আদালতে আসাদুজ্জামান খানের ভগ্নিপতি বললেন, ‘আমি ছাত্রশিবির করতাম’
ডেস্ক রিপোর্ট। || বিএমএফ টেলিভিশন
সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের ভগ্নিপতি ও কুমিল্লার বরুড়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হামিদ লতিফ ভূঁইয়া কামাল দাবি করেছেন, তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না; বরং ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালতে জুলাই আন্দোলনের সময়ের একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর শুনানির সময় এ দাবি করেন তিনি।
আদালতের অনুমতি নিয়ে নিজের বক্তব্যে লতিফ ভূঁইয়া বলেন, ‘আসাদুজ্জামান খান কামাল আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। আর আমি ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলাম। বরুড়া উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আমি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার যখন প্রথমবার ক্ষমতায় আসে, তখন তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা করি। তার সঙ্গে যদি আমার ভালো সম্পর্ক থাকত, তাহলে কেন তার বাসায় যেতাম না।’
লতিফ ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর ভাটারা এলাকায় শামিম মিয়াকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা রয়েছে। ওই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা এসআই হাবিবুর রহমান।
এর আগে দুই মামলায় জামিন পেয়েছিলেন লতিফ ভূঁইয়া। তার আইনজীবী সাইফুল ইসলাম সোহাগ আদালতে বলেন, এক বছরের বেশি সময় ধরে তিনি কারাগারে রয়েছেন। দুই মামলায় জামিন পাওয়ার পর কারামুক্তির অপেক্ষায় থাকতেই নতুন করে এই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে।
আইনজীবীর দাবি, ঘটনাটি ২০২৪ সালের ১৯ জুলাইয়ের হলেও মামলা হয়েছে ২০২৫ সালে। এরপর ২০২৬ সালে এসে তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে। জামিন ঠেকাতেই তাকে নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন-অর-রশীদ বলেন, লতিফ ভূঁইয়া সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের পিএস ছিলেন এবং জুলাই আন্দোলন দমনে অর্থায়ন করেছেন। মামলার তদন্তে তার সম্পৃক্ততা পাওয়ায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
শুনানি শেষে আদালত লতিফ ভূঁইয়াকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ভাটারা থানার একশ ফুট এলাকা থেকে আন্দোলনকারীরা শাহবাগের দিকে যাওয়ার সময় তাদের ওপর হামলা ও গুলি চালানো হয়। এতে কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হন। আন্দোলনকারীদের উদ্ধার করতে গেলে শামিম মিয়ার বুক, ঠোঁট, গাল ও মাথায় গুলি লাগে। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা শেষে তিনি ভাটারা থানায় মামলা করেন।