নির্বাচনের ৮ মাস পর মুফতি আমীর হামজা এমপির বিরুদ্ধে নির্বাচনী হলফনামায় মিথ্যা তথ্য তদন্তের দাবী !!!
মোঃ সাগর আলী বিশেষ প্রতিনিধি || বিএমএফ টেলিভিশন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনের ৮ মাস পর মুফতি আমীর হামজা এমপির বিরুদ্ধে নির্বাচনী হলফনামায় মিথ্যা তথ্য তদন্তের দাবী করেছেন একব্যক্তি। এ নিয়ে চরম আলোচনা সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচনের ৮ মাস পর এমন অভিযোগ করায় অনেকেই এটিকে চক্রান্ত, ষড়যন্ত্র ও হয়রানী বলে অভিযোগ করেছেন।
কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার দাখিল করা নির্বাচনী হলফনামা ও আয়কর রিটার্নে একাধিক অসংগতি, তথ্য গোপন এবং মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন সিরাজুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি। এসব অভিযোগের তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (০৩ নভেম্বর) নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া ওই আবেদনে আমির হামজার নির্বাচনী হলফনামা, আয়কর রিটার্ন, ব্যাংক হিসাব, স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ও নির্বাচনী ব্যয়ের বিবরণীতে বিভিন্ন অসংগতির কথা তুলে ধরেছেন। সিরাজুলের বাড়ি আব্দালপুরে।
আবেদনকারীর দাবি,নির্বাচনী হলফনামায় দেওয়া তথ্যের সঙ্গে আয়কর রিটার্ন এবং অন্যান্য প্রাপ্ত তথ্যের মধ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অমিল রয়েছে। বিশেষ করে ব্যাংক ব্যালেন্স, নগদ অর্থ, কৃষি ও বাড়ির সম্পত্তি, স্ত্রীর সম্পদ, বাড়িভাড়া থেকে আয়, মোটরযান,পারিবারিক ব্যয় এবং নির্বাচনী ব্যয়ের তথ্যে অসংগতি পাওয়া গেছে।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রার্থীর আয়কর রিটার্নে ব্যাংক ব্যালেন্স শূন্য দেখানো হলেও আবেদনকারীর দাবি অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট সময়ে ব্যাংকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ ছিল। একইভাবে নির্বাচনী হলফনামায় নগদ অর্থের পরিমাণ ও আয়কর রিটার্নে প্রদর্শিত অর্থের মধ্যে পার্থক্যের অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ছাড়া আমির হামজার স্ত্রীর আয়কর রিটার্ন প্রকাশ না করা, স্ত্রীর নামে থাকা কৃষি ও অন্যান্য সম্পদের তথ্য হলফনামায় যথাযথভাবে উল্লেখ না করা। এছাড়াও কুষ্টিয়া শহরে নিজ নামে থাকা একটি আবাসিক প্লটের তথ্য গোপনের অভিযোগও তোলেন তিনি।
আবেদনে আরও বলা হয়, প্রার্থীর ব্যবহৃত গাড়ির মূল্য, বাড়িভাড়া থেকে আয়, পারিবারিক ব্যয় এবং নির্বাচনী প্রচারণার ব্যয়ের হিসাবেও অসংগতি রয়েছে। এমনকি হলফনামায় স্বর্ণের পরিমাণ ও সম্পদের বিবরণ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন আবেদনকারী।
আবেদনের সঙ্গে আমির হামজার নির্বাচনী হলফনামার অনুলিপি, আয়কর রিটার্ন, স্ত্রীর আয়করসংক্রান্ত কাগজপত্র, নির্বাচনী ব্যয়ের বিবরণী, গাড়ির নিবন্ধন ও অন্যান্য সম্পত্তিসংক্রান্ত দলিল সংযুক্ত করা হয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সিরাজুল ইসলাম বলেন, তার নির্বাচনী হলফনামায় বেশকিছু বিষয়ে অসংগতি রয়েছে। আমি সদর আসনের একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে ইসিতে আবেদন করেছি। যাতে করে সাধারণ জনগণ তার ব্যাপারে সত্যটা জানুক।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ৮ মাস পর মুফতি আমীর হামজা এমপির বিরুদ্ধে নির্বাচনী হলফনামায় মিথ্যা তথ্য তদন্তের দাবী করায় কুষ্টিয়ার সচেতন মহল এটিকে চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র বলে আখ্যায়িত করেছেন।
এ ব্যাপার জেলা সচেতন মহল দাবী করেছেন, নির্বাচনের সময় নির্বাচন কমিশন সবকিছু যাচাই বাছাই করেই প্রার্থীর বৈধতা ঘোষনা করেন। বিপুল ভেটে তিনি জয়লাভ করেন। ৮ মাস পর এখন নিয়ে প্রশ্ন তোলা চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র ছাড়া কিছুই। একজন সম্মানিত সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে এ ধরনের অপ-প্রচার তার মানহানি ও সম্মানহানীও বটে। এ ব্যাপারে সম্মানিত সংসদ সদস্যও আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারে।
এ বিষয়টি নিয়ে সর্বমহলে আলোচনা সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।