মাসিক ভাতা বাড়ছে যাদের
ডেস্ক রিপোর্ট। || বিএমএফ টেলিভিশন
সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় বয়স্ক, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীত নারী এবং অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কার্যক্রমের মাসিক ভাতা ৫০ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে এ বিষয়ে গঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় ওয়ার্কিং কমিটি। প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে ভাতার পরিমাণ বর্তমানে ৬৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৭০০ টাকা হবে।
সরকার গত ১৩ জানুয়ারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন ভাতার হার বৃদ্ধি, হ্রাস বা অপরিবর্তিত রাখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তার জন্য একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কার্যকরী কমিটি গঠন করে। কমিটিকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের চারটি কর্মসূচি পর্যালোচনার দায়িত্ব দেওয়া হয়।
ভাতার হার পর্যালোচনার ক্ষেত্রে ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই)–কে বেঞ্চমার্ক অর্থনৈতিক সূচক হিসেবে ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়। পাশাপাশি বছরে অন্তত একবার ভাতার হার পর্যালোচনা করে সুপারিশসহ একটি প্রতিবেদন অর্থ সচিবের কাছে জমা দেওয়ার কথাও বলা হয়।
কমিটি গঠনের পরদিন ১৪ জানুয়ারি অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (বাজেট ও সমন্বয়) মো. হাসানুল মতিনের সভাপতিত্বে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বয়স্ক, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীত নারী এবং অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কার্যক্রমের ভাতা মাসিক ৫০ টাকা বাড়ানোর বিষয়ে একমত হন কমিটির সদস্যরা।
সভায় জানানো হয়, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ভাতার হার নির্ধারণে মূল্যস্ফীতি ও ভোক্তা মূল্যসূচক বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ভোক্তা মূল্যসূচকের গড় হার ছিল ৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ। এই প্রেক্ষাপটেই ভাতা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়।
বর্তমানে বয়স্ক ভাতা কর্মসূচির আওতায় ৬১ লাখ, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীত নারী ভাতার আওতায় ২৯ লাখ এবং অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কার্যক্রমের ভাতা কর্মসূচির আওতায় ২ লাখ ২১ হাজার মানুষ ভাতা পাচ্ছেন। তিনটি কর্মসূচির উপকারভোগীর সংখ্যা অপরিবর্তিত রেখে শুধু মাসিক ভাতা ৫০ টাকা করে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মাসিক ভাতা ৫০ টাকা বাড়ানো হলে বয়স্কভাতার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ৩৮৮ কোটি ২০ লাখ টাকাসহ মোট ৫ হাজার ১৫৯ কোটি ৫১ লাখ টাকার প্রয়োজন হবে। এছাড়া বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ১৭৫ কোটি ৪ লাখ টাকাসহ মোট ২ হাজার ৪৫২ কোটি ৮৭ লাখ টাকা এবং অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন ভাতার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ১৩ কোটি ৩৪ লাখ টাকাসহ মোট ১৮৭ কোটি ২৪ লাখ টাকার প্রয়োজন হবে।
অন্যদিকে, প্রতিবন্ধী ভাতা, মেধাবৃত্তি, মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি এবং অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির ভাতার হার অপরিবর্তিত থাকবে।