১৭ সদস্যের কাঠামোয় ফিরছে গ্রাম সরকার, খসড়া আইন প্রস্তুত

শেখ মোহাম্মদ পারভেজ, ঢাকা || বিএমএফ টেলিভিশন

প্রকাশিতঃ দুপুর ০২:২৯, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
ছবি: বিএমএফ টেলিভিশন।

ছবি: বিএমএফ টেলিভিশন।

দীর্ঘ ৪৪ বছর পর গ্রাম সরকার ব্যবস্থা পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি সরকার। এ লক্ষ্যে ‘গ্রাম সরকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়া তৈরি করেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার নির্বাচন শেষে নতুন এ ব্যবস্থা কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

খসড়া আইনে প্রতিটি গ্রামে ১৭ সদস্যের গ্রাম সরকার গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রতিটি গ্রাম সরকারের মেয়াদ হবে পাঁচ বছর। দেশের ৪ হাজার ৫০০-এর বেশি ইউনিয়নের ৪১ হাজার ওয়ার্ডে এ ব্যবস্থা চালু হলে প্রায় সাত লাখ মানুষ এতে নেতৃত্বের দায়িত্বে যুক্ত হতে পারেন।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে গ্রামীণ উন্নয়ন, স্থানীয় সমস্যা সমাধান ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার লক্ষ্য নিয়ে গ্রাম সরকার ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল। নতুন করে এ ব্যবস্থা কার্যকর হলে স্থানীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন ও সরকারি সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে জনগণের অংশগ্রহণ বাড়বে বলে মনে করছেন বিএনপির নেতারা।

দলীয় নেতাদের মতে, গ্রাম সরকার স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা, সামাজিক বিরোধ মীমাংসা এবং বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে ভূমিকা রাখতে পারে। নারী ও শিশু নির্যাতন, মাদক, সন্ত্রাস, চুরি ও জুয়ার মতো অপরাধ মোকাবিলায় স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা ও উদ্যোগ বাড়ানোর সুযোগও তৈরি হবে বলে তারা মনে করছেন।

গ্রাম সরকারের সদস্য হিসেবে স্থানীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য মুরব্বি, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, কৃষক, শ্রমিক ও জনপ্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট নেতারা। পাশাপাশি বিগত ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামে হামলা ও মামলার শিকার হওয়া বিএনপির নেতাকর্মীদের মূল্যায়নের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।

বিএনপি নেতারা মনে করেন, এ ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর সমস্যা চিহ্নিত করা, স্থানীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ এবং সামাজিক বিরোধ নিষ্পত্তিতে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে। তবে গ্রাম সরকারের দায়িত্ব ও ক্ষমতা কতটুকু হবে, তা আইনের চূড়ান্ত রূপের ওপর নির্ভর করবে।

দলীয় নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্বাচনি ইশতেহারে গ্রাম সরকার ব্যবস্থা পুনরায় চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সরকার গঠনের পর সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আইনটির খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে।

তবে গ্রাম সরকারের সদস্য নির্বাচন, গঠনপ্রক্রিয়া, দায়িত্ব ও কার্যপরিধি কীভাবে নির্ধারিত হবে, তা এখনো চূড়ান্ত নয়। খসড়া আইন চূড়ান্ত হওয়া এবং পরবর্তী সরকারি সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এসব বিষয় নির্ধারিত হবে।

Share This Article

আরো পড়ুন  

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়