আওয়ামী লীগ দলে ভিড়বে না—স্থায়ী কমিটির নির্দেশনা ভঙ্গের অভিযোগে বিতর্কে বিএনপি নেতা কাজী আলাউদ্দিন
নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা: || বিএমএফ টেলিভিশন
বিএনপির স্থায়ী কমিটির ঘোষিত নীতিমালায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দলে না ভেড়ানোর নির্দেশনা থাকলেও সাতক্ষীরা-৩ (আশাশুনি-কালীগঞ্জ) আসনের বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা কাজী আলাউদ্দিনের বিরুদ্ধে সেই নির্দেশনা উপেক্ষা করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগকে কেন্দ্র করে আশাশুনি ও কালীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, কাজী আলাউদ্দিন একসময় জাতীয় পার্টির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতাকর্মীকে বিএনপির কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত করার অভিযোগ তুলছেন স্থানীয় বিএনপির একাংশ।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতাকে নিয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে তোলা ছবি, বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ এবং ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচার করা হচ্ছে। এর ফলে সাধারণ নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে বলে তারা দাবি করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিএনপি নেতা বলেন, সাতক্ষীরা দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। অথচ আওয়ামী লীগের নেতাদের বিএনপিতে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা চলছে। বিভিন্ন কর্মসূচিতেও তাদের সামনের সারিতে দেখা গেছে। এতে ১৭ বছর ধরে মামলা-হামলা, নির্যাতন ও কারাবরণ করা ত্যাগী নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। আমরা বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।
স্থানীয় নেতাদের আরও অভিযোগ, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা-৩ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী থাকাকালে কাজী আলাউদ্দিনের বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ত করা হয়েছিল। এ নিয়ে দলের অভ্যন্তরে প্রতিবাদ সৃষ্টি হলে প্রায় ৪৭০ জন ত্যাগী নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া বা বহিষ্কারের ঘটনা ঘটে বলে তারা দাবি করেন।
অভিযোগকারীদের দাবি, এসব ঘটনার প্রভাব নির্বাচনের ফলাফলেও পড়ে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হওয়া সত্ত্বেও কাজী আলাউদ্দিন প্রায় ৫৪ হাজার ভোট পান, যা দেশের ৩০০টি আসনের মধ্যে অন্যতম সর্বনিম্ন ফলাফলের একটি ছিল। তবে এ দাবির স্বপক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য তথ্য এই প্রতিবেদকের হাতে পাওয়া যায়নি।
উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা বলেন, শুধু বিএনপির নেতাদের সঙ্গে ছবি তোলা বা ভিডিও প্রচার করলেই কেউ বিএনপির নেতা হয়ে যান না। দলের আদর্শ, ত্যাগ ও সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার বাইরে কাউকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করলে তা দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করবে এবং তৃণমূলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করবে।
তারা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিএনপির হাইকমান্ডের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে কাজী আলাউদ্দিনসহ অভিযোগে উল্লিখিত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।