বাণিজ্য মেলায় পলিথিন-প্লাস্টিক সম্পূর্ন নিষিদ্ধ - বাণিজ্য উপদেষ্টা
নিজস্ব প্রতিবেদক || বিএমএফ টেলিভিশন
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেছেন, ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় এবার পলিথিন-প্লাস্টিক সম্পূর্ন নিষিদ্ধ। দেশীয় পণ্যের প্রচার, প্রসার, বিপণন, উৎপাদন ও বহুমুখীকরণে সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ১৯৯৫সাল থেকে ঢাকা আন্তর্জার্তিক বাণিজ্য মেলার আয়োজন করা হচ্ছে। গতকাল ৩জানুয়ারি শনিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) যৌথ উদ্যোগে পূর্বাচল উপশহরের ৪নম্বর সেক্টরের বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে আয়োজিত মাসব্যাপী এ মেলা ফিতা কেটে উদ্বোধনের পর আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেছেন, ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় এবার পলিথিন-প্লাস্টিক সম্পূর্ন নিষিদ্ধ। দেশীয় পণ্যের প্রচার, প্রসার, বিপণন, উৎপাদন ও বহুমুখীকরণে সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ১৯৯৫সাল থেকে ঢাকা আন্তর্জার্তিক বাণিজ্য মেলার আয়োজন করা হচ্ছে। গতকাল ৩জানুয়ারি শনিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) যৌথ উদ্যোগে পূর্বাচল উপশহরের ৪নম্বর সেক্টরের বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে আয়োজিত মাসব্যাপী এ মেলা ফিতা কেটে উদ্বোধনের পর আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ হাসান আরিফ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান, এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আবদুর রহিম খান, ইপিবি সচিব তরফদার সোহেল রহমান প্রমুখ।
উদ্বোধনী বক্তব্যে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন আরো বলেন, এবারের মেলায় ইপিবির কার্যক্রম ও রপ্তানি খাতের সক্ষমতা তুলে ধরতে নির্মাণ করা হয়েছে ‘এক্সপোর্ট এনক্লেভ’। থাকছে ৫২’র ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে আহত ও শহীদদের স্মরণে নির্মিত হয়েছে ‘বাংলাদেশ স্কয়ার’। মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী ও জুলাই আন্দোলনে আহতরা কার্ড প্রদর্শন সাপেক্ষে বিনামূল্যে মেলায় প্রবেশ করতে পারবেন। এবারের মেলায় ১১টি বিদেশীসহ ৩২৭টি স্টল ও প্যাভিলিয়ন রয়েছে। দেশীয় বস্ত্র, মেশিনারিজ, গৃহসামগ্রী, স্পোর্টস গুডস, স্যানিটারিওয়্যার, ক্রোকারিজ, মেলামাইন পলিমার, হারবাল ও টয়লেট্রিজ, ইমিটেশন জুয়েলারি, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, হোম ডেকর, পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়া ও চামড়াজাত দ্রব্য, ফার্নিচার, ইলেকট্রনিক্স, কসমেটিকস, হস্তশিল্প, খেলনা, প্রক্রিয়াজাত খাদ্যসহ নানা ধরণের পণ্য মেলায় প্রদর্শিত হচ্ছে।
বাণিজ্য মেলা কেবল পণ্য প্রদর্শনের স্থান নয়, এটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি। রপ্তানি বৃদ্ধি, বিনিয়োগ আকর্ষণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও শিল্পায়নের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা অর্থনীতিকে আরও টেকসই ও গতিশীল করে তোলে। এই মেলার মাধ্যমে একদিকে দেশীয় পণ্য আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সামনে উপস্থাপিত হয়, অন্যদিকে বিদেশি পণ্যের মান ও গুণগত দিক সম্পর্কে দেশীয় ব্যবসায়ী ও দর্শনার্থীরা বাস্তব ধারণা লাভ করেন।
বাণিজ্য মেলার ক্রেতা-দর্শনার্থীদের আসা-যাওয়ার সুবিধার্থে বিআরটিসির ডেডিকেটেড বাস সার্ভিস। মেলায় ই-টিকেটিং এর ব্যবস্থা করা হয়েছে। মেলায় প্রবেশ টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ৫০ টাকা এবং ১২ বছরের নিচে শিশুদের জন্য ২৫ টাকা। ব্যাংকিং সার্ভিসের জন্য মেলায় থাকবে পর্যাপ্ত সংখ্যক এটিএম বুথ। মা ও শিশুদের জন্য মেলায় থাকবে মা ও শিশু কেন্দ্র। এছাড়া রক্ত সংগ্রহ কেন্দ্র, মসজিদ, দর্শনার্থীদের বিশ্রামের জন্য আরামদায়ক ও শোভন চেয়ার/বেঞ্চ, সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য সিটিং কর্ণার ইত্যাদির ব্যবস্থা করা হয়েছে।
মেলায় সাধারণ দর্শনার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে কুড়িল বিশ্বরোড, ফার্মগেট (খেজুর বাগান/খামার বাড়ী), নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদী হতে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বাণিজ্য মেলার উদ্দেশ্যে বিআরটিসির ২০০টির বেশি ডেডিকেটেড শাটল বাস চলবে।
প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত, তবে সাপ্তাহিক ছুটির দিন রাত ১০টা পর্যন্ত মেলা চলবে। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, হংকং ও মালয়েশিয়ার ১১টি প্রতিষ্ঠান এবারের মেলায় অংশগ্রহণ করছে।
বিদেশী উদ্যোক্তা/প্রতিষ্ঠানের সুবিধার্থে থাকছে ইলেক্ট্রনিক্স ও ফার্নিচার জোন। সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য তৈরি করা হয়েছে সিটিং কর্ণার। শিশুদের নির্মল চিত্তবিনোদনের জন্য মেলায় থাকছে ২ টি শিশু পার্ক। পণ্য প্রসার ও বিপণনের জন্য মেলায় থাকছে উন্মুক্ত সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। মহিলা, প্রতিবন্ধী, কুটির/তাঁত/বস্ত্র/হস্ত শিল্পের উদ্যোক্তাদের সংরক্ষিত স্টল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
ক্রেতা-দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় সিসিটিভি স্থাপন করা হয়েছে। অগ্নি দুর্ঘটনা প্রতিরোধে মেলায় সার্বক্ষণিক নিয়োজিত থাকবে ফায়ার ব্রিগেড। পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য দুই শতাধিক পরিচ্ছন্নতা কর্মী সার্বক্ষণিক নিয়োজিত থাকবে। মেলায় খাদ্য দ্রব্যের মান নিয়ন্ত্রণের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্টেটের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ গঠিত টিম মেলা চলাকালীন প্রতিদিন ভেজাল বিরোধী মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করবে।
মেলায় আগত দর্শনার্থীদের জন্য সার্বক্ষণিক চিকিৎসক ও পেসেন্ট কেয়ার এটেনডেন্ট উপস্থিত থেকে ফ্রি প্রাথমিক চিকিৎসা ও চিকিৎসা পরামর্শ প্রদান করবে। মেলার থাকবে পর্যাপ্ত কার পার্কিং সুবিধা। ৫ শতাধিক গাড়ি পার্কিং সুবিধাসংবলিত দ্বিতল কার পার্কিং বিল্ডিং ছাড়াও এক্সিবিশন হলের বাইরে ৬ একর জমিতে এবং রাজউক এর গরুর হাট মাঠসহ ০৩টি বিস্তর পার্কিং এর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
দর্শনার্থীদের জন্য থাকছে পর্যাপ্ত টয়লেট, বিশ্রামাগার, সিনিয়র সিটিজেন কর্ণার, মা ও শিশু কেন্দ্র, শিশু পার্ক, চিকিৎসা সেবা, ব্যাংকিং ও এটিএম সুবিধা। খাদ্যমান নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।
উল্লেখ্য বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে এক দিনের সাধারণ ছুটি ও তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালনে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ১জানুয়ারির পরিবর্তে গতকাল ৩জানুয়ারি শনিবার উদ্বোধন করা হয়েছে।