সুদানে যুদ্ধে ৬ মাসে ৩০০-এর বেশি শিশু হতাহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। || বিএমএফ টেলিভিশন

প্রকাশিতঃ বিকাল ০৩:২৭, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩
ছবি: সংগৃহীত।

ছবি: সংগৃহীত।

সুদানে চলমান গৃহযুদ্ধে গত ছয় মাসে অন্তত ৩০০-এর বেশি শিশু নিহত বা আহত হয়েছে। এর বেশিরভাগই ড্রোন হামলার শিকার। 

সোমবার ( ৬ জুলাই ) জাতিসংঘের শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) এ তথ্য জানিয়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিতে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

জাতিসংঘের তথ্যানুযায়ী, এ পর্যন্ত সুদানের সংঘাতে অন্তত ৫৯ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন প্রায় এক কোটি ৩০ লাখ মানুষ এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চল ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের মুখে পড়েছে। বর্তমানে ৩ কোটিরও বেশি মানুষের জরুরি মানবিক সহায়তা প্রয়োজন।

২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানের সেনাবাহিনী এবং আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-এর মধ্যে সংঘাত চলছে। বর্তমানে উত্তর ও দক্ষিণ করদোফান, দারফুর এবং ব্লু নাইল অঞ্চলে লড়াই সবচেয়ে তীব্র। ইউনিসেফের তথ্যানুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে সংঘর্ষে হতাহতদের প্রায় ৬০ শতাংশই ড্রোন হামলার কারণে হয়েছে।

জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশ উত্তর করদোফানের কৌশলগত শহর এল-ওবেইদকে ঘিরে সম্ভাব্য মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নৃশংসতা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। এদিকে জেনেভায় জাতিসংঘ-সমর্থিত মানবাধিকার পরিষদ পাঁচটি ইউরোপীয় দেশের উত্থাপিত একটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছে, যাতে এল-ওবেইদ ও আশপাশে আরএসএফ এবং তাদের মিত্রদের সহিংসতার নিন্দা জানানো হয়েছে। 

একই সঙ্গে সুদান থেকে পালিয়ে যাওয়া শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়া দেশগুলোর প্রতি আরও সহায়তার আহ্বান এবং যুদ্ধে সব ধরনের বিদেশি হস্তক্ষেপেরও নিন্দা জানানো হয়েছে।

ড্রোন হামলা ও গোলাবর্ষণে স্কুল, বাজার, জ্বালানি ডিপো এবং পানি সরবরাহ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে অন্তত পাঁচ লাখ মানুষের জীবন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। কিছু এলাকায় বাসিন্দারা এক বছরেরও বেশি সময় ধরে কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় জীবনযাপন করছেন।

ইউনিসেফের সুদান প্রতিনিধি শেলডন ইয়েট বলেন, শিশুরা অবিরাম সহিংসতা, বাস্তুচ্যুতি ও বঞ্চনার এক ভয়াবহ চক্রে আটকে পড়েছে। তিনি সংঘাতে জড়িত সব পক্ষের প্রতি বেসামরিক মানুষ ও অবকাঠামো রক্ষা, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং বাধাহীন মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর আহ্বান জানান।

এদিকে সোমবার সুদানের মিসর সীমান্তবর্তী ওয়াদি হালফা এলাকায় পরিত্যক্ত একটি স্বর্ণখনির অংশ ধসে অন্তত ১৫ জন অনানুষ্ঠানিক খনি শ্রমিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও একজন। নিরাপত্তাজনিত কারণে খনিটি আগেই বন্ধ ঘোষণা করা হলেও শ্রমিকরা সেখানে পুনরায় খননকাজ শুরু করেছিলেন বলে জানিয়েছে সুদানের রাষ্ট্রীয় খনিজ সম্পদ কোম্পানি।


 

Share This Article

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়