বান্দরবানে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, সাঙ্গু-মাতামুহুরী নদীর পানির বিপদসীমা অতিক্রম

ডেস্ক রিপোর্ট। || বিএমএফ টেলিভিশন

প্রকাশিতঃ দুপুর ০২:১০, বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩
ছবি: সংগৃহীত।

ছবি: সংগৃহীত।

অব্যাহত ভারি বর্ষণের ফলে পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানে জেলা শহরসহ আশপাশের নিম্নাঞ্চল এবং নাইক্ষ্যংছড়ি, রোয়াংছড়ি, লামা, আলীকদম উপজেলায় সহস্রাধিক ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়েছে৷ জেলার সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যা কবলিতরা আশ্রয় কেন্দ্রে উঠতে শুরু করেছে।

বুধবার (৮ জুলাই) সকাল ৯টা পর্যন্ত গত চব্বিশ ঘণ্টায় ৩০৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। যা আগের চব্বিশ ঘণ্টার চেয়ে দ্বিগুণ।

প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট জানায়, রোববার থেকে অব্যাহত ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবান জেলা শহরের শেরেবাংলা নগর, আর্মিপাড়া, মেম্বারপাড়া, ইসলামপুর, উজানীপাড়া, মধ্যমপাড়া এলাকায় সহস্রাধিক ঘরবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পানিতে তলিয়ে গেছে। জেলার সাতটি উপজেলায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে হাজার হাজার মানুষ।

এদিকে অবিরাম বৃষ্টিতে জেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধসে অসংখ্য ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলার রুমা-থানচি, লামা-সূয়ালক সড়কসহ অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে ছোটবড় পাহাড়ধসের ঘটনাও ঘটেছে। প্রাণহানির আশঙ্কায় পাহাড়ের ঢালুতে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে প্রশাসন, পৌরসভা, ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলার চৌত্রিশটি ইউনিয়নে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সাইক্লোন সেন্টারে ২২০টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

এদিকে অব্যাহত বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সাঙ্গু, মাতামুহুরী ও বাকখালী তিনটি নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বান্দরবান পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অপু দেব।

জেলা আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তা সনাতন কুমার মন্ডল বলেন, বৃষ্টিপাতের পরিমাণ মঙ্গলবারের চেয়ে বেড়েছে। বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত গত চব্বিশ ঘণ্টায় বান্দরবান জেলায় ৩০৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ভারি বৃষ্টিপাতে পাহাড়ধসে প্রাণহানির শঙ্কা থাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয় সরে যেতে বলা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক সানিউল ফেরদৌস বলেন, অবিরাম বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। নদী তীরবর্তী এবং পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে। খোলা হয়েছে ২২০টি আশ্রয় কেন্দ্র এবং প্রশাসনের জরুরি কন্ট্রোল রুম। 


 

Share This Article

আরো পড়ুন  

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়