১০ মাসেও শনাক্ত হয়নি ৯ বছরের শিশু ময়নার ধর্ষক ও হত্যাকারী কে?

সাকিবুল হাসান শুভ বিশেষ প্রতিনিধি || বিএমএফ টেলিভিশন

প্রকাশিতঃ বিকাল ০৩:০৪, শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ২৬ বৈশাখ ১৪৩৩
ছবি: বিএমএফ টেলিভিশন।

ছবি: বিএমএফ টেলিভিশন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় ৯ বছর বয়সী শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার ১০ মাস পেরিয়ে গেলেও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ ঘটনায় নানা ধরনের সামাজিক হেনস্তা ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হলেও বিচারের আশায় দিন গুনছেন শিশুটির মা–বাবা।

এ ঘটনায় করা মামলায় প্রথমে তদন্ত করে পুলিশ। পরে তদন্তভার যায় পিবিআইয়ের কাছে। বর্তমানে সংস্থাটিই তদন্ত করছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ৬ জুলাই সরাইল থানা–পুলিশ উপজেলার একটি মসজিদের দ্বিতীয় তলা থেকে শিশুটির রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে। এর আগের দিন বিকেল চারটার দিকে সে নিখোঁজ হয়।

পুলিশের সুরতহাল প্রতিবেদনে বলা হয়, শিশুটিকে যৌন নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল।

ওই রাতেই শিশুটির মা বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে সরাইল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে হত্যা মামলা করেন। এ ঘটনায় পরদিন ৭ জুলাই পুলিশ মসজিদটির ইমাম ও মুয়াজ্জিনকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করে। পরে তাঁদের রিমান্ডেও নেওয়া হয়। আট মাস কারাভোগের পর গত ১১ মার্চ তাঁরা জামিনে মুক্তি পান।

ঘটনার পরদিনই শিশুটির বাবা প্রবাস থেকে দেশে ফেরেন। পরে গত ১৩ এপ্রিল তিনি আবার দেশের বাইরে চলে যান। এ সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশুটির মাকে ঘিরে নানা গুজব ছড়িয়ে পড়ে। কেউ কেউ শিশুটির মাকেই ঘটনার জন্য দায়ী করেন। এতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন শিশুটির মা–বাবা।

সম্প্রতি শাহবাজপুরে গিয়ে কথা হলে কান্নাজড়িত কণ্ঠে শিশুটির মা বলেন, ‘আমি আমার বুকের ধন হারিয়ে দিশাহারা। এর মধ্যে নানা মানুষ নানা কথা বলে আমাদের নানাভাবে হেনস্তা করেছে। আমাদের কোণঠাসা করে রাখা হয়েছে। আমার সন্তান হত্যার বিচার চাই।’

শিশুটির বাবা মুঠোফোনে বলেন, ‘ঘটনার পর পুলিশ আমার স্ত্রীকে নানাভাবে নির্যাতন করেছে। সন্তান হারানোর পরও আমরা হয়রানির শিকার হয়েছি। আর্থিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। ১০ মাসেও আমার মেয়ের খুনিরা চিহ্নিত হলো না। এখন পরিবার নিয়ে ভয় ও আতঙ্কের মধ্যে আছি। আমি জানতে চাই, কে এমনটি করেছে।’

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের ব্রাহ্মণবাড়িয়া কার্যালয়ের পরিদর্শক বেলাল উদ্দিন বলেন, শিশুটিকে যৌন নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছে। তার শরীরে পুরুষের শুক্রাণুর আলামত পাওয়া গেছে। এখন পর্যন্ত গ্রামের মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ ২৪ জনের ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়েছে। কারও সঙ্গে মিল পাওয়া যায়নি। আরও ১২ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাঁদেরও ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে।

Share This Article

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়