পরাজয়ের ফলে রোনালদো এবং অ্যাঞ্জে পোস্তেকোগ্লুর কোচিং স্টাফের ওপর চাপ বেড়েছে অনেক। একইসঙ্গে দলের অধিনায়কের ভবিষ্যৎ এবং আগামী মাসগুলোতে তার ভূমিকা নিয়েও তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।