আলোর বাতিঘর: শিক্ষক আবদুল হামিদ

বিএমএফ টেলিভিশন ডেস্ক || বিএমএফ টেলিভিশন

প্রকাশিতঃ দুপুর ১২:১০, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩
ছবি: বিএমএফ টেলিভিশন।

ছবি: বিএমএফ টেলিভিশন।

শিক্ষা শুধু পাঠ্যবইয়ের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়; এটি মানুষ গড়ার এক মহৎ সাধনা। সেই সাধনায় আজীবন নিবেদিতপ্রাণ ছিলেন কুষ্টিয়ার আলামপুরের কৃতী শিক্ষক আবদুল হামিদ। সততা, নিষ্ঠা ও আদর্শের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে তিনি আজও আলামপুরবাসীর হৃদয়ে অম্লান।

১৯৩৫ সালে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আলামপুর গ্রামের এক মধ্যবিত্ত পরিবারে তাঁর জন্ম। শৈশব থেকেই তিনি ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী। ১৯৬২ সালে হরিনারায়ণপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে প্রথম বিভাগে মেট্রিক এবং ১৯৬৪ সালে কুষ্টিয়া কলেজ থেকে দ্বিতীয় বিভাগে ইন্টারমিডিয়েট পাস করেন।

১৯৬৫ সালে চাঁপাইগাছি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার মাধ্যমে তাঁর কর্মজীবনের সূচনা হয়। পরবর্তীতে তিনি আলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ চার দশকের সফল শিক্ষকতা শেষে ২০০৫ সালে তিনি অবসর গ্রহণ করেন।

তাঁর কাছে শিক্ষকতা ছিল শুধু পাঠদান নয়, বরং একজন সুনাগরিক ও আদর্শ মানুষ গড়ে তোলার অঙ্গীকার। তাঁর স্নেহ, শাসন ও আদর্শে গড়ে ওঠা অসংখ্য শিক্ষার্থী আজ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত থেকে সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নে অবদান রেখে চলেছেন।

যে সময়ে আলামপুর অঞ্চলে শিক্ষার হার ছিল অত্যন্ত কম, সে সময় তিনি বাড়ি বাড়ি গিয়ে অভিভাবকদের সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে উদ্বুদ্ধ করেছেন। শিক্ষার আলো প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দিতে তিনি নিরলসভাবে কাজ করেছেন। তাঁর সততা, সময়ানুবর্তিতা, দায়িত্ববোধ এবং মানবিক মূল্যবোধ তৎকালীন সমাজে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল।

আলামপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় এবং আলামপুর সৈয়দ আলতাফ হোসেন মাধ্যমিক বালক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায়ও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ও অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। শিক্ষা বিস্তারে তাঁর এই অসামান্য অবদান এবং আত্মত্যাগ আলামপুরবাসী চিরকাল গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

২০২১ সালের ২৩ জুন তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তবে তাঁর প্রস্থান কেবল শারীরিক; তাঁর আদর্শ, কর্ম ও শিক্ষা আজও আলামপুরের মানুষকে পথ দেখায়। আবদুল হামিদের মতো সত্যনিষ্ঠ, কল্যাণমুখী ও নিবেদিতপ্রাণ মানুষের মৃত্যু হয় না। তাঁরা বেঁচে থাকেন তাঁদের কর্মে, আদর্শে এবং প্রজন্মের পর প্রজন্মের হৃদয়ে।

আজ তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি এই মহান শিক্ষককে। আল্লাহ তাআলা যেন তাঁকে জান্নাতুল ফিরদাউস নসিব করেন এবং তাঁর কর্মকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে কবুল করেন। আমীন।

লেখক মোঃ জাহাঙ্গীর আলম 
প্রভাষক 
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ, 
আফসার উদ্দিন গার্লস ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসা, কুষ্টিয়া।

Share This Article

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়