ওয়াসার কাজে দৃশ্যমান অগ্রগতি চান প্রতিমন্ত্রী, ব্যর্থ কর্মকর্তাদের অপসারণের হুঁশিয়ারি

শেখ মোহাম্মদ পারভেজ,ঢাকা || বিএমএফ টেলিভিশন

প্রকাশিতঃ সন্ধ্যা ০৭:০৮, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩
ছবি: সংগৃহীত।

ছবি: সংগৃহীত।

আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকা ওয়াসার চলমান প্রকল্পগুলোতে দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। এ সময়ের মধ্যে প্রত্যাশিত অগ্রগতি না হলে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া এবং ব্যর্থ কর্মকর্তাদের সরিয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ঢাকা ওয়াসা ভবনের সম্মেলনকক্ষে সংস্থাটির সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত পর্যালোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রকল্প অনুমোদনের পর বাস্তবায়নে বছরের পর বছর সময়ক্ষেপণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। চলমান প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করতে হবে এবং জনসেবার মান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

তিনি দাসেরকান্দি স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট থেকে গুলশান, বনানী ও বারিধারা এলাকায় পাইপলাইন সংযোগ প্রকল্প দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে পূর্বাচল এলাকায় পানি সরবরাহ নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে দ্রুত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রণয়নের তাগিদ দেন।

সভায় ওয়াসা বোর্ডের কার্যক্রম নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, মন্ত্রণালয়ের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে ওয়াসা বোর্ডের অপ্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ ও বাধার কারণে কার্যক্রমের গতি কমে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে আইন সংশোধন করে দেশের সব ওয়াসা থেকে বোর্ড তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

ঢাকা মহানগরীর পানি সরবরাহ পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে নগরীতে প্রতিদিন পানির চাহিদা ও সরবরাহ উভয়ই ৩১৪ কোটি লিটার। জনসংখ্যা ও আবাসন বৃদ্ধির সঙ্গে পানির চাহিদাও বাড়ছে। অথচ গত সাত মাসে ওয়াসার কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য নতুন উদ্যোগ বা প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রত্যাশিত গতি দেখা যায়নি। পানির সংকট তৈরি হলে এর দায় সরকারকেই নিতে হয়। তাই নগরবাসীর পানি সরবরাহের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

তিনি জানান, বর্তমানে ঢাকা ওয়াসার সরবরাহ করা পানির ৭৪ শতাংশ ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে এবং ২৬ শতাংশ ভূ-উপরিস্থ উৎস থেকে আসে। ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে তা ২০ থেকে ২৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে উপরিভাগের পানিনির্ভর প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেন তিনি।

ওয়াসার আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সেবার মান বজায় রেখে নিজস্ব রাজস্ব আয় বাড়াতে হবে, যাতে বিদেশি ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব অর্থায়নে জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যায়। পাশাপাশি মিটার রিডিং ও বিলিং কার্যক্রমে অটোমেশন জোরদার করার নির্দেশ দেন তিনি।

২০৫০ সালের সম্ভাব্য পানির চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে ঢাকা ওয়াসার আধুনিকায়নে পূর্ণাঙ্গ জনবল কাঠামো বা অর্গানোগ্রাম তৈরি করে অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়ারও নির্দেশনা দেন প্রতিমন্ত্রী।

শহরের অবৈধ ও চোরাই পানির সংযোগ চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, এসব কর্মকাণ্ডে প্রভাবশালী ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দুর্বৃত্তরা জড়িত থাকলেও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে হবে। কোনো সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠানে দলীয় বা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষের সেবা ব্যাহত করা যাবে না। এ বিষয়ে সিবিএ ও কর্মচারী সংগঠনগুলোকেও সতর্ক করেন তিনি।

পানির অপচয় রোধে নাগরিক সচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী। ব্রাশ করা বা শেভ করার সময় অপ্রয়োজনে পানির কল খোলা না রাখা এবং পানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার বিষয়ে প্রচার চালানোর নির্দেশ দেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, আগামী দুই মাস পর তিনি আবারও ঢাকা ওয়াসার কার্যক্রম পর্যালোচনা করবেন। এর মধ্যে দৃশ্যমান ও আমূল পরিবর্তন দেখতে চান তিনি, যাতে নগরবাসীর পানি সরবরাহ নিয়ে স্বস্তি নিশ্চিত করা যায়।

ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মুহা. মনিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রকৌশলী সমিতি, ডিপ্লোমা অ্যাসোসিয়েশন, সিবিএ নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

Share This Article

আরো পড়ুন  

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়