ধর্মপাশায় অনলাইন জুয়া ও পর্নোগ্রাফি বন্ধে থানায় অভিযোগ
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: || বিএমএফ টেলিভিশন
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় অনলাইন জুয়া, বেটিং ও পর্নোগ্রাফি সংক্রান্ত অবৈধ বিজ্ঞাপন ও আপত্তিকর কনটেন্ট প্রচারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন নাজমুল হক সজীব নামের এক সচেতন তরুণ। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার খলাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ও সাইবার সচেতনতা বিষয়ক তরুণ উদ্যোক্তা সজীব ধর্মপাশা থানায় এই অভিযোগ দায়ের করেন।
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় অনলাইন জুয়া, বেটিং ও পর্নোগ্রাফি সংক্রান্ত অবৈধ বিজ্ঞাপন ও আপত্তিকর কনটেন্ট প্রচারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন নাজমুল হক সজীব নামের এক সচেতন তরুণ। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার খলাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ও সাইবার সচেতনতা বিষয়ক তরুণ উদ্যোক্তা সজীব ধর্মপাশা থানায় এই অভিযোগ দায়ের করেন।
লিখিত অভিযোগে নাজমুল হক সজীব উল্লেখ করেন, বর্তমান সময়ে বিভিন্ন অনলাইন ও সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে দেশি-বিদেশি সংঘবদ্ধ চক্র প্রতিনিয়ত অবৈধ জুয়া, বেটিং এবং পর্নোগ্রাফি সংশ্লিষ্ট চটকদার বিজ্ঞাপন প্রচার করছে। এসব কনটেন্ট বাংলাদেশের প্রচলিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন এবং সামাজিক নৈতিকতা ও সাইবার সুরক্ষা নির্দেশিকার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এ ধরনের বিজ্ঞাপনের প্রলোভনে পড়ে যুবসমাজ বিপথগামী হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ চরম আর্থিক ও মানসিক ক্ষতির শিকার হচ্ছে। বিশেষ করে অনলাইন জুয়ার ফাঁদে পড়ে বহু পরিবার নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে এবং সমাজে অপরাধ ও প্রতারণার প্রবণতা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।
অভিযোগকারী জানান, এই অবৈধ প্রচারণা বন্ধে তিনি ইতিপূর্বে সংশ্লিষ্ট অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনজীবীর মাধ্যমে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছিলেন। বিশেষ করে মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার কলিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা আব্দুল মজিদ তালুকদারের ছেলে রাসেল মিয়াসহ সংশ্লিষ্টদের নির্ধারিত সময় বেঁধে দিয়ে নোটিশ পাঠানো হলেও তারা এই কার্যক্রম বন্ধ করেনি। কোনো প্রতিকার না পেয়ে এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে তিনি থানায় অভিযোগ করার সিদ্ধান্ত নেন।
এ বিষয়ে নাজমুল হক সজীব বলেন, "আমি পেশাগত কারণে অনলাইনে কাজ করতে গিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষের প্রতারিত হওয়ার ও চারিত্রিক অবক্ষয়ের চিত্র দেখতে পাই। তরুণ প্রজন্মকে এই সাইবার হুমকি থেকে রক্ষা করতে আমি ব্যক্তিগত উদ্যোগে কিছু ঠিকানা সংগ্রহ করে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু তারা সেটি আমলে না নেওয়ায় আমি আজ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। আমি চাই প্রশাসন দ্রুত এসব চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করুক।"
ধর্মপাশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদ উল্লাহ অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানান, অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। অনলাইনে এ ধরনের অবৈধ প্রচারণা ও সামাজিক অবক্ষয় রোধে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাইবার বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সজীবের মতো সচেতন নাগরিকদের এমন সাহসী পদক্ষেপ অনলাইন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।