কুষ্টিয়ার খোকসায় জোড়া হ'ত্যা"কাণ্ড, চার দিনের নৃ"শংস হা"মলায় নি"হত দুই, আ'হত ১ আটক ২
মোঃ সাগর আলী বিশেষ প্রতিনিধি || বিএমএফ টেলিভিশন
কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার ওসমানপুর ইউনিয়নের দেবীনগর ব্রিক ফিল্ড এলাকায় চার দিনের বিরোধের জেরে সংঘটিত নৃশংস হামলায় দুই ব্যক্তি নিহত এবং একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশ ইতোমধ্যে দুইজনকে আটক করেছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ জুলাই ২০২৬ সন্ধ্যায় দেবীনগর এলাকার বাসিন্দা মোঃ ছালিম হোসেন এবং খানপুর গ্রামের মোঃ হাসান শেখের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের দাবি, মাদক বিক্রয়ে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে এ বিরোধের সূত্রপাত হয়। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এরপর ১৭ জুলাই সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে কুমারখালী উপজেলার এনায়েতপুর বাজার থেকে ভ্যানে করে বাড়ি ফেরার পথে হিজলাবট মাঠ এলাকায় হাসান শেখের পথরোধ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, কয়েকজন ব্যক্তি তাকে ভ্যান থেকে নামিয়ে হাতুড়ি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।
এই ঘটনার জের ধরে ১৮ জুলাই দিবাগত রাত আনুমানিক ১ টার দিকে দেবীনগর ব্রিক ফিল্ড এলাকায় নতুন করে সহিংসতার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, সামিরুল ইসলামের নেতৃত্বে ৮০ থেকে ১০০ জনের একটি দল ছালিম হোসেনের বাড়িতে হামলা চালায়।
হামলার খবর টের পেয়ে ছালিম হোসেন বাড়ি থেকে পালিয়ে যান। তবে বাড়িতে অবস্থানরত মোঃ ফারুক হোসেন, মোঃ আব্দুল শেখ এবং মোঃ মুল্লুক মণ্ডল হামলাকারীদের কবলে পড়েন। অভিযোগ রয়েছে, ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালানো হয়। ঘটনাস্থলেই ফারুক হোসেন ও আব্দুল শেখ মারা যান। গুরুতর আহত মুল্লুক মণ্ডলকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
খবর পেয়ে খোকসা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, পূর্বের বিরোধ, হামলার প্রকৃত কারণ এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কারা সরাসরি জড়িত এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে.....