২৫ অক্টোবর উড়াল দেবে ওয়েস্টার্ন সিডনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, পরিদর্শনে বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতিনিধিদল
বিদেশ বাংলা ডেস্ক | সিডনি, অস্ট্রেলিয়া || বিএমএফ টেলিভিশন
অস্ট্রেলিয়ার বহুল প্রতীক্ষিত ওয়েস্টার্ন সিডনি ইন্টারন্যাশনাল (ন্যান্সি-বার্ড ওয়ালটন) বিমানবন্দর (WSI) পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশি কমিউনিটির একটি প্রতিনিধিদল। ইনগেলবার্ন বিজনেস চেম্বারের সভাপতি ড্রু পার্সিভাল-এর আমন্ত্রণে অনুষ্ঠিত এ সফরে প্রতিনিধিরা বিমানবন্দরটির নির্মাণ অগ্রগতি, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি এবং পশ্চিম সিডনির ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সম্ভাবনা সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা লাভ করেন।
বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতিনিধিদলে ছিলেন মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন সরকার, কায়সার আহমেদ এবং মো. শফিকুল ইসলাম। সফরটির নেতৃত্ব দেন ইনগেলবার্ন বিজনেস চেম্বারের সভাপতি ড্রু পার্সিভাল।
পরিদর্শনকালে জানানো হয়, আগামী ২৫ অক্টোবর ২০২৬ থেকে বিমানবন্দরটি আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ যাত্রীবাহী ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করবে। এর আগে ২৬ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্গো কার্যক্রম চালু হবে।
প্রথম পর্যায়ে বছরে এক কোটি (১০ মিলিয়ন) যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা নিয়ে যাত্রা শুরু করবে বিমানবন্দরটি। ভবিষ্যতে যাত্রী চাহিদা অনুযায়ী এর সক্ষমতা আরও বাড়ানো হবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই প্রকল্প পশ্চিম সিডনিতে কর্মসংস্থান, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, পর্যটন ও বিনিয়োগে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এটি হবে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম বৃহৎ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর যেখানে প্রচলিত এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল টাওয়ারের পরিবর্তে ডিজিটাল এয়ার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। এছাড়া থাকবে স্বয়ংক্রিয় ব্যাগেজ হ্যান্ডলিং, উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং আধুনিক যাত্রীসেবা। যাত্রী ও কার্গো পরিবহনকে অগ্রাধিকার দিতে এখানে ব্যক্তিগত জেট ও সাধারণ বিমান চলাচলের অনুমতি রাখা হয়নি।
পরিবহন অবকাঠামোর অংশ হিসেবে প্রায় ১২ বিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার ব্যয়ে নির্মাণাধীন সিডনি মেট্রো–ওয়েস্টার্ন সিডনি এয়ারপোর্ট রেললাইন ভবিষ্যতে বিমানবন্দরটিকে সেন্ট মেরিস-এর সঙ্গে যুক্ত করবে। রেললাইন চালু হওয়ার আগ পর্যন্ত পেনরিথ, লিভারপুল ও ক্যাম্পবেলটাউন থেকে বিনামূল্যে বাসসেবা চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।
সফর শেষে বাংলাদেশি প্রতিনিধিরা বলেন, বিশ্বমানের এই বিমানবন্দর পশ্চিম সিডনিকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও লজিস্টিকসের অন্যতম কেন্দ্রে পরিণত করবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশি ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা, শিক্ষার্থী এবং প্রবাসী কমিউনিটির জন্য নতুন অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সুযোগ সৃষ্টি হবে বলেও তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।