সংসদে অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্নীতি তদন্তের দাবি
ডেস্ক রিপোর্ট। || বিএমএফ টেলিভিশন
অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে ভয়াবহ দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) নির্দেশ দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। গতকাল রোববার (২৭ জুন) সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ অনুরোধ জানান।
এ সময় সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত ছিলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের প্রাতিষ্ঠানিক লুটপাট ও অর্থপাচারের পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের সব কর্মকাণ্ডও দুদকের মাধ্যমে তদন্তের নির্দেশ দিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকারের ভিত্তি স্বচ্ছতা। তাই যেকোনো ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত হওয়া উচিত।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছর একটি অস্থির সময় ছিল। যমুনার অভ্যন্তরে এবং যমুনার কিনারে কী পরিস্থিতি ছিল, আপনারা সবাই জানেন।’
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করছি, অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের সব কার্যক্রম দুর্নীতি দমন কমিশনের মাধ্যমে তদন্তের নির্দেশ দিন।
কোথায় দুর্নীতি হয়েছে, কিভাবে হয়েছে, কারা করেছে—সবকিছু খুঁজে বের করা হোক।’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘টিআইবি কয়েক দিন আগে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। আপনারা (সংসদ সদস্যরা) নিশ্চয়ই পত্রিকায় দেখেছেন। সেখানে বলা হয়েছে যে সর্বোচ্চ দুর্নীতি হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে। আমি নিজে এই দাবি করছি না; আমি শুধু প্রকাশিত প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করছি।
তাই তারা (অন্তর্বর্তী সরকার) কোনো ধরনের দায়মুক্তি পেতে পারে না।’ অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে প্রণীত শ্বেতপত্রের তথ্য তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে গণতান্ত্রিক জবাবদিহির অভাবে দেশে ‘লুটেরা অর্থনীতি’ ও ‘ক্রনি ক্যাপিটালিজম’ গড়ে ওঠে। এ সময় বছরে গড়ে ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং ১৫ বছরে প্রায় ২৯ থেকে ৩০ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। ব্যাংকঋণ কেলেঙ্কারি, রাজনৈতিক বিবেচনায় ব্যাংক নিয়ন্ত্রণ, মেগাপ্রকল্পে ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানো এবং আইনের মাধ্যমে দুর্নীতিকে বৈধতা দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে।”
তিনি বলেন, বিগত সরকারের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনৈতিক অবস্থা এবং অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের অস্থির সময় পার করে বর্তমান সরকার ৯ লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করেছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেও নতুন অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েই এই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমার বন্ধু, মাননীয় এমপি নাহিদ সাহেব বলেছেন, আমি নাকি এখানে একটি সরল স্বীকারোক্তি করেছি যে অনেক আপস করে আমরা জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছি। হ্যাঁ, আমরা নির্বাচনের স্বার্থে এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করে জুলাই সনদে সবাই মিলে সমঝোতায় পৌঁছেছি এবং স্বাক্ষর করেছি। হয়তো সব বিষয়ে আমরা একমত ছিলাম না, কিন্তু জাতির বৃহত্তর স্বার্থে আমরা আপস করেছি। এটিকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা উচিত নয়।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, ‘যাদের পরিকল্পনা ছিল পাঁচ বছর নির্বাচন হবে না এবং ক্ষমতায় থেকে যাবে, সেই বিষয়টিও আমাদের বিবেচনায় রাখতে হয়েছে।’
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দেশের মানুষের কল্যাণে বর্তমান নেতৃত্ব সব সময়ের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। প্রথম ক্যাবিনেট মিটিংয়েই কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদ-আসল ঋণ মওকুফের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এবারের বাজেটকে ‘আ বাজেট অব নিউ ইকোনমিক অর্ডার’ আখ্যা দিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পুরনো ধ্যান-ধারণা থেকে বেরিয়ে ফরাসি অর্থনীতিবিদ ফ্রেডরিক বাস্টিয়া কিংবা ব্রিটিশ অর্থমন্ত্রী উইলিয়াম ইওয়ার্ট গ্ল্যাডস্টোনের জনকল্যাণমুখী দর্শনের আলোকে এই বাজেট তৈরি করা হয়েছে। টেকনাফ সীমান্তের একজন অসহায় বিধবা মহিলাও যেন এই বাজেটের সুফল পান, সেই লক্ষ্যেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর কোনো ধরনের ট্যাক্স বাড়ানো হয়নি। ফলে এবার বাজেট দেওয়ার আগে-পরে কোনো নিত্যপণ্যের দাম বাড়েনি।
বাজেটের মূল দর্শন হিসেবে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং স্মার্ট রূপান্তরের কথা উল্লেখ করে সিঙ্গাপুরের লি কুয়ান ইউ এবং ড. গোহ-এর সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহারের সফল মডেলের উদাহরণ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
একাত্তরে স্বাধীনতার বিরোধিতা থেকে শুরু করে বর্তমান রাজনীতিতে জামায়াতে ইসলামীর ‘সুবিধাবাদী’ ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ। তিনি দলটির ৯৩ পৃষ্ঠার রঙিন নির্বাচনী ইশতেহারের দিকে আঙুল তুলে বলেন, মুখে ইসলামের কথা বললেও এদের ইশতেহারের কোথাও শরিয়া আইন বা ইসলামী সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার কোনো অঙ্গীকার নেই।
জামায়াতে ইসলামীকে একটি ‘আন্তর্জাতিক সংগঠনের শাখা’ হিসেবে আখ্যায়িত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জামায়াতে ইসলামীর নামের সঙ্গে ইসলাম থাকলেও তাদের রাজনৈতিক ইশতেহারে এর কোনো বাস্তব প্রতিফলন নেই।
দলটির ইতিহাস তুলে ধরে তিনি জানান, ১৯৪১ সালে ব্রিটিশ ভারতের লাহোরে প্রতিষ্ঠিত এই দলটি ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান চায়নি, আবার ১৯৭১ সালে বাংলাদেশও চায়নি। উল্টো মুক্তিযুদ্ধের সময় এদেশীয় দোসর হিসেবে গভর্নর মালেক সরকারের মন্ত্রিসভায় জামায়াত নেতাদের মন্ত্রী হওয়ার ইতিহাসও তিনি সংসদে স্মরণ করিয়ে দেন।
দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও সংসদে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বিরোধী দলের অভিযোগ খণ্ডন করে তিনি বলেন, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়নি, বরং অতীতের তুলনায় উন্নতি হয়েছে। এখন থানায় মামলা রেকর্ড করতে কারো হুকুম বা পরামর্শের প্রয়োজন হয় না। বিগত কয়েক মাসের অপরাধের পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, দেশে যেকোনো অপরাধ সংঘটিত হলে পুলিশ এখন অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে ব্যবস্থা নিচ্ছে।
অর্থনৈতিক বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ৯ লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকার বিশাল এই বাজেট দেশকে পরনির্ভরশীলতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করে স্বনির্ভর করার লক্ষ্যে প্রণীত হয়েছে। ঋণনির্ভর বাজেটের সমালোচনা নাকচ করে তিনি বলেন, পৃথিবীর সব দেশই বাজেট প্রণয়নের সময় ব্যাংক বা বিদেশি ঋণ নিয়ে থাকে। তবে সরকার রাজস্ব ব্যয়ের আকার কমিয়ে উন্নয়ন ব্যয় বাড়ানোর দিকেই মূল মনোযোগ দিচ্ছে। তিস্তা প্রকল্প ও পদ্মা ব্যারাজের মতো সাহসী মেগাপ্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারের দৃঢ় ইচ্ছাশক্তির কথাও জানান তিনি।
প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে সংসদে প্রাণবন্ত বিতর্ক : ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর গতকাল দিনব্যাপী প্রাণবন্ত বিতর্ক করেছেন সরকারি ও বিরোধীদলীয় সদস্যরা। সরকারি দলের সদস্যরা প্রস্তাবিত বাজেটকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নতুন বাংলাদেশ গড়ার সাহসী পরিকল্পনা বলে আখ্যায়িত করেন। অন্যদিকে সুদভিত্তিক অর্থনীতি বাতিল করে জাকাতভিত্তিক অর্থনীতি চালুর দাবি জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় সদস্যরা। তাঁরা কালো টাকা সাদা করার সুযোগেরও কড়া সমালোচনা করেন।
গত ১৪ জুন প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সংসদে সাধারণ আলোচনা শুরু হয়। আজ সোমবার এই আলোচনা শেষ হবে। শেষ দিনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বত্তৃদ্ধতা করবেন। এরপর অর্থ বিল-২০২৬ পাস হবে। আগামীকাল ৩০ জুন প্রস্তাবিত বাজেটে সংযোজন ও বিয়োজন শেষে নতুন অর্থবছরের বাজেট পাস হবে।
আলোচনায় অংশ নিয়ে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, মুক্তিযুদ্ধ ছিল একটি রাষ্ট্রের স্বাধীনতার জন্য আত্মত্যাগের সংগ্রাম, আর জুলাই ছিল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন। স্বাধীনতাযুদ্ধে ৩০ লাখ মানুষ আত্মাহুতি দিয়েছেন এবং দুই লাখ মা-বোন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তাঁদের আত্মত্যাগের সঙ্গে জুলাই আন্দোলনকে একভাবে মূল্যায়নের সুযোগ নেই। তবে জুলাই আন্দোলনের প্রতিও সম্মান জানাতে হবে। গত ১৭ বছরে আন্দোলন-সংগ্রামে নিহত ও আহত ব্যক্তিদেরও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির আওতায় আনা উচিত।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, এবার সামাজিক সুরক্ষা খাতে এক লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকার বিশাল বাজেট রাখা হয়েছে। এর আওতায় আগামী চার বছরে পর্যায়ক্রমে ৪১ লাখ পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়া হবে।
বাজেটে ‘জাকাত’ শব্দের কোনো উল্লেখ না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন জামায়াতের সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। তিনি বলেন, দেশে ঠিকমতো জাকাত আদায় করা গেলে দুই লাখ কোটি টাকা সংগ্রহ করা সম্ভব। এই টাকা দিয়ে বাজেটের ঘাটতি অনায়াসেই পূরণ হতে পারে। এ জন্য হানাফি, আহলে হাদিসসহ সব মতাদর্শের আলেমদের নিয়ে একটি জাকাত কমিটি বা সরকারের অধীনে ‘জাকাত মন্ত্রণালয়’ গঠনের আহবান জানান তিনি।
কালো টাকা সাদা করার সুযোগের কড়া সমালোচনা করে অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, কালো টাকা সাদা করার সুযোগ রাখা হারাম। হারাম টাকা ঘুষ দিয়ে কখনো হালাল করা যায় না। এই ধারাটি বাতিল করতে হবে।
মসজিদে রাজনীতি করা যাবে না—এমন মন্তব্যের জবাবে অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, যাঁরা বলেন মসজিদে রাজনীতি করা যায় না, তাঁদের জানা উচিত মদিনা রাষ্ট্রের রাজধানী ছিল মসজিদে নববী।
পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, দেশের প্রায় সাত কোটি মানুষের সুবিধার জন্য পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে, যা এরই মধ্যে একনেকে অনুমোদন পেয়েছে। পাশাপাশি চলতি অর্থবছরেই তিস্তা মহাপরিকল্পনার বাস্তবায়নকাজ শুরু হবে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে চীন সফরে দেশটির প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং ও পানিসম্পদমন্ত্রীর সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। দেশের নদী ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে কারিগরি সহায়তাসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে চীন সম্মত হয়েছে। এ লক্ষ্যে বিশেষজ্ঞদল এরই মধ্যে সম্ভাব্যতা সমীক্ষার কাজ শুরু করেছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর বলেন, বর্তমানে একটি কম্পানির নিবন্ধন থেকে ব্যবসা পরিচালনার প্রয়োজনীয় লাইসেন্স, ক্লিয়ারেন্স ও অনুমোদন পেতে গড়ে ৩৫৫ দিন লাগে। প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এ পুরো প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের সংস্কার আনা হচ্ছে। ফলে নতুন কম্পানি গঠন করে যন্ত্রপাতি আমদানির জন্য এলসি খোলার পর্যায়ে যেতে সর্বোচ্চ ১৪ দিন লাগবে।
জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য এ টি এম আজহার বলেন, এবারের বাজেটে সুদ পরিশোধেই এক লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয় হবে। এই ব্যয় কমাতে সরকার সুকুক (ইসলামী বন্ড) ইস্যুর মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ আরো সম্প্রসারণ করতে পারে। এতে ধীরে ধীরে সুদমুক্ত অর্থনীতির দিকে এগোনো সম্ভব হবে।