দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন, সেবার মান ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন?
মোঃ রিপন মিয়া স্টাফ রিপোর্টার : || বিএমএফ টেলিভিশন
নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে দীর্ঘদিন ধরে একই কর্মস্থলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব পালন নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, দীর্ঘসময় একই অফিসে দায়িত্ব পালন করলে সেবার মান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কনিকা সরকার ২০২১ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি যোগদান করেন। বর্তমান পর্যন্ত তিনি প্রায় ৫ বছর ৩ মাস ধরে একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করছেন।
এছাড়া ভেটেরিনারি সার্জন ডা. লুৎফুল কবীর ২০২৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি যোগদান করেছেন। বর্তমানে তিনি প্রায় ৩ মাস ধরে কর্মরত রয়েছেন।
উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (সম্প্রসারণ) মো. সারুয়ার জাহান ১৯৯৯ সালের ৫ এপ্রিল থেকে একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করছেন। সে হিসাবে তিনি প্রায় ২৭ বছর ধরে কর্মরত রয়েছেন।
উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (প্রাণীস্বাস্থ্য) মো. সুরুজ আলী ২০১০ সালের ১০ অক্টোবর যোগদান করে বর্তমানে প্রায় ১৬ বছর ধরে কর্মরত রয়েছেন।
ভেটেরিনারি ফিল্ড অ্যাসিস্ট্যান্ট হারুন আর রশিদ ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর যোগদান করেন। বর্তমানে প্রায় ৭ বছর ৭ মাস ধরে কর্মরত থাকলেও ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে সিলেটে আইএলএসটি’র ৩ বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা প্রশিক্ষণ কোর্সে অধ্যয়নরত রয়েছেন।
একই তারিখে যোগদান করা আকিজা খাতুন বর্তমানে প্রেষণে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, ঢাকায় কর্মরত রয়েছেন।
এফএ (এ/আই) সুলতান মাহমুদ ২০১৯ সালের ২০ জুন যোগদান করেন। বর্তমানে প্রায় ৬ বছর ধরে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে ২০২৬ সালের মার্চ থেকে তিনি ময়মনসিংহ ভিটিআইয়ে ৩ বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা প্রশিক্ষণ কোর্সে অধ্যয়নরত রয়েছেন।
অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক রাহাত উল্লাহ ২০১৯ সালের ২৫ এপ্রিল যোগদান করে বর্তমানে প্রায় ৭ বছর ধরে কর্মরত আছেন।
ড্রেসার মো. শাজাহান কবির ২০০৯ সালের ২৬ এপ্রিল যোগদান করেন। বর্তমানে তিনি প্রায় ১৭ বছর ধরে একই অফিসে দায়িত্ব পালন করছেন।
এদিকে দপ্তরের দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদ—ইউএলএ ও অফিস সহায়ক—দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে বলেও জানা গেছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের অনেকেই মনে করছেন, সরকারি অফিসে দীর্ঘসময় একই ব্যক্তিদের অবস্থান প্রশাসনিক গতিশীলতা কমিয়ে দেয় এবং অনেক সময় জবাবদিহিতার সংকট তৈরি করে। নির্দিষ্ট সময় পরপর বদলি ও নতুন জনবল সংযুক্ত করা হলে সেবার মান ও স্বচ্ছতা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
এ বিষয়ে কয়েকজন সেবাগ্রহীতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দীর্ঘদিন একই স্থানে দায়িত্ব পালনের কারণে সাধারণ মানুষ অনেক সময় কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হন। নিয়মিত বদলি হলে প্রশাসনিক কার্যক্রমে নতুন গতি আসতে পারে।
তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বদলি ও পদায়নের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল।
সচেতন নাগরিকদের দাবি, জনস্বার্থে সরকারি দপ্তরগুলোতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও কার্যকর সেবাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সময়োপযোগী প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।