বাংলাদেশে বৈষম্য থাকবে না, ন্যায় বিচার কায়েম হবে - ডা. শফিকুর রহমান
মানজুরুল ইসলাম লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধিঃ || বিএমএফ টেলিভিশন
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, তিস্তা এ অঞ্চলের মানুষের অহংকার। কথা দিচ্ছি, তিস্তাকে আমার জীবন দিন। এখন তিস্তার নাম এক সাগর দুঃখ। আমরা কথা দিচ্ছি, যেকোনো মূল্যের বিনিময়ে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করব। তিস্তা হবে উত্তর অঞ্চলের অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দু। যে কোনো কিছুর বিনিময় হলেও আমরা তিস্তা মহা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবো। আমরা বুড়িমারী স্থল বন্দরের উন্নয়ন করবো। সড়ক পথ ও রেল পথের উন্নয়ন করা হবে।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় তিস্তা ব্যারাজ হেলিপ্যাড মাঠে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াত আমির এসব কথা বলেন।
আরও বলেন বলেছেন, বাংলাদেশে বৈষম্য থাকবে না, ন্যায় বিচার কায়েম হবে। ন্যায় বিচার কায়েম করতে বিচার বিভাগ দেখবে না, কে সাধারণ মানুষ, আর কে দেশের প্রেসিডেন্ট। সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষকে নিয়ে বাগান সাজানো হবে।
জামায়াতের আমারী আরো বলেন, একদল ভয়ে আছেন। ভয়ের কারণ নেই। আমরা ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করবো। আমরা সবাইকে নিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই। আমরা জীবন দিবো তবু আমার মা-বোনদের গায়ে হাত দিতে দিবো না। আমরা নারী জাতির নিরাপত্তা নিশ্চিত করবো।
তিনি বলেন, যারা সারা জীবন মানুষকে কষ্ট দিয়েছে, তারা এখন ভয় পাচ্ছে। আপনাদের ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই, ন্যায় বিচার সবার জন্য। এত দিন তোমাদের জীবন ছিল অপমানের, কারণ তোমরা ছিলে চোর, তোমরা জনগণের সম্পদ চুরি করেছো। এখন তোমাদেরকে বসাবো মর্যাদায়, তোমরা হবে দেশ গড়ার কারিগর, হালাল রুজি নিয়ে আমরাও যেমন বাঁচবো, তোমরাও তেমনি বাঁচবে।
তিনি বলেন, ওরা রাজনীতির নামে দুর্নীতি করেছে। দুনীর্তি আর রাজনীতি এক সাথে চলে না । ওদের রাজনীতি করার অধিকার নেই। আমরা দুর্নীতি মুক্ত বাংলাদেশ করবো।
তিনি কর্মকারী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনাদের যে বেতন সুবিধা দেওয়া হয়, তা মোটেও যথেষ্ট নয়। অর্থাৎ রাষ্ট্রই বাধ্য করছে সরকারি কর্মকর্তাদের দুর্নীতি করার জন্য। যে রাষ্ট্র তার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্মান দেখাতে পারে না, সেই রাষ্ট্র কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী অপরাধ করলে তাদের বিচারের অধিকার রাখে না। আগে তাদের সম্মান দিতে হবে, তারপর যদি কোনো অপরাধ করে, তাদের বিচারের আওতায় আনা হবে। আমরা বলি, এইটা আমাদের দেশ, আপনাদের সবার দেশ, সবাই মিলে গড়ব আগামীর বাংলাদেশ।
তিনি আরও বলেন, কেউ কেউ ভুল করে হোক, আর ইচ্ছাকৃতভাবে মায়েদের গায়ে হাত তুলে। আমরা তাদের পরিষ্কারভাবে জানাচ্ছি, প্রয়োজনে জীবন দিয়ে মায়েদের ইজ্জত কাউকে কেড়ে নিতে দেবো না। এ দেশের ৯ কোটি নারী আমাদের মা। এই মায়েদের আমরা শ্রদ্ধার আসনে বসাতে চাই। তারা শিক্ষা পাবে, পেশা নেবে, দেশ গঠনের দায়িত্ব নেবে। মায়েরা ঘরে, রাস্তায় ও কর্মস্থলে নিরাপদে কাজ করবে, সর্বোচ্চ মর্যাদার সঙ্গে।
তিনি গণভোট নিয়ে বলেন, আমাদের ভোট দুটি প্রথমে হ্যাঁ ভোট, পরে দাঁড়িপাল্লা। আগামী ১২ তারিখে আমরা প্রথমে হ্যাঁ ভোট দিয়ে শুরু করব। এ বিষয়ে তিনি আরও বলেন, কেউ কেউ প্রথমে না ভোটের পক্ষে কার্যক্রম শুরু করেছিল, কিন্তু পরে দেখেছে জনস্রোতে না ভোট ভেসে যাবে, খবর পয়ে তারা এখন হ্যাঁ ভোটের পক্ষে কথা বলেছে। অভিনন্দন ও মোবারকবাদ তাদেরকে।
পরে তিনি লালমনিরহাটের ৩টি ও নীলফামারীর ৪টি আসনের জামায়াত প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন। নির্বাচনী জনসভায় সভাপত্বি করেন লালমনিরহাট জেলা আমীর এ্যাড. আবু তাহের। বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর সূরা কমিটর সদস্য প্রভাষক আতাউর রহমান, লালমনিরহাট-৩ আসনের প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলামসহ অনান্য স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।