ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সিলেটে বন্যার শঙ্কা

ডেস্ক রিপোর্ট। || বিএমএফ টেলিভিশন

প্রকাশিতঃ সকাল ০৮:৩৬, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩
ছবি: সংগৃহীত।

ছবি: সংগৃহীত।

টানা ভারী বৃষ্টি ও ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে সিলেট অঞ্চলের নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। যদিও অধিকাংশ নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচে রয়েছে, তবে কয়েকটি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ায় সিলেট ও সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চলে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে টানা বর্ষণে পাহাড় ও টিলা ধসের ঝুঁকিও বেড়েছে।

সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় সিলেট জেলা প্রশাসন ৫৩৭টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রেখেছে। পাশাপাশি জেলার ১৬০টি ঝুঁকিপূর্ণ টিলা চিহ্নিত করে সেসব এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক করা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সব উপজেলায় পর্যাপ্ত শুকনো খাবার মজুত রাখা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় ও টিলার পাদদেশে বসবাসকারীদের প্রয়োজনে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতিও রয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, আগামী তিন থেকে চার দিন ভারতের মেঘালয় অঞ্চলে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এর প্রভাবে পাহাড়ি ঢলের পানি সিলেটের নদ-নদীতে নেমে এসে পানির স্তর আরও বাড়তে পারে। এতে সীমান্তবর্তী কিছু এলাকায় স্বল্পমেয়াদি আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।

পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বেশির ভাগ নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে থাকলেও অমলশিদ ও কানাইঘাটসহ কয়েকটি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। তবে উজানের পানি দ্রুত নেমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় দীর্ঘস্থায়ী বন্যার আশঙ্কা কম বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

গত ২৪ ঘণ্টায় জকিগঞ্জে সর্বোচ্চ ১২৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। একই সময়ে সিলেটে ৫৭ মিলিমিটার, শেওলায় ৪৯ মিলিমিটার এবং কানাইঘাটে ৩৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

সিলেট আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী ৭২ ঘণ্টা সিলেট বিভাগজুড়ে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে নদ-নদীর পানি আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে ভারী বর্ষণের পাশাপাশি পাহাড় ও টিলা ধসের ঝুঁকি নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। পরিবেশবিদরা বলছেন, অবৈধভাবে টিলা কাটা এবং পাহাড়ের পাদদেশে বসতি গড়ে ওঠার কারণে ঝুঁকি আরও বেড়েছে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সিলেটের নেতারা জানান, অতীতে টিলা ধসে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো এবং ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।

সিলেটের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাঠ প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ টিলা এলাকায় মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে বাসিন্দাদের আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হবে। পাশাপাশি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে।


 

Share This Article

আরো পড়ুন  

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়