নাইজেরিয়ায় ১০ জনকে গুলি করে হত্যা, ব্যাপক লুটপাট
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। || বিএমএফ টেলিভিশন
নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় তারাবা রাজ্যের একটি প্রত্যন্ত গ্রামে হামলা চালিয়ে অন্তত ১০ জনকে হত্যা করেছে অজ্ঞাত বন্দুকধারীরা। এ সময় তারা দোকানপাট লুটপাট ও বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তবে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা অন্তত ২০ জন নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছেন। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, নিহতের সংখ্যা ৫০ পর্যন্ত হতে পারে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার দুপুরে মুসল্লিদের জুমার নামাজের পরপরই তারাবা রাজ্যের কারিম লামিডো এলাকার বিনারি গ্রামে মোটরসাইকেলে চড়ে হামলা চালায় বন্দুকধারীরা। প্রায় চার ঘণ্টা ধরে তারা তাণ্ডব চালায়।
পুলিশ জানিয়েছে, হামলায় হতাহতদের খুঁজতে আশপাশের ঝোপঝাড় ও বনাঞ্চলে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। তবে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ায় কর্তৃপক্ষের সমালোচনা করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।
নাইজেরিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হামলা অব্যাহত রয়েছে। দেশটির উত্তর-পশ্চিম, উত্তর-পূর্ব ও মধ্যাঞ্চলে এসব হামলার ঘটনা ঘটছে। পাশাপাশি উত্তর-পূর্বাঞ্চলে প্রায় দুই দশক ধরে জঙ্গি তৎপরতা মোকাবিলা করছে দেশটি। নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সমালোচনা চলছে।
সর্বশেষ হামলার পর পুলিশ জানায়, জরুরি সহায়তার ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তারা গুলিবিদ্ধ ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে।
পুলিশ পৌঁছানোর আগেই হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে শনিবারও ওই এলাকায় টহল অব্যাহত ছিল বলে বিবিসিকে জানিয়েছে পুলিশ।
সহকারী পুলিশ সুপার ভিক্টর শেলিজাহ বলেন, ‘আমরা অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের ছত্রভঙ্গ করতে সক্ষম হয়েছি। তবে তাদের বা আমাদের পক্ষে কেউ হতাহত হয়নি। এলাকাটির ভূপ্রকৃতি দুর্গম এবং হামলাকারীরা এ অঞ্চলের ভূপ্রকৃতির সঙ্গে পরিচিত।’
তিনি আরও বলেন, আশপাশের বনাঞ্চলে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। সেখানে কেউ নিহত বা আহত হয়ে পড়ে আছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
বার্তা সংস্থা এএফপিকে স্থানীয় সম্প্রদায়ের নেতা মালাম আবুবকর সাইফুল্লাহ জানান, প্রায় ৫০টি মোটরসাইকেলে করে হামলাকারীরা গ্রামে আসে। প্রতিটি মোটরসাইকেলে দুজন করে ছিল।
তিনি বলেন, ‘তারা দোকানপাট লুট করে নগদ টাকা, খাদ্যসামগ্রী ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে গেছে। হামলা থেকে বাঁচতে লোকজন পালিয়ে যাওয়ার সময় ফেলে যাওয়া মোটরসাইকেলও তারা নিয়ে গেছে।’
হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরা এএফপিকে জানিয়েছেন, তারা অন্তত ২০ জনের মরদেহ গুনেছেন।
বিনারি গ্রামের বাসিন্দা ইসিয়াকু মুসা বলেন, ‘হামলা থেকে বাঁচতে মানুষ বিভিন্ন দিকে দৌড়াচ্ছিল। কোথায় গেলে নিরাপদ থাকা যাবে, তা কেউ জানত না।’
আরেক বাসিন্দা সাইদু নুহু জানান, হামলার পরও কয়েকজনের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের নাইজেরিয়া শাখার পরিচালক ইসা সানুসি জানান, নিহতদের কয়েকটি পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছে সংস্থাটি। পরিবারগুলোর দাবি, হামলায় ৫০ জন পর্যন্ত নিহত হয়েছেন।
সানুসি বলেন, ‘প্রাথমিক জানাজায় ৩৭ জনের মরদেহ ছিল।’ সূত্র: বিবিসি