রাঙ্গাবালীতে প্রেমের সম্পর্কের জেরে যুবকের আত্মহত্যার চেষ্টা, ছেলের পক্ষের সংঘর্ষে আহত ২
রাঙ্গাবালী পটুয়াখালী প্রতিনিধি || বিএমএফ টেলিভিশন
পটুয়াখালী জেলার রাঙ্গাবালী উপজেলায় মোবাইলে দীর্ঘদীন সম্পর্কের জের ধরে যুবকের আত্মহত্যার চেষ্টা, পরে মেয়ের বাড়িতে ছেলে পক্ষের হামলায় আহত ২, ঘড়বাড়ি ভাংচুর লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার রাত ৮ টায় উপজেলার বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের গাববুনিয়া গ্রামে সৌরভ হাওলাদার নামের এক যুবকের সাথে একই গ্রামের বাসিন্দা রাহিমা বেগমের সাথে মোবাইল ফোনে সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে যানা যায়। সম্পর্কের এক পর্যায়ে বিষয়টি উভয় পক্ষের পরিবারের মধ্যে যানাযানি হলে রাহিমার বাবা রফিক গাজী তার মেয়েকে অন্য জায়গায় বিবাহ দিয়ে দেন। পরে ছেলে সৌরভ হাওলাদার মেয়ের ফোনে বারবার ফোন দিয়ে ডিস্টার্ব করতে থাকে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রাহিমার বাবা রফিক গাজী ঐ ছেলেকে ফোনে গালিগালাজ করেন বলে যানা যায়। পরে ছেলে সৌরভ হাওলাদার গত রাত আনুমানিক ৮ টার দিকে নিজ বাড়ির পাশের একটি গাছের সাথে রশি দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করলে স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে অসুস্থ অবস্থায় কলাপাড়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এ দিকে সৌরভের মামা রুবেল গাজীর নেতৃত্বে ৮/১০ জন মিলে ঐ রাত ৯ টার সময় সন্ত্রাসী কায়দায় রাহিমার বাড়িতে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই রাহিমার বাবা রফিক গাজীর মাথায় আঘাত পেয়ে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়ে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। এ ছাড়াও রাহিমার মা, দাদা, দাদীসহ কয়েকজন আহত হন। পরে রফিক গাজীকে উদ্ধার করে স্থানীয় লোকজন দ্রুত গালাচিপা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে তার অবস্থার অবনতি দেখে কর্তব্যরত চিকিৎসক বরিশাল রেফার করেন। বর্তমানে তিনি বরিশাল শেরেবাংলায় চিকিৎসারত আছেন বলে যানা যায়।
প্রত্যক্ষদর্শী রফিক গাজীর স্ত্রী বলেন, আমরা গরিব মানুষ গত দুই দিন আগে আমার মেয়েকে বিবাহ দিয়ে দেই, আমার মেয়ের সাথে সৌরভের সম্পর্কের গুঞ্জন একতরফা আমার মেয়ের সৌরভের সাথে কোন সম্পর্ক নাই। তারপরেও বার বার সৌরভ আমার বিবাহিত মেয়েকে ফোনে ডিস্টার্ব করত। এর রেশ ধরে সৌরভের মামা , রুবেল গাজীর নেতৃত্বে আত্মীয় সজনসহ প্রায় ১৫/২০জন মিলে, রাতে সন্ত্রাসী কায়দায় দেশীয় অস্ত্রসস্র নিয়ে আমার ঘরবাড়ি পিটিয়ে ভাংচুর করে দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে আমার স্বামী, আমাকে, আমার শশুর, আমার শাশুড়ীকে বেধরক পিটায়, এবং ঘরবাড়ী লুটপাট করে আমার মেয়ের বিবাহের প্রয়োজনীয় সর্ণালংকার নগদ টাকা নিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলে আমার স্বামীকে দায়ের কোপে মাথা দুই ভাগ করে ফেলে। আমি এর কঠিন শাস্তির জোর দাবী করছি।
এ বিষয় যানতে চাইলে সৌরভের মামা রুবেল গাজী মুঠোফোনে বলেন আগে রুগী সুস্থ হোক তারপর আমি আপনাকে সব বলব।
এ ঘটনায় এখনো থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।