মিসরে সমুদ্রগর্ভে চাপা পড়া প্রাচীন শহরের সন্ধান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। || বিএমএফ টেলিভিশন
মিসরের আলেকজান্দ্রিয়া উপকূলে সমুদ্রের তলদেশে প্রায় ২ হাজার বছরের পুরোনো একটি শহরের ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পেয়েছেন প্রত্নতাত্ত্বিকেরা। আবু কির উপসাগরের গভীরে ডুবে থাকা এই শহরটি প্রাচীন কানোপাস নগরীর সম্প্রসারিত অংশ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মিসরের আলেকজান্দ্রিয়া উপকূলে সমুদ্রের তলদেশে প্রায় ২ হাজার বছরের পুরোনো একটি শহরের ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পেয়েছেন প্রত্নতাত্ত্বিকেরা। আবু কির উপসাগরের গভীরে ডুবে থাকা এই শহরটি প্রাচীন কানোপাস নগরীর সম্প্রসারিত অংশ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দেশটির প্রত্নতত্ত্ববিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার পানির নিচ থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রাজপরিবারের মূর্তি, চুনাপাথরের তৈরি ভবনের ধ্বংসাবশেষ এবং পুরোনো ডকইয়ার্ডের অংশবিশেষ।
প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে, টলেমাইক রাজাদের শাসনামলে এই শহরটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ছিল। পরবর্তীতে রোমান সাম্রাজ্যের সময়ে এর আরও সমৃদ্ধি ঘটে। কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন ভূমিকম্প এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে ধীরে ধীরে এই শহরটি তলিয়ে যায়। একইভাবে পাশে থাকা বিখ্যাত বন্দরনগরী হেরাক্লিয়নও হারিয়ে যায়।
উদ্ধার অভিযানের কিছু ছবিতে দেখা যায়, বড় বড় ক্রেন দিয়ে পানির নিচ থেকে মূর্তি এবং ভবনের ধ্বংসাবশেষ তুলে আনা হচ্ছে। এ সময় উপস্থিত প্রত্নতাত্ত্বিক ও ডুবুরিদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়।
মিসরের পর্যটন ও পুরাকীর্তি বিষয়ক মন্ত্রী শেরিফ ফাতহি বলেন, সমুদ্রের তলদেশে আরও অনেক স্থাপনা রয়েছে, যা এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তিনি সেগুলোকে মিসরের ডুবে যাওয়া ঐতিহ্যের অমূল্য সম্পদ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
মানব সভ্যতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র আলেকজানিয়াও বর্তমানে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। জাতিসংঘের এক গবেষণা অনুসারে, জলবায়ু পরিবর্তনের বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যে শহরটির এক-তৃতীয়াংশ হয় ডুবে যাবে, নয়তো বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে।
সূত্র: এএফপি