কুষ্টিয়া লোডশেডিংয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এস,এস,সি পরিক্ষার্থীরা
আজিজুল ইসলাম || বিএমএফ টেলিভিশন
কুষ্টিয়ার উপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মাঝারি তাপপ্রবাহ। আজ বৃহ স্পতিবার দিনের তাপমাত্রা ছিল ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বৈশাখের তীব্র গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে লোডশেডিং। দিনরাত সমানতালে বিদ্যুৎ বিভ্রাটে হয়ে পড়েছে জীবনযাত্রা। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৫ ঘণ্টাই থাকছে না বিদ্যুৎ।
কৃষি, শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে শুরু করে শিক্ষাক্ষেত্র সবখানেই লোডশেডিংয়ের নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। গরম যত বাড়ছে, লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি তত বাড়ছে। সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা।
এইদিকে শহরের তুলনায় গ্রামে লোডশেডিং বেশী আক্রান্ত হয়ে দাড়িয়েছে।কুষ্টিয়া জেলা জুড়ে ২৪ ঘন্টার অর্ধেক সময় থাকছে না বিদ্যুৎ। ইবি,র হরিনারায়পুর বিদ্যুৎ অফিস জানিয়েছেন যে ইবি এলাকায় প্রতিদিন ১২/১৩ মেগাওয়াট প্রয়োজন, সেখানে পাওয়া গেছে ৫/৬ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় অর্ধেক মেগাওয়াট কম পাওয়ায় লোডশেডিং বেশি হচ্ছে গ্রাম অঞ্চলে।
পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনজনিত ঘাটতির কারণে লোডশেডিং ও তীব্র গরমে জনজীবনে চরম দুর্ভোগ মেনে এসেছে। লোডশেডিংয়ের ফলে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। সারা দেশে শুরু হওয়া এসএসসি পরীক্ষার্থীদের অনেকেই অভিযোগ করেছেন, লোডশেডিংয়ে তাদের লেখাপড়া চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে সময়মতো সেচ দিতে না পারার কারণে কৃষক পড়েছেন চরম দুশ্চিন্তায়। সেচনির্ভর বোরো ধানের ফলনে এর বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এদিকে কুষ্টিয়া জেলার শিল্পাঞ্চলগুলোতেও দিনে ৫-৭ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। যার ফলে কারখানার উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে বলে অভিযোগ করছেন শিল্পোদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীরা।
গতকাল বুধবার সকাল ৬টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত দেড় থেকে দুই ঘণ্টা পরপর ৫ থেকে ৬ বার লোডশেডিং হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশে অবস্থিত ১৩৯টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মোট উৎপাদন ক্ষমতা ২৯ হাজার ২৬৯ মেগাওয়াট। তবে বছরের পুরো সময় এ সক্ষমতার অর্ধেক অলস বসে থাকে। তবে কবে নাগাদ দেশব্যাপি লোডশেডিং এর এই সমস্যার সমাধান হবে, তাও বলতে পারছেন না পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।