তালাক না দিয়েই দৌলতপুরের এক ছেলেকে দ্বিতীয় বিয়ে।প্রবাসীর ৩৭ লাখ টাকা হাওয়া!বিদেশে হাড়ভাঙা খাটুনি, দেশে স্ত্রীর ডাবল গেম!'
বিএমএফ টেলিভিশন ডেস্ক || বিএমএফ টেলিভিশন
স্বামী প্রবাসে থাকার সুযোগে তাকে তালাক না দিয়েই কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের এক ছেলেকে বিয়ে এবং প্রায় ৩৭ লাখ টাকা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ঝিনাইদহের এক নারীর বিরুদ্ধে।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগী কুয়েত প্রবাসী স্বামী বিজ্ঞ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন, যা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।
মামলার বিবরণ ও নথিসূত্রে জানা যায়, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পার্কপাড়ার আবুবক্কর খাঁর ছেলে কুয়েত প্রবাসী শাহিন খান লিটুর সাথে শহরের আরাপপুরের মৃত আব্দুস সবুর খানের মেয়ে নাহিদা সুলতানার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
এরই ধারাবাহিকতায় ২০২২ সালের ৯ সেপ্টেম্বর তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
বিয়ের পর থেকেই স্ত্রীর উচ্চাভিলাষী চাহিদা পূরণ, পড়াশোনার খরচ, বিপুল পরিমাণ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কারসহ যাবতীয় ভরণপোষণ দিয়ে আসছিলেন লিটু।
ভুক্তভোগী লিটুর অভিযোগ, তার এই সরলতার সুযোগ নিয়ে নাহিদা সুলতানা চরম প্রতারণার আশ্রয় নেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর নাহিদা সুলতানা তার স্বামী শাহিন খান লিটুকে তালাক প্রদান করলেও সেই নোটিশ দীর্ঘকাল গোপন রাখেন এবং ২০২৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি তা প্রেরণ করেন।
অভিযোগ রয়েছে, তালাক প্রদান এবং নোটিশ প্রাপ্তির এই মধ্যবর্তী সময়েও কৌশলে প্রবাসী স্বামীর কাছ থেকে আরও কয়েক লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেন নাহিদা। সব মিলিয়ে আনুমানিক ৩৫ থেকে ৩৭ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে দাবি করেন বাদী।
আইনগত জটিলতা আরও ঘনীভূত হয় যখন দেখা যায়, ২০২৫ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি আগের তালাকটি চূড়ান্তভাবে কার্যকর হওয়ার আগেই নাহিদা সুলতানা কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর থানার ইসলামপুর গ্রামের মোঃ জাকারিয়া সরকারের সাথে দ্বিতীয়বার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন—যা দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী সম্পূর্ণ অবৈধ।
এই ঘটনায় ঝিনাইদহ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে মামলা দায়ের করা হয় (মামলা নম্বর: ৩৬৬/২৫)।
বাদী শাহিন খান লিটু বলেন, আমি বিদেশে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে, হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে টাকা উপার্জন করেছি। বিশ্বাস করে সব টাকা স্ত্রীর কাছে রেখেছিলাম। কিন্তু আমার সেই বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে সে আমার সংসার তচনচ করে দিয়েছে, আমার জীবনের সর্বস্ব কেড়ে নিয়েছে। আমি বিজ্ঞ আদালতের কাছে এই প্রতারণার সঠিক বিচার চাই।"
বাদী পক্ষের আইনজীবী এ্যাডভোকেট কে এম ফুরকান আলী জানান, আমরা আসামির বিরুদ্ধে সমস্ত তথ্য ও সাক্ষ্য-প্রমাণ আদালতের কাছে যথার্থভাবে উপস্থাপন করেছি। আইন লঙ্ঘন করে তালাক কার্যকর হওয়ার আগেই দ্বিতীয় বিয়ে এবং অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি স্পষ্ট। আমরা আশা করছি, বিজ্ঞ আদালত আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করবেন।"
অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে আসামি পক্ষের আইনজীবী এ্যাডভোকেট বদিউজ্জামান বদি বলেন:প্রবাসে যাওয়ার পর থেকেই মামলার বাদী শাহিন খান লিটু তার স্ত্রী নাহিদা সুলতানার সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
এক পর্যায়ে বাধ্য হয়েই নাহিদা সুলতানা সম্পূর্ণ বৈধ পন্থায় তালাক প্রদান করেন এবং আইন মেনেই অন্যত্র বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। আমরা আমাদের পক্ষের সকল তথ্য-প্রমাণ আদালতে দাখিল করেছি এবং ন্যায়বিচার পাবো বলে আশাবাদী।"
তালাক কার্যকর হওয়ার পূর্বেই দ্বিতীয় বিয়ে এবং প্রবাসীর বিপুল অর্থ আত্মসাতের এই ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে মামলাটি ঝিনাইদহ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।