ফেসবুকে বিজ্ঞাপনে ভালো বেতনে অস্ট্রেলিয়ায় চাকরি দেওয়ার প্রলোভনে ৬০ লাখ টাকা আত্মসাৎ মামলায় পিবিআই কর্তৃক মূল আসামীসহ মোট গ্রেফতার-০৩, আদালতে স্বীকারোক্তি

সাকিবুল হাসান শুভ বিশেষ প্রতিনিধি || বিএমএফ টেলিভিশন

প্রকাশিতঃ দুপুর ০১:২১, বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
ছবি: বিএমএফ টেলিভিশন।

ছবি: বিএমএফ টেলিভিশন।

অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চ বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র গত ০১/১১/২০২৫ খ্রিঃ হতে ০১/০৩/২০২৬ খ্রিঃ তারিখ পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে প্রায় ৬০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী মোহাম্মদ সামাল বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে সরাইল থানার মামলা নং-২২, তারিখ-১৫/০৩/২০২৬খ্রিঃ, ধারা- সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫ এর ২২ দায়ের করেন।

পিবিআই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা স্ব-উদ্যোগে মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে। পিবিআই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার এসআই (নিঃ) মোঃ শাহাদাত হোসেন মামলাটি তদন্তভার গ্রহণ করে। গত ০১/০৫/২০২৬ খ্রিঃ তারিখে চক্রের সক্রিয় সদস্য স্বপন কুমার রায় গ্রেফতার করা হয়। 

গ্রেফতারকৃত আসামী স্বপনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় পিবিআই এর তদন্তকারী কর্মকর্তা গত ১৭/০৫/২০২৬ খ্রিঃ তারিখে নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর থানা এলাকা থেকে সাইবার ও ভিসা প্রতারকচক্রের মূলহোতাসহ আরো ০২ জন মোঃ খাইরুল ইসলাম (২৪) এবং বিকাশ ডিএসও মোঃ জাবেদুল ইসলাম (৩৮) দ্বয়কে গ্রেফতার করে। এই নিয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রতারকচক্রের মূলহোতাসহ ০৩ জন আসামী গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। 

পিবিআইয়ের তদন্তে জানা যায় যে, আসামীগণ একটি সংঘবদ্ধ আন্তর্জাতিক সাইবার ও ভিসা প্রতারক চক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে প্রবাসীদের টার্গেট করে প্রতারণা চালায়। গ্রেফতারকৃত আসামী খাইরুল ইসলামকে মূল পলাতক আসামী প্রাণ ইসলাম বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়ে ‘আরিফ মন্ডল’ ছদ্মনামে ভুয়া সফলতার ভিডিও তৈরি করায়। ওই ভিডিও ও পোস্ট ফেসবুকে বুস্ট করে অস্ট্রেলিয়ায় কম খরচে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে। অপর আসামী জাবেদুল ইসলাম বিকাশ ডিএসও হিসেবে আত্মসাৎকৃত অর্থ ক্যাশ আউট ও অবৈধ লেনদেন গোপনে পরিচালনায় সহায়তা করে। তারা একই কায়দায় বর্ণিত মামলার বাদীর নিকট থেকে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা আত্নসাৎ করেছে। চক্রটি গত চার মাসে প্রায় ৭০-৮০ লক্ষ টাকার অবৈধ লেনদেন করেছে। গ্রেফতারকৃত ০৩ জন আসামীই মামলার ঘটনায় সাথে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করে এবং বিজ্ঞ আদালতে স্বেচ্ছায় ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।     

চক্রের অন্যান্য পলাতক সদস্যদের গ্রেফতার এবং আত্মসাৎকৃত অর্থ উদ্ধারে পিবিআই এর অভিযান অব্যাহত আছে।
মামলার তদন্ত অব্যাহত আছে।

Share This Article

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়