জনগণের সেবক নাকি ক্ষমতার দম্ভ? বিএনপি নেতাদের সঙ্গে ডিএসসিসি কর্মকর্তার রূঢ় আচরণে ক্ষোভ
নিজস্ব প্রতিবেদক | || বিএমএফ টেলিভিশন
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মকর্তা এয়ার কমান্ডার মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে বিএনপি নেতাদের সঙ্গে রূঢ় আচরণের অভিযোগ উঠেছে। খিলগাঁও থানা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক, যুবদলের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা এবং স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতার সঙ্গে তার আচরণ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গরুর হাট সংক্রান্ত একটি বিষয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতারা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি তাদের সঙ্গে অশোভন ও রূঢ় আচরণ করেন। উপস্থিত নেতারা নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয় দেওয়ার পরও তার আচরণে কোনো পরিবর্তন আসেনি বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বরং পরিচয় জানার পরও তিনি কঠোর ও অসম্মানজনক ভঙ্গিতে কথা বলেন বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয় বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, সরকারি কর্মকর্তারা জনগণের সেবক হলেও অনেক ক্ষেত্রে তারা সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক কর্মীদের সঙ্গে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে কথা বলেন। বিশেষ করে বিএনপি নেতাকর্মীদের পরিচয় পাওয়ার পর কোনো কোনো কর্মকর্তা বিরূপ মনোভাব দেখান—এমন অভিযোগও তুলেছেন তারা।
তাদের ভাষ্য, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম ও ত্যাগের মধ্য দিয়ে মাঠ পর্যায়ের রাজনৈতিক কর্মীরা জনগণের পাশে থেকেছেন। অথচ প্রশাসনিক দপ্তরে গিয়ে অনেক সময় তারা ন্যূনতম সম্মানটুকুও পান না। এ ধরনের আচরণ শুধু ব্যক্তিগত অপমান নয়, বরং গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রতিও অবজ্ঞা বলে মনে করছেন তারা।
বিএনপি নেতাকর্মীদের একটি অংশের দাবি, বিগত ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা রাজনৈতিক প্রভাবের ছায়ায় থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। সরকার পরিবর্তনের পরও তাদের অনেকের আচরণে সেই পুরোনো মানসিকতার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন—সরকারি কর্মকর্তা কি জনগণের সেবক, নাকি ক্ষমতার দম্ভ দেখানোর জন্য দায়িত্বে নিয়োজিত? তাদের মতে, সরকারি দপ্তরে আসা নাগরিক, জনপ্রতিনিধি বা রাজনৈতিক কর্মী—সবার সঙ্গে শালীন, সংযত ও পেশাদার আচরণ করা একজন কর্মকর্তার নৈতিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব।
সচেতন মহলের মতে, প্রশাসনের দায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যক্তিদের কথাবার্তা ও আচরণ অত্যন্ত মার্জিত হওয়া উচিত। কারণ একজন কর্মকর্তার আচরণ শুধু তার ব্যক্তিগত অবস্থানকে নয়, বরং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও সরকারের ভাবমূর্তিকেও প্রভাবিত করে। বিশেষ করে মাঠ পর্যায়ে রাজনৈতিক কর্মী ও প্রশাসনের মধ্যে সুস্থ সমন্বয় না থাকলে জনসেবা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজনৈতিক কর্মী, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখা জরুরি। কোনো কর্মকর্তা যদি রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কারও সঙ্গে বিরূপ আচরণ করেন, তা প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
স্থানীয় বিএনপি নেতারা এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। তারা বলেন, জনগণের টাকায় বেতনভুক্ত সরকারি কর্মকর্তাদের জনগণের সেবায় নিয়োজিত থাকার কথা। সেখানে রাজনৈতিক কর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তারা আরও বলেন, প্রশাসনে যারা এখনও পুরোনো রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার দম্ভ নিয়ে চলছেন, তাদের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজর দেওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় মাঠ পর্যায়ে প্রশাসন ও রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যে দূরত্ব আরও বাড়তে পারে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রত্যাশা, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আচরণবিধি কঠোরভাবে অনুসরণ নিশ্চিত করা এবং নাগরিক ও রাজনৈতিক কর্মীদের সঙ্গে সম্মানজনক আচরণের সংস্কৃতি গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।