পাহাড় কেটে ‘নতুন ক্যাম্পে’ ভাড়া বাণিজ্যের অসাধু সিন্ডিকেট, রোহিঙ্গা আটক
আলমগীর আকাশ টেকনাফ,কক্সবাজার || বিএমএফ টেলিভিশন
অদ্য ৮ ফেব্রুয়ারী-২৬ইং কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের নিবন্ধিত ক্যাম্পের বাইরে অবৈধভাবে নতুন ক্যাম্প গড়ে তুলেছে একটি অসাধু সিন্ডিকেট। পাহাড় কেটে তৈরি করা হয়েছে সাড়ে ৩শ মতো বসতি ঘর। রোহিঙ্গাদের ভাড়া দিয়ে প্রতিমাসে লাখ লাখ টাকা আদায় করা হতো বলে অভিযোগ উঠেছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাত্র চার ঘণ্টার যৌথ অভিযানে উখিয়ার বালুখালী এলাকা থেকে হাজারের বেশি রোহিঙ্গা শরনার্থীকে আটক করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।
উখিয়ার বালুখালীর মরাগাছতলা এলাকা চারপাশে পাহাড়ে ঘেরা হলেও ভেতরের চিত্র ছিল ভিন্ন রকম। পাহাড় কেটে সেখানে গড়ে তোলা হয়েছে শত শত বসতি, যেখানে হাজারো রোহিঙ্গা বসবাস করে আসছিল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি সিন্ডিকেট এসব বসতিতে রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে প্রতি মাসে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা করে ভাড়া আদায় করত। সেখানে আড়ালে চলতো বিভিন্ন মাদক ব্যবসাও।
রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে পুরো মরাগাছতলা এলাকা ঘিরে ফেলে যৌথ বাহিনী। অভিযান চালিয়ে অবৈধ বসতিগুলো তল্লাশি করলে শত শত রোহিঙ্গা বেরিয়ে আসেন। অনেকেই বাড়িতে তালা দিয়ে পালিয়ে যায়। তবে সাড়ে ৩শ বসতি থেকে হাজার রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়।
এ সময় বসতি ভাড়া দেয়া মালিক পক্ষের কয়েকজনকেও আটক করা হয়েছে বলে জানা যায়। তারা ভাড়া নিয়ে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সাধারণ জণগণ, প্রসাশনের অভিযানকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন,এইধরনের অভিযান আরও বেশি পরিচালনা করা হোক।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, ক্যাম্পের বাইরে অবৈধভাবে রোহিঙ্গাদের বসবাস একধরনের অপরাধ বাড়ার ঝুঁকি তৈরি করছে। রোহিঙ্গারা ক্যাম্পের বাইরে ভাড়া বাসা নিয়ে বসবাস করছে। আরো অনেক অজানা স্থানে পাহাড় কেটে অবৈধভাবে বসবাসরত ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে অনেক রোহিঙ্গা যা প্রসাশনের নজরদারি আরও বেশি অব্যাহত রাখলে আইনের আওতায় আসবে বলে মনে করছি।
কক্সবাজারের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনজু বিন আফনান বলেন, জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে এবং আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে জরিমানা করা হয়েছে।
আটক রোহিঙ্গাদের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনের মাধ্যমে পুনরায় ক্যাম্পে পাঠানো হচ্ছে। আটক সাতজনের মধ্যে পাঁচজনকে অর্থদণ্ড এবং মাদক ব্যবসার অভিযোগে দুজনকে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।