ছবি: সংগৃহীত।

তাইওয়ান ইস্যু: যুক্তরাষ্ট্র-চীন উত্তেজনায় পারমাণবিক সংঘাতের ঝুঁকি

তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে সম্ভাব্য সংঘাত পারমাণবিক উত্তেজনায় রূপ নিতে পারে বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (আইআইএসএস)। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) প্রকাশিত এক কৌশলগত মূল্যায়নে প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, এমন সংঘাত শুরু হলে উভয় দেশ প্রতিপক্ষের কমান্ড ও যোগাযোগব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে ব্যাপক সামরিক অভিযান চালাতে পারে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এশিয়ার বৃহত্তম বার্ষিক প্রতিরক্ষা সম্মেলন ‘শাংরি-লা ডায়ালগ’-এর আগে প্রকাশিত প্রতিবেদনে আইআইএসএস জানিয়েছে, বিশ্ব নতুন এক পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার দিকে এগোচ্ছে, যার কেন্দ্রবিন্দু এখন এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আঞ্চলিক দেশগুলো তাদের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার সম্প্রসারণ করছে। একই সঙ্গে পারমাণবিক অস্ত্রবিহীন দেশগুলোও দীর্ঘপাল্লার প্রচলিত হামলা সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। এতে বৈশ্বিক কৌশলগত স্থিতিশীলতা ঝুঁকির মুখে পড়ছে বলে মনে করছে প্রতিষ্ঠানটি।

চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জিয়াং বিন আইআইএসএসের মূল্যায়নকে বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে “অসামঞ্জস্যপূর্ণ” বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, তাইওয়ান ইস্যু পুরোপুরি চীনের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং এতে বিদেশি হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না। অন্যদিকে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং যুক্তরাষ্ট্রকে তাইওয়ান ইস্যুতে “সর্বোচ্চ সতর্কতা” অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছেন।

চলতি মাসের শুরুতে বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠকের পর তাইপেতে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, তাইওয়ানকে রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি কতটা দৃঢ়, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।

চীন বরাবরই তাইওয়ানকে নিজেদের অংশ হিসেবে দাবি করে আসছে এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের কথাও নাকচ করেনি। তবে বেইজিং “শান্তিপূর্ণ পুনঃএকত্রীকরণ”-কে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলছে। অন্যদিকে তাইওয়ান সরকার চীনের সার্বভৌমত্বের দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

আইআইএসএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য সংঘাতে চীনের লক্ষ্য হবে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের দূরে রাখা, আর যুক্তরাষ্ট্র চাইবে তাইওয়ানের প্রতিরোধ সক্ষমতা জোরদার করতে। তবে উভয় দেশের মধ্যে এখনো এমন কোনো কার্যকর নীতিমালা বা ‘গার্ডরেইল’ গড়ে ওঠেনি, যা সংঘাতকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করতে পারে।

প্রতিষ্ঠানটির জ্যেষ্ঠ গবেষক ড্যানিয়েল স্যালিসবারি বলেন, শীতল যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা চললেও চীনের সঙ্গে সে ধরনের কাঠামো এখনো গড়ে ওঠেনি। ফলে পারমাণবিক ঝুঁকি কমানোর ক্ষেত্রেও বড় ধরনের ঘাটতি রয়ে গেছে।

পেন্টাগনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে চীনের পারমাণবিক ওয়ারহেডের সংখ্যা এক হাজারে পৌঁছাতে পারে। বর্তমানে রাশিয়ার সক্রিয় পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে প্রায় ৪ হাজার ৪০০টি, যুক্তরাষ্ট্রের ৩ হাজার ৭০০টি এবং চীনের প্রায় ৬২০টি।


 

নিউজ বুলেটিন বিভাগের সব খবর