বৃদ্ধ বয়সে শৈশবে ফেরার দিন, মেহেরপুরে প্রবীণদের মিলন মেলা ।

রাশেদ খান মেহেরপুর : || বিএমএফ টেলিভিশন

প্রকাশিতঃ সকাল ০৯:১৮, রবিবার, ৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ২০ পৌষ ১৪৩২
ছবি: বিএমএফ টেলিভিশন।

ছবি: বিএমএফ টেলিভিশন।

বয়সের ভারে নুয়ে পড়া মানুষ গুলো এক দিনের জন্য ফেলে আসা শৈশবে ফিরে গেলেন। বৃদ্ধকালে শৈশবের বন্ধুদের সাথে আনন্দ উৎসবে দিন কাটলো দেড় শতাধিক প্রবীনদের। এসব প্রবীণদের নিয়ে মিলন মেলা হয়ে গেলো মেহেরপুর সদর উপজেলার চকশ্যামনগর গ্রামে। আর এই আয়োজনে ছিলেন নবীন যুবকরা। 

 বয়সের ভারে নুয়ে পড়া মানুষ গুলো এক দিনের জন্য ফেলে আসা শৈশবে ফিরে গেলেন। বৃদ্ধকালে শৈশবের বন্ধুদের সাথে আনন্দ উৎসবে দিন কাটলো দেড় শতাধিক প্রবীনদের। এসব প্রবীণদের নিয়ে মিলন মেলা হয়ে গেলো মেহেরপুর সদর উপজেলার চকশ্যামনগর গ্রামে। আর এই আয়োজনে ছিলেন নবীন যুবকরা। 

প্রবীণদের এমনই এক শৈশবে ফিরিয়ে নিতে ব্যতিক্রমী আয়োজন হয়ে গেলো মেহেরপুরে। যেখানে গ্রামের ১১৫ বছর বয়সী সবচাইতে প্রবীণ ব্যক্তি আজিল হককে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। তার হাতে তুল দেওয়া হয় ক্রেস্ট। শনিবার (০৩ জানুয়ারি) সকাল ৮টার দিকে ফিতা কেটে দিনব্যাপী প্রবীণ মেলার উদ্বোধন করেন আজিল হক। এই হারিয়ে যাওয়া শৈশব আর বন্ধুত্বকে একদিনের জন্য হলেও ফিরিয়ে আনতেই মেহেরপুরের চকশ্যামনগর সমাজ কল্যাণ ফাউন্ডেশনের আয়োজনে করা হয়েছিল দিনব্যাপী প্রবীণ মেলা। যেখানে অংশ নেন এলাকার প্রায় দেড় শতাধিক প্রবীণ নারী-পুরুষ। 

তাদেরকে ফুল আর ভালোবাসায় বরণ করে নেয় তরুণ প্রজন্ম। এসময় চোখে চোখে মিশে যায় দুই প্রজন্মের আবেগ। মুহূর্তেই বদলে যায় পরিবেশ-নীরবতা ভেঙে শুরু হয় হাসি আর গল্পের ঝর্ণাধারা। 
অনেক বছর পর হারিয়ে যাওয়া বন্ধুকে কাছে পেয়ে আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়েন প্রবীণরা। কেউ বলেন স্কুলজীবনের গল্প, কেউবা ফিরে দেখেন যৌবনের স্মৃতির পাতা। আয়োজনের অংশ হিসেবে ছিলো নানা খেলাধুলা। এই বয়সেও প্রাণ খুলে খেলায় মেতে ওঠেন প্রবীণরা।

মনে হচ্ছিল-বয়স যেন থমকে গেছে, ফিরে এসেছে শৈশবের সেই আড্ডা। 
প্রবীণ আর নবীনের এই মিলনমেলায় প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। এ যেনো শুধুই একটি মেলা নয়-এ এক অনুভূতির উৎসব। খেলাধুলার পাশাপাশি ছিলো সকালের নাস্তা আর দুপুরের খাবার। ভাগাভাগি করে খাওয়ার সেই মুহূর্তেও ছিল বন্ধুত্ব আর ভালোবাসার উষ্ণতা।

খেলাধুলায় প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় পুরস্কার। তবে এই মেলায় সবচেয়ে বড় পুরস্কার ছিল-একটু হাসি, একটু আপন হওয়া।

মেলা উপলক্ষে সকালে কলাপাতায় ঐতিহ্যবাহী বাঙালিয়ানা খাবার চিড়া, দই, মুড়কি, গুড় ও রসগোল্লা দিয়ে নাস্তা করানো হয়। দুপুরে দেওয়া হয় মাংস, ভাত, সবজী আর ডাল। সব শেষে গ্রামের বিভিন্ন সময়ে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের জন্য আয়োজন করা হয় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত।

স্থানীয় প্রবীণ আব্দুর রহমান ও জামাল উদ্দীন অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, ছোট বেলায় খেলায় মেতে থাকতাম। মা বারবার বলতো খেয়ে নে, খেয়ে নে। তারপরেও যখন সাড়া দিতাম না তখন মা অনেক বকাবকি করতো। অনেকদিন পর আবার সেই রকম শৈশবে ফিরে গেলাম। 

তারা বলেন, অনেক আনন্দ করেছি ছেলেবেলার বন্ধুদের সাথে। অনেক গল্প, আড্ডায় মেতেছি। জানিনা, আবার সামনের বছরে এক সাথে হতে পারবো কিনা। গত বছরে আমাদের সাথে যারা ছিলো এবছর তাদের মধ্য থেকে ছয়জনকে হারিয়েছি।

আয়োজক কমিটির সদস্য  রকিবুল ইসলাম রকি বলেন, প্রবীণদের একঘেঁয়েমি দূর করতেই আমাদের এই আয়োজন। আমরা চাই, তারা এখানে এসে ফিরে পাক তাদের শৈশব, তাদের হারিয়ে যাওয়া বন্ধুদের।

দিন শেষে সবাই ফিরে যান নিজ নিজ ঘরে। কিন্তু রেখে যান ভালোবাসার গল্প। এই প্রবীণমেলা প্রমাণ করে-একটু সময়, একটু যত্নই ফিরিয়ে দিতে পারে জীবনের সবচেয়ে দামি হাসিটুকু।

Share This Article

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়