নুরের ওপর হামলার প্রতিবাদে ইবিতে বিক্ষোভ
ইবি প্রতিনিধি। || বিএমএফ টেলিভিশন
জুলাই ২০২৪-এর অগ্রনায়ক, ডাকসুর সাবেক সহ-সভাপতি (ভিপি) এবং গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের ওপর যৌথবাহিনীর অতর্কিত হামলার প্রতিবাদে এবং আওয়ামী ফ্যাসিবাদের সহযোগী দল জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) বিক্ষোভ মিছিল করেছে শিক্ষার্থীরা।
জুলাই ২০২৪-এর অগ্রনায়ক, ডাকসুর সাবেক সহ-সভাপতি (ভিপি) এবং গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের ওপর যৌথবাহিনীর অতর্কিত হামলার প্রতিবাদে এবং আওয়ামী ফ্যাসিবাদের সহযোগী দল জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) বিক্ষোভ মিছিল করেছে শিক্ষার্থীরা।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) রাত ১১টা ৩০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রধান ফটকে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়।
এসময় শিক্ষার্থীদের— ‘জুলাই যুদ্ধ আহত কেন, প্রশাসন জবাব দে’, ‘দিয়েছি তো রক্ত, আরও দেব রক্ত’, ‘আপা গেছে যেই পথে, জাপা যাবে সেই পথে’, ‘নুরের ওপর হামলা কেন, ইন্টেরিম জবাব দে’—সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী অর্নব বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যদি এখনো ভেবে থাকে— যে তারা ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম করবে, তবে তা দিবাস্বপ্ন ছাড়া কিছু নয়। আজকে আইন উপদেষ্টা কেবল প্রতিবাদ জানালেন, কিন্তু কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিলেন না— এটা জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা। সিটিং মিনিস্টার কিভাবে ব্যবস্থা না নিয়ে কেবল প্রতিবাদ জানাতে পারেন? জাতীয় পার্টি নির্বাচনের আগে ভারতে গিয়ে তিনটি চুক্তি করেছিল, সেই চুক্তিগুলো প্রকাশ করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘একজন জাতীয় নেতা নুরুল হক নুরের ওপর হামলা এটাই প্রমাণ করে যে ইন্টেরিম সরকারে এখনো ফ্যাসিবাদীরা সক্রিয়। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকতে ভারত ও তাদের বিশ্বস্ত সেনাপ্রধানকে ব্যবহার করে ফ্যাসিবাদ চালু রেখেছিল। আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক উইং নির্মূল না করা পর্যন্ত তাদের রাজনৈতিক আধিপত্যও নির্মূল হবে না।’
অর্নব বলেন, ‘এই ঘটনায় হামলাকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আবারও ফ্যাসিস্টদের দাপট ফিরে আসতে পারে। আমরা জোর দাবি জানাই— আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক উইং এবং জাতীয় পার্টির ফ্যাসিস্ট আমলের নেতাদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে হবে।’
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন ইবির সাবেক সমন্বয়ক এস এম সুইট বলেন, ‘নুর শুধু ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের অগ্রনায়ক নন, তিনি ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনেরও নেতৃত্ব দিয়েছেন। ২০১৮ থেকে বর্তমান পর্যন্ত তিনি ভারতীয় আধিপত্যবাদ ও আওয়ামী ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সরব। নুরের ওপর হামলা আসলে জুলাই অভ্যুত্থানকারীদের ওপর হামলারই পূর্বাভাস। আমি ব্যক্তিগতভাবে সেনাবাহিনীকে এখনো সন্দেহের চোখে দেখি। ইন্টেরিম সরকারের উচিত অবিলম্বে হামলায় জড়িত পুলিশ ও সেনা সদস্যদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা। তা না হলে আবারও দেশে অভ্যুত্থানের ঝুঁকি তৈরি হবে।’