অর্থ সংকটে থমকে যেতে পারে জাতিসংঘ: গুতেরেস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। || বিএমএফ টেলিভিশন

প্রকাশিতঃ বিকাল ০৫:০২, শনিবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬, ১৭ মাঘ ১৪৩২
ছবি: সংগৃহীত।

ছবি: সংগৃহীত।

গভীর আর্থিক সংকটে পড়েছে জাতিসংঘ, যা সংস্থাটিকে কার্যত অচল অবস্থার দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কাছে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি জানান, বকেয়া চাঁদা দ্রুত পরিশোধ এবং বিদ্যমান আর্থিক কাঠামোয় মৌলিক সংস্কার না হলে বিশ্বসংস্থাটি অচিরেই মারাত্মক সংকটে পড়বে।

জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এক ব্রিফিংয়ে মহাসচিবের মুখপাত্র ফারহান হক বলেন, সংস্থার তহবিল পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি জানান, পূর্ববর্তী বছরের মতো কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়ার নগদ অর্থ বা তারল্য বর্তমানে জাতিসংঘের হাতে নেই। ফলে সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে অবিলম্বে বকেয়া পরিশোধ করতে হবে, নইলে বিকল্প কোনো পথ অবশিষ্ট থাকবে না।

তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কাছে জাতিসংঘের মোট বকেয়া দাঁড়িয়েছে রেকর্ড ১ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন ডলারে। যদিও সংকটের জন্য কোনো নির্দিষ্ট দেশের নাম উল্লেখ করা হয়নি, তবে চলমান বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিকে এর পেছনে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিভিন্ন জাতিসংঘ সংস্থায় অর্থায়ন কমানো এবং বিকল্প আন্তর্জাতিক উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণাকে এই সংকট আরও তীব্র করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, বড় শক্তিধর দেশগুলোর এমন অনীহা আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার রক্ষার প্রচেষ্টাকে দুর্বল করে দিতে পারে।

বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, সদস্য দেশগুলোর অর্থনৈতিক সক্ষমতা বিবেচনায় বার্ষিক চাঁদা নির্ধারণ করা হয়, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র সর্বোচ্চ ২২ শতাংশ এবং চীন ২০ শতাংশ অবদান রাখে। গুতেরেস চিঠিতে সতর্ক করে বলেন, পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকলে জুলাই মাসের মধ্যেই জাতিসংঘের নগদ অর্থ সম্পূর্ণ ফুরিয়ে যেতে পারে।

এছাড়া তিনি প্রতি বছর অব্যবহৃত অর্থ ফেরত দেওয়ার পুরোনো নিয়মের সমালোচনা করে বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় এটি অযৌক্তিক হয়ে পড়েছে। পর্যাপ্ত অর্থ না থাকা সত্ত্বেও অর্থ ফেরতের বাধ্যবাধকতা জাতিসংঘকে একধরনের আর্থিক দুষ্টচক্রে আটকে রাখছে।

বর্তমানে ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে মাত্র ৩৬টি দেশ ২০২৬ সালের জন্য তাদের পূর্ণ চাঁদা পরিশোধ করেছে, যা জাতিসংঘের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে।

সূত্র: আলজাজিরা 

Share This Article

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়