অজ্ঞতা ঈমানি দুর্বলতার অন্যতম কারণ
ডেস্ক রিপোর্ট। || বিএমএফ টেলিভিশন
ইলম যেমন ঈমান বৃদ্ধি করে, অজ্ঞতা তেমনি ঈমান হ্রাস করে। মানুষ যত বেশী কল্যাণকর বিদ্যা অর্জন করবে তার ঈমান তত বেশী বাড়বে।
অজ্ঞতার কারণে আজকে বিশ্বে মানুষের এত অধঃপতন। কেননা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আল্লাহ সম্পর্কে জানা। এজন্য ঈমান ও আল্লাহর একত্ববাদ বুঝতে হবে। কারণ তাওহিদ বা আল্লাহর একত্ববাদ সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান না থাকার কারণে আজকে বহু মানুষ বিভিন্ন ধরনের শিরকে লিপ্ত হচ্ছে। কবর পূজাকে বড় ইবাদত মনে করছে। কবরে রুকু সিজদা, জবেহ, কোরবানি, মানত, দোয়া, সাহায্য প্রার্থনা, বরকত চাওয়া প্রভৃতি শিরকি আমল করছে, যা মানুষকে ইসলাম থেকে বের করে দেয়। তাছাড়া বিদআতি কর্মের তো শেষ নেই। আর অজ্ঞতাই হচ্ছে পাপে পতিত হওয়ার সর্ববৃহত্ কারণ। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আমি সাগর পার করে দিয়েছি বনি ইসরাঈলকে। তখন তারা এমন এক সম্প্রদায়ের কাছে গিয়ে পৌঁছল, যারা নিজ হাতে নির্মিত মূর্তিপূজায় নিয়োজিত ছিল। তারা বলতে লাগল, হে মূসা! আমাদের উপাসনার জন্যও তাদের মূর্তির মতোই একটি মূর্তি নির্মাণ করে দিন। তিনি বললেন, তোমরা বড়ই অজ্ঞ সম্প্রদায়।’ (সুরা আরাফ ৭/১৩৮)
অন্যত্র আল্লাহ বলেন, ‘স্মরণ কর লূতের কথা, তিনি তাঁর জাতিকে বলেছিলেন, তোমরা কেন অশ্লীল কাজ করছ, অথচ এর পরিণতির কথা তোমরা অবগত আছ? তোমরা কি কামতৃপ্তির জন্য নারীদের ছেড়ে পুরুষে উপগত হবে? তোমরা তো এক অজ্ঞ সম্প্রদায়।’ (সুরা নামল ২৭/৫৪-৫৫)
মহান আল্লাহ তাঁর নবীকে বলেন, ‘বলে দাও, হে মূর্খরা! তোমরা কি আমাকে আল্লাহ ছাড়া অন্যের ইবাদত করতে আদেশ করছ?’ (সুরা ঝুমার ৩৯/৬৪)
এভাবে যে আল্লাহর বিরুদ্ধাচরণ করবে এবং পাপ কাজ করবে সে মূর্খ। তার এ অজ্ঞতা ও মূর্খতাবশত কর্মকাণ্ডের জন্য অনুতপ্ত হয়ে মহান আল্লাহর দরবারে বিনীতভাবে তাওবা করতে হবে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘অবশ্যই আল্লাহ তাদের তওবা কবুল করবেন, যারা ভুলবশতঃ মন্দ কাজ করে, অতঃপর অনতিবিলম্বে তাওবা করে। এরাই হলো সেসব লোক যাদের আল্লাহ ক্ষমা করে দেন। আল্লাহ মহাজ্ঞানী, রহস্যবিদ।’ (সুরা নিসা ৪/১৭)
মহান আল্লাহ আরো বলেন, ‘অনন্তর যারা অজ্ঞতাবশত মন্দ কাজ করে, অতঃপর তাওবা করে এবং নিজেকে সংশোধন করে নেয়, আপনার পালনকর্তা এসবের পরে তাদের জন্যে অবশ্যই ক্ষমাশীল, দয়ালু।’ (সুরা নাহল ১৬/১১৯)
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সাহাবিরা ঐক্যমত পোষণ করেছেন যে যত ধরনের পাপ কাজ করা হয় তা (ইসলামী শরিয়তের সঠিক জ্ঞান থেকে) অজ্ঞ থাকার কারণেই সংঘটিত হয়। সেটি ইচ্ছাকৃত হোক অথবা অনিচ্ছাকৃত হোক। (তাফসির ইবনে কাসির ২/২৬২)