‘থালাপতির জোট সরকার ৬ মাসও টিকবে না’
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। || বিএমএফ টেলিভিশন
ভারতের তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী বিজয় থালাপতি ও তার দল তামিলগা ভেট্ট্রি কাজাগম (টিভিকে) নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের কড়া সমালোচনা করেছেন দ্রাবিড়া মুন্নেত্র কাজাগম (ডিএমকে)- এর জ্যেষ্ঠ নেতা ও তিরুচেন্দুরের বিধায়ক অনিথা রাধাকৃষ্ণন। তিনি দাবি করেছেন, এই সরকার ছয় মাসও টিকবে না। খবর এনডিটিভির।
রোববার (১৭ মে) দক্ষিণ তামিলনাড়ুতে এক দলীয় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে রাধাকৃষ্ণন শাসক দল টিভিকের জ্যেষ্ঠ নেতা আধব অর্জুনকেও চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন। তিনি বলেন, ভিল্লিভাক্কম আসনের বিধায়ক পদ থেকে পদত্যাগ করে তিরুচেন্দুরে এসে তার বিরুদ্ধে নির্বাচন করতে।
তিনি বলেন, ‘এই সরকার আর মাত্র চার মাস টিকবে। আধব অর্জুন নামে একজন আছেন। সাহস থাকলে বিধায়ক পদ ছাড়ুন, আমিও ছাড়ব। তিরুচেন্দুরে মুখোমুখি লড়াই হোক। এটা আমাদের এলাকা। এখানে আমরা সবাইকে হারাতে পারি।’
প্রসঙ্গত, তিরুচেন্দুর আসনটি গত ২৫ বছর ধরে রাধাকৃষ্ণনের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ২০০১ সালে তিনি প্রথম এ আসনে জয়ী হন এবং পরে ডিএমকের হয়ে আসনটি ধরে রাখেন।
এ সময় তিনি এম কে স্ট্যালিনের পক্ষেও কথা বলেন। সাম্প্রতিক নির্বাচনে স্ট্যালিন নিজের শক্ত ঘাঁটি কোলাথুর আসনে পরাজিত হন। সেখানে জয় পান সাবেক ডিএমকে নেতা ভি এস বাবু, যিনি পরে বিজয়ের টিভিকে দলে যোগ দেন।
রাধাকৃষ্ণন বলেন, ‘আমরা চাই আমাদের ‘থালাইভার’ (নেতা) এম কে স্ট্যালিন ত্রিচিতে নির্বাচন করুন। স্ট্যালিন কোলাথুরকে সিঙ্গাপুরের মতো গড়ে তুলেছিলেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের থালাইভারই পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী। চার বা ছয় মাসের মধ্যেই তিনি আবার মুখ্যমন্ত্রী হবেন।’
তবে বিজয়ের কার্যালয়, টিভিকে কিংবা আধব অর্জুন— কেউই এখন পর্যন্ত এ মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
সাম্প্রতিক নির্বাচনে বিজয়ের জয়কে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে বড় ধরনের চমক হিসেবে দেখা হচ্ছে। তার দল টিভিকে ২৩৪ আসনের মধ্যে ১০৮টি আসনে জয় পায়, যা একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে মাত্র ১০ আসন কম। এর মাধ্যমে দীর্ঘ ৬২ বছর ধরে ডিএমকে ও এআইএডিএমকের পালাক্রমে ক্ষমতায় আসার ধারাও ভেঙে যায়। পরে কংগ্রেস, দুটি বাম দল ও বিদুথালাই চিরুথাইগাল কাচ্চির সমর্থনে টিভিকে সরকার গঠন করে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই দলগুলো আগে ডিএমকের জোটে ছিল।
সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত হওয়ার পর বিজয় মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। পরে আস্থাভোটেও তার সরকার ১৪৪ ভোট পেয়ে সহজেই জয়ী হয়, যেখানে বিপক্ষে ভোট পড়ে ২২টি।
এরপর থেকেই ডিএমকে সরকার পরিচালনা, নিয়োগ ও প্রশাসনিক বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে টিভিকে সরকারের সমালোচনা করে আসছে। তবে ক্ষমতাসীন দল এসব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলছে, তাদের সরকার পুরোপুরি স্থিতিশীল।