ভোট ডাকাতি হতে দেবে না জনগণ: তারেক রহমান

ডেস্ক রিপোর্ট। || বিএমএফ টেলিভিশন

প্রকাশিতঃ সকাল ১১:২৯, বুধবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ১৪ মাঘ ১৪৩২
ছবি: সংগৃহীত।

ছবি: সংগৃহীত।

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণ ‘ভোট ডাকাতি’ হতে দেবে না। তিনি ভোটারদের সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচার বিদায় হয়েছে, এখন সময় দেশ গড়া ও মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের। কাজেই আমাদেরকে পরিশ্রম করতে হবে, ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে ধীরে ধীরে আমাদের সেই প্রত্যাশিত বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে সক্ষম হব।’

গতকাল মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টায় ময়মনসিংহ থেকে ঢাকা ফেরার পথে গাজীপুরের ভাওয়াল রাজবাড়ী মাঠে এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ভোট কেন্দ্র পাহারার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘১২ তারিখ যার যার ভোট কেন্দ্রের সামনে গিয়ে জামাতে ফজর পড়বেন। যাতে আগে থেকে ওখানে কেউ অবস্থান নিতে না পারে। ভোট দেওয়া শেষ করেই বাড়ি ফিরে যাবেন না, ভোট কেন্দ্রের সামনে থাকতে হবে।’

তিনি জানান, বহু বছর মানুষ ভোট দিতে পারেনি, অতীতে নানাভাবে ভোট লুট হয়েছে। এবার সেই সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না।

গাজীপুরের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ২০২৪ সালের আন্দোলনে এই জেলার হাজার হাজার মানুষ ঢাকায় গিয়ে গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার ও স্বাধীনতাকে আবার রক্ষা করার ক্ষেত্রে বিরাট অবদান রেখেছে। তাদের এই অবদানকে কোনভাবেই বৃথা যেতে না দেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।

নিজের শৈশবের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের আগে ছোটবেলায় এই ভাওয়াল মাঠেই আমি দৌড়াদৌড়ি করেছি, খেলেছি। রাজবাড়ির উল্টো দিকের লাল বাংলোতে আব্বা, আম্মা, আমি আর আমার ছোট ভাই থাকতাম। কাজেই গাজীপুরের মানুষ কাছে আমারও একটি হক আছে, ওই হিসাবে আপনাদের কাছে আমার দাবি থাকলো ধানের শীষকে জয়যুক্ত করবেন।’

গাজীপুরের উন্নয়নে একগুচ্ছ পরিকল্পনা পেশ করে তারেক রহমান বলেন, জয়দেবপুর রেল ক্রসিংয়ের ওপর ফ্লাইওভার নির্মাণ, খাল খনন, শিল্প-কারখানায় ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপন, মা-বোনদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড দেওয়া হবে। তার এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থীদের জন্য ভোট চান তিনি।

এ সময় ভোটারদের কাছে গাজীপুরের পাঁচটি আসনের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন তিনি। প্রার্থীরা হলেন— মজিবুর রহমান (গাজীপুর-১), এম মনজুরুল করীম রনি (গাজীপুর-২), এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু (গাজীপুর-৩), শাহ রিয়াজুল হান্নান (গাজীপুর-৪) এবং ফজলুল হক মিলন (গাজীপুর-৫)।

মহানগর সভাপতি শওকত হোসেন সরকারের সভাপতিত্বে এম মঞ্জুরুল করিম রনি ও চৌধুরী ইশরাক আহমেদ সিদ্দিকীর সঞ্চালনায় জেলার পাঁচ প্রার্থী ছাড়াও বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী সাইয়েদুল আলম বাবুল,কেন্দ্রীয় নেতা বেনজীর আহমেদ টিটো, হুমায়ুন কবির খান, মাজহারুল আলম, ওমর ফারুক শাফিন, খন্দকার আজিজুর রহমান পেরা, মোতালেব হোসেন, হুমায়ুন কবির সরকার, আবু তাহের মুসল্লী, সরকার জাবেদ আহমেদ সুমনসহ নেতারা বক্তব্য রাখেন।

গাজীপুরের সমাবেশ শেষে রাত ১টায় রাজধানীর উত্তরার ঈদগাহ মাঠে দিনের শেষ নির্বাচনী পথসভায় বক্তব্য রাখেন তারেক রহমান। সেখানে তিনি ঢাকা-১৮ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীরের পক্ষে ভোট চান।

উত্তরাবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে আপনাদের ভূমিকা ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।’

সরকার গঠন করলে উত্তরায় গ্যাস-পানির সংকট নিরসন, জলাবদ্ধতা দূর করা, যানজট নিরসন এবং একটি সরকারি হাসপাতাল স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

সমাবেশ শেষে রাত ১টা ২০ মিনিটে তিনি গুলশানের বাসভবনের উদ্দেশ্যে রওনা হন। দিনভর নির্বাচনী এই সফরে তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী জুবাইদা রহমান।

Share This Article

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়