স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রধান করে সংবিধান সংশোধন কমিটি
ডেস্ক রিপোর্ট। || বিএমএফ টেলিভিশন
জুলাই জাতীয় সনদ ও উচ্চ আদালতের আলোকে সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। ১৭ সদস্যের এই কমিটির সভাপতি করা হয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে। তবে বিরোধী দলের জন্য নির্ধারিত পাঁচটি সদস্য পদ শূন্য রাখা হয়েছে। এদিকে ‘জনরায়কে উপেক্ষা করে’ এই বিশেষ কমিটি গঠনের অভিযোগ এনে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন বিরোধী দল। এ সময় নির্বাচনের পর সংসদ সদস্যদের দুটি শপথ নিয়ে বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যের কড়া জবাব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। গতকাল ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব করেন চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি। কমিটিতে রয়েছেন সালাউদ্দিন আহমেদ সভাপতি, সদস্য মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম, মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, জয়নাল আবেদিন, মোহাম্মদ জুনায়েদ আবদুুর রহিম সাকি, হাবিবুর রহমান, মোহাম্মদ নুরুল হক, মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, ফারজানা শারমিন, সাকিলা ফারজানা, মোহাম্মদ মাহমুদুল হক রুবেল ও মোহাম্মদ অলিউল্লাহ। প্রস্তাবিত কমিটি উত্থাপনের পর সংসদে ফ্লোর নেন বিরোধীদলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, বিরোধী দল কখনোই এ কমিটির জন্য কোনো সদস্যের নাম দেবে বলে জানায়নি। কারণ বিরোধীদলীয় সদস্যরা কনসেপচুয়ালি বা নীতিগতভাবে এ প্রস্তাবকে একসেপ্ট বা গ্রহণ করেনি। তারা জনগণের কাছে এবং জাতির কাছে ওয়াদাবদ্ধ, যেমনটি বর্তমান সরকারি দলও নির্বাচনের আগে ওয়াদাবদ্ধ ছিল।
ডা. শফিকুর রহমান জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচনের পূর্বে সব দলই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলার আহ্বান জানিয়েছিল এবং প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে ‘হ্যাঁ’ ভোট বিজয়ী হলে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা হবে। এরই পরিপ্র্রেক্ষিতে তারা দুটি শপথ নিয়েছেন, একটি সংসদ সদস্য হিসেবে এবং অন্যটি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে। বিরোধী দল মনে করে তাদের দুটি শপথই বহাল ও কার্যকর আছে। সুতরাং, সেই সংস্কার পরিষদকে বাইপাস বা এড়িয়ে যাওয়ার জন্য যদি এ সংসদীয় কমিটি গঠন করা হয়, তবে আমরা এ প্রস্তাব সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করছি। বক্তব্য শেষ করেই তিনি বিরোধী দলের সদস্যদের নিয়ে সংসদ কক্ষ ত্যাগ করেন। বিরোধী দলের ওয়াকআউটের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পিকারের অনুমতি নিয়ে এর কড়া জবাব দেন। তিনি বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা যে পয়েন্টে ওয়াকআউট করছেন তা তাদের বিবেচনায় সঠিক হতে পারে, তবে গণ অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশের মানুষের মূল প্রত্যাশা হলো পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল করা। এই লেজিসলেচারে যদি পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল করা না হয়, তবে হাই কোর্ট বা সুপ্রিম কোর্ট রায় দিলেও দেশকে ওই বিতর্কিত সংশোধনীর ওপর ভিত্তি করেই চলতে হবে। সুতরাং, সংবিধান সংশোধনী কমিটি গঠন করা এবং সংবিধান সংশোধন করা ছাড়া এই জাতিকে নতুন প্রত্যাশা অনুযায়ী এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।
একদলীয় শাসনের আশঙ্কা নাকচ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর : সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যদের কার্যপরিধি নিয়ে বিরোধী দলের উত্থাপিত প্রশ্নের জবাবে দেশে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার কোনো চেষ্টা নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যদের নির্দিষ্ট কোনো নির্বাচনি এলাকা নেই। সংবিধান অনুযায়ী তাঁদের কার্যপরিধি পুরো বাংলাদেশ। গতকাল সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে বিরোধী দলের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বিষয়টি উত্থাপন করলে তার জবাবে এ কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে আখতার হোসেন অভিযোগ করেন, সরকারি দলের এক সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য বক্তব্যে দুটি সংসদীয় আসনকে তাঁর ‘অতিরিক্ত দায়িত্ব’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। পরে ওই এলাকায় প্রচার চালানো হচ্ছে যে নির্বাচিত সংসদ সদস্য নন, বরং সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যই সেখানে সব কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। এ বিষয়ে সরকারের এক প্রতিমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর বক্তব্যে অসামঞ্জস্য রয়েছে। শুধু বিরোধী দলের বিজয়ী আসনগুলোতেই কেন এ ধরনের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে দেশে ভিন্ন ধরনের একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে কি? এ বিষয়ে সরকারের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দাবি করেন তিনি। জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি পয়েন্ট অব অর্ডারের মধ্যে না পড়লেও বিভ্রান্তি দূর করতে ব্যাখ্যা দেওয়া প্রয়োজন।
সংবিধানের ৬৫ অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ ৩০০টি সাধারণ আসনের সদস্য এবং অতিরিক্ত ৫০ জন সংরক্ষিত নারী সদস্য নিয়ে গঠিত। সাধারণ আসনের সদস্যদের জন্য সীমানা নির্ধারণ আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট নির্বাচনি এলাকা থাকলেও সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যদের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য নয়। সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যদের কার্যপরিধি সমগ্র বাংলাদেশ। তাঁরা কোনো নির্দিষ্ট এলাকার প্রতিনিধি নন। তাই কোনো সদস্য যদি নিজেকে একটি নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ হিসেবে উপস্থাপন করেন, সেটি সঠিক হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আইন ও বিধি অনুযায়ী সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যরা বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে যে বরাদ্দ পান, তা দেশের যেকোনো এলাকায় উপ-বরাদ্দ দিতে পারেন। বাংলাদেশের যেকোনো স্থানে তাঁরা সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। নির্দিষ্ট কোনো নির্বাচনি এলাকা বা অতিরিক্ত দায়িত্বের যে ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে, তার সাংবিধানিক ভিত্তি নেই বলেও মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।