এনসিপির ৫ নেতা গ্রেপ্তার

ডেস্ক রিপোর্ট। || বিএমএফ টেলিভিশন

প্রকাশিতঃ বিকাল ০৫:৫৩, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩
ছবি: সংগৃহীত।

ছবি: সংগৃহীত।

দিনাজপুরে এক কৃষককে অপহরণ করে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে করা মামলায় জাতীয় যুব নাগরিক শক্তির (এনসিপির যুব শাখা) পাঁচ নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার (৬ জুলাই) সন্ধ্যায় শহরের গোরে শহীদ ময়দান এলাকা থেকে একটি সাদা প্রাইভেটকারসহ তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) আদালতে হাজির করার পর বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন—জাতীয় যুব নাগরিক শক্তির রংপুর বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আরিফ মুন (২৯), হাসিন ইশরাক মিম (২২), আজমির হোসেন (২২), সাজিদুল মিনহাজ (২৬) ও হৃদয় হোসেন (২২)।

পুলিশ জানায়, এক কৃষককে অপহরণ করে তার পরিবারের কাছে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পক্ষের দায়ের করা মামলার তদন্তের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ওই পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এ ঘটনায় আব্দুস সামাদের ছেলে মো. মামুন (৩৬) বাদী হয়ে মধ্যরাতে আটক পাঁচজনসহ আরও ১০ থেকে ১২ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে অপহরণ ও চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার ২ নম্বর সুন্দরবন ইউনিয়নের খোশালপুর পুকুরপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুস সামাদ (৫৯) গত ৫ জুলাই রাত ৯টার দিকে মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোন নিয়ে সদর উপজেলার পল্লিবিদ্যুৎ পাঁচ মাইল এলাকায় তার দ্বিতীয় স্ত্রী রেনু বেগমের বাড়িতে যান। সেখানে অভিযুক্তরা ও তাদের সঙ্গে থাকা আরও ১০ থেকে ১২ জন তাকে, তার নাতি রিফাত ইসলাম (১৪) এবং অন্যদের মারধর করে। পরে ভয়ভীতি দেখিয়ে আব্দুস সামাদকে তার মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোনসহ অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়, পরদিন ৬ জুলাই দুপুর দেড়টার দিকে অপহরণকারীরা পরিবারের সদস্যদের ফোন করে জানায়, আব্দুস সামাদকে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখা হয়েছে। তাকে মুক্তি দিতে হলে ১২ লাখ টাকা দিতে হবে। গোরে শহীদ ময়দানে টাকা পৌঁছে দিলে তাকে মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোনসহ ছেড়ে দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়।

বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে কোতোয়ালি থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে সোমবার সন্ধ্যায় গোরে শহীদ ময়দান এলাকা থেকে একটি সাদা প্রাইভেটকারসহ পাঁচজনকে আটক করে। এ সময় অপহৃত আব্দুস সামাদকে উদ্ধার করা হয়। তার মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোনও উদ্ধার করে পুলিশ।

ঘটনার পর এনসিপির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা কোতোয়ালি থানায় গিয়ে আটক ব্যক্তিদের ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। খবর পেয়ে ছাত্রদল ও বিএনপির নেতাকর্মীরাও থানায় অবস্থান নেন। এ সময় এনসিপির কয়েকজন নেতাকর্মী সংবাদকর্মীদের সঙ্গে অসদাচরণ করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সোমবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরনবী সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে জানান, মামলায় আটক পাঁচজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে এবং আরও ১০ থেকে ১২ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। মঙ্গলবার তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।


 

Share This Article

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়